আলুর বিক্রিত মূল্যে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম এবারও আবাদে কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের প্রত্যাশা

আপডেট: নভেম্বর ১১, ২০২১, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

মাহাবুল ইসলাম :


বর্তমান উর্ধ্বমুখী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে আলুর দাম। রাজশাহীতে চাষীদের প্রত্যাশার সঙ্গে বাড়তি মজুদের মানসিকতায় বাজারে আলুর দাম নিয়ে তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। পরিবেশ ঘোলা করে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও এবার চোখে পড়েনি। তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। মজুদ বেশি আর সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামও কম। এতে অনেক চাষী উৎপাদন খরচও তুলতে পারেন নি। একারণে আসন্ন মৌসুমে আলুর আবাদ নিয়ে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন বেশি হবে বলেই মনে করছে কৃষি বিভাগ।

আলু ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবছর আলু বিক্রি করে এখন পর্যন্ত হাতেগোনা কিছু ব্যবসায়ী লাভের মুখ দেখেছেন। বাকিরা এখন পর্যন্ত লোকসানের মধ্যে রয়েছেন। আর যে সময় প্রতিকেজি আলু ৯-১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে; সে সময় আলু বিক্রি করে কোল্ড স্টোরেজের খরচও তোলা সম্ভব হয় নি।

ব্যবসায়ীরা আরও বলছেন, রাজশাহীতে অধিকাংশ আলুচাষী অন্যের জমি লিজ নিয়ে আবাদ করেন। যেখানে প্রতিকেজিতে আলুর উৎপাদন খরচ ১২ থেকে ১৫ টাকা। এরপর ক্লোল্ড স্টোরেজ খরচ প্রতিকেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা। এতে দেখা যাচ্ছে আলু বিক্রির আগ পর্যন্ত প্রতিকেজি আলুর উৎপাদন খরচ ১৭ থেকে ২১ টাকা। অথচ রোববার (৭ নভেম্বর) পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে আলু বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ১৭ টাকা। প্রতিকেজিতে এখনও ২ থেকে ৩ টাকা লোকসান হচেছ। তবে দাম কম থাকলেও আলুর উৎপাদন তেমন কমবে না বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরাও।

রাজশাহীর পবা উপজেলার আলুচাষী শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি এবছর ৭০ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছিলেন। যেখানে আড়াই হাজার বস্তার মতো আলু কোল্ড স্টোরেজে ছিলো। এরমধ্যে কিছু বিক্রি করেছেন। আর কিছু আছে। এবার আলু বিক্রি করে তার অনেক লোকসান হয়েছে। তবে এবারও তিনি গত বছরের মতোই আলুর আবাদ করবেন। কেননা অন্য আবাদ করার মতো সুযোগটা কম। আর সামনে বছর দাম যে এমন থাকবে এমনও তো না।

রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশানের সভাপতি আবু বাক্কার জানান, বর্তমান বাজারে আলু ২২-২৪ টাকা কেজি বিক্রি হলেও পাইকারি দাম এতো না। পাইকারিতে এখন ১৭-১৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদন খরচ বিক্রি মূল্যের চেয়ে বেশি। একারণে চাষীরা লোকসানের মধ্যে পড়েছেন।

তিনি আরও জানান, এক-দেড় মাসের মধ্যে আলু লাগানো প্রায় শেষ হয়ে যাবে। এখনও আলুর প্রায় ৪০ শতাংশ মজুদ আছে। এর প্রায় ২০ শতাংশ বীজের আলু। আর আগামী ফেব্রয়ারি-মার্চে তো আলু উঠতে শুরু করবে। সুতরাং এবছর আলুর দাম আর তেমন বাড়বেও না। তবে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহীতে গত বছর প্রায় ৩৬ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছিলো। যেখানে প্রতি হেক্টরে ২৬ দশমিক ৬ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছিলো। অর্থাৎ মোট ৯ লক্ষ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন আলু রাজশাহীতে উৎপাদন হয়েছিলো। এবারের আলুর আবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে এটিকেই ধরা হয়েছে। আর রাজশাহীতে ৩৬ টি আলু সংরক্ষণাগার রয়েছে। যেখানে ধারণ ক্ষমতা ৫ লক্ষ মেট্রিক টন।

এবিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কেজেএম আব্দুল আউয়াল জানান, রাজশাহীতে এবারও আলু উৎপাদনে যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা পূরণ হবে। কারণ এবার আলুর দাম মাঝে কিছুটা কম ছিলো। সে সময় হয়তো কিছু চাষী লোকসান গুনেছেন। তবে এখন দাম আগের চেয়ে বেশি। আর বাজারে উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য আছে।