আলু উত্তোলনের শুরুতেই || তানোরে গরুর হাল ও শ্রমিক সঙ্কটে আলু চাষিরা

আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৭, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


রাজশাহীর তানোরে চলতি রবিশস্যের মৌসুমে আলু উত্তোলনের শুরুতেই শ্রমিক ও গরুর হাল (লাঙ্গল) সষ্কট  দেখা দিয়েছে। এতে করে কৃষি শ্রমিক ও গরুর হাল(নাঙ্গল)পেতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে চাষিদের। অতিরিক্ত টাকা দিয়েও মিলছে না হাল ও কৃষি শ্রমিক। ফলে বিপাকে পড়েছেন গোটা উপজেলার আলু চাষিরা।
গতকাল বৃহস্প্রতিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শ্রমিক ও হাল সঙ্কটের কারণে চাষিরা জমি থেকে আলু উত্তোলন করতে পারছে না। ফলে তারা নিজ উপজেলার বাইরে হতে শ্রমিক আনার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। অনেকে আবার উচ্চমূল্য দিয়ে অন্যের প্রজেক্টের লাগাতার শ্রমিককে কেড়ে নিচ্ছেন। এ নিয়েও শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে চলছে দর কষাকসি। যে বেশি টাকা দিচ্ছে তার দিকে শ্রমিকরা ঝুকে পড়ছে। আবার অনেকের মধ্যে এসব নিয়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে ।
অনেক চাষিরা অভিযোগ করে বলেন, সার, বীজ ও কীটনাশক কেনার সময় বেশি টাকা গুণতে হয়। আবার আলু উত্তোলনের খরচ হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। অথচ আলু বিক্রির সময় তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয় বলে জানান।
এ নিয়ে চিমনা গ্রামের আলু চাষি নূরুল মাস্টার জানান, শ্রমিক সষ্কটের কারণে জমির আলু পাকাপুক্ত বয়স হয়ে গেলেও তুলতে পারছি না। আবার কখনো শ্রমিক পাওয়া গেলেও গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত মজুরি। এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন, উপজেলা অতিরিক্ত আলু চাষাবাদ হওয়ায় এ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যার কারণে আমাদেরকে শ্রমিক প্রতি গুণতে হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫শ টাকা প্রর্যন্ত।
উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামের আলু চাষি ইনতাজ আলী জানান, এবার উত্তোলনের প্রথম দিকে আলুর দাম ভালো ছিল। বর্তমানে প্রতি বস্তা (১শ কেজি) আলু বিক্রি হচ্ছে ৯২০ টাকা দরে। কেউ কেউ আবার এর চেয়েও অনেক কম দামে বিক্রি করছেন। দাম কমে যাওয়ায় খরচের টাকা তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে শ্রমিক না পাওয়ায় বেশি টাকা খরচ করে আলু তুলতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বাজারে আলু বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি দেয়া কষ্টকর হচ্ছে।
কৃষ্ণপুর গ্রামের আলুচাষি আবদুর রাজ্জাক জানান, চলতি মৌসুমে আমি ১শ বিঘা জমিতে আলু চাষাবাদ করেছি। গত কয়েক বছর ধরেই একই পরিমাণ জমিতে আলু রোপণ করে আসছি। কিন্তু এ বছরের মতো উত্তোলন খরচ কোনো বছরই লাগে নি। এবার গরুর হাল বাবদ মালিককে ৮শ টাকা দিতে হচ্ছে। যা গত বছরের চেয়ে তিনশ টাকা বেশি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এবার উপজেলায় ১৩ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদ হয়েছে। কিছু চাষিরা রাইজেকট্রোনিয়া ও স্ক্যাবরোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও উপজেলার অন্য জায়গায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ