আলোকিত মানুষের বাঁশের সাঁকো

আপডেট: জুলাই ১৭, ২০২০, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

মোস্তফা কামাল, মোহনপুর


মোহনপুরের কেশরহাট পৌর এলাকায় একজন আলোকিত মানুষের প্রচেষ্ঠায় নির্মিত হয়েছে প্রায় ১৪০ মিটার দীর্ঘ বাাঁশের সাঁকো। দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের দ্রƒত পথচলা বাধাগ্রস্ত ছিল। নদী পার হওয়ার মতো ছিল না কোনো ব্যবস্থা। এজন্য সমাজের বিত্তবানদের নজর না পড়লেও সকলের দুর্ভোগ প্রতিরোধের চেষ্টায় সফল হয়েছেন স্কুল শিক্ষক মোস্তফা মাস্টার। স্বউদ্যোগে নওগাঁ থেকে গোপইল গ্রামে সংযোগ পথে শিব নদীর ওপর দীর্ঘ লম্বা একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন তিনি।

 

বাঁশের তৈরি এ সাঁকোটিই নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন। এখানে ব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন কাজে আসেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি চিন্তা করে বাঁেশের সাাঁকোটি তৈরি করেন নওগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা আহম্মেদ। চিন্তাশীল স্কুল শিক্ষক মোস্তফা দুটি গ্রামের স্কুল শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা করতে গ্রামবাসীর সহয়োগিতায় বাঁশের এ সাঁকোটি নির্মাণ করেন। উৎসাহী মানুষদের স্বেচ্ছাশ্রমে দ্রƒত নির্মিত সেতুটিই এখন দুই গ্রামবাসীর যাতায়াতে একমাত্র ভরসা।

কেশরহাট পৌর এলাকার নওগাঁ, ধামিন নওগাঁ, মালিদহসহ গোপইল সুবিধাভুগি একাধিক মানুষ জানায়, প্রধান শিক্ষক মোস্তফা আহম্মেদ জীবিকার তাগিদে প্রথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করলেও তিনি মূলত একজন সমাজসেবক। তিনি বিদ্যালয়ে যোগদানের পর শিক্ষকদের প্রতি সদভাব ও সম্মান প্রদর্শনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহীর সুপরিচিত কেশরহাট প্রগতি সংঘের প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়েই প্রধান শিক্ষক মোস্তফা সমাজসেবায় অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি ধামিন নওগাঁ আইডিয়াল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, নওগাঁ দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, ধামিন নওগাঁ ডাকঘরে প্রতিষ্ঠাতা, একাধিক মসজিদে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা, ধামিন নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎসাহী সদস্য, কেশরহাট উ”” বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দিয়ে আলোকিত হয়ে উঠেন। চলমান করোনাকালে তিনি নিজে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করে ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করে স্থানীয় অভাবগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করেন।

প্রধান শিক্ষক মোস্তফা আহম্মেদ বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। মানুষের সেবা করা আমার মনের তৃপ্তি। আমি মরে যাবো কিন্তু স্মৃতিগুলো রয়ে যাবে বহুকাল। মানুষ স্মরণ করবে যুগ যুগ ধরে। আর মাত্র ৫ বছরের মধ্যেই আমাকে অবসরে যেতে হবে। অবসর জীবনে মানবসেবায় সম্পৃক্ত থাকতে মেয়র পদে পৌরসভা নির্বাচন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ