আলোচিত শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় দুই শিক্ষককেই বদলির সুপারিশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২, ১১:১৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


রাজশাহীর পবা উপজেলার হাড়ুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে এক সহকারী শিক্ষককে কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর অভিযোগের তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষককেই বদলির সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে জমা দিয়েছে রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

গত ২৪ আগস্ট হাড়ুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে তার স্কুলের এক সহকারী শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ ওঠে। স্কুলের জমিদাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আজিজের সামনে হেনস্তার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপরই ভুক্তভোগী শিক্ষিকার কান ধরে ওঠবস করার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ পেয়ে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে দুই শিক্ষককে বদলির সুপারিশ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইদুল ইসলাম।

তিনি জানান, সহকারী ওই শিক্ষককে কান ধরে ওঠবস করানোর সত্যতা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষিকার ছবি দিয়ে টিকটক বানানোর বিষয়টিও কয়েকজন শিক্ষক দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে কেউই আলামত সংরক্ষণ করেন নি। তাই দু’টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে দু’জনকেই অন্যত্র বদলির সুপারিশ করা হয়েছে। এখন বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন।

এদিকে, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষিকা আমার সঙ্গে অন্যায় করেছেন। বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও এখনো কিছুই হয় নি। প্রধান শিক্ষিকা এখনো বিভিন্নভাবে আমাকেসহ আরও কয়েকজন শিক্ষিকাকে চাপের মুখে রেখেছেন। অভিভাবকদের সামনে বিভিন্নভাবে অপমান করছেন। আমি মানসিকভাবে আর মেনে নিতে পারছি না।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক নাজমা ফেরদৌসী বলেন, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা না। আমি। আমি জীবনে কখনো ফেসবুকে ছবি দেয় না। কিন্তু আমার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সাংবাদিকরাও ছবি দিয়ে নিউজ করেছে। এটা নিয়ে আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে কিছু বলতে চান নি তিনি।

উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট হাড়ুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা ফেরদৌসী ও তার স্বামীর নেতৃত্বে ওই সহকারী শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। গত ২৪ আগস্ট এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা।