আলোর পথে ওরা || ৪০ মাদকব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণ

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



ওদের জীবনে ছিলো অমানিশার ঘোর অন্ধকার। একসময় ওরা ছিলো মাদকের ছোবলে। বিক্রি করতো মাদক, সেবনও। কিন্তু ওরা এখন আলোর পথে। চোখেমুখে দৃপ্ত প্রত্যয় নিয়ে ওরা এখন আলোর পথে থাকার শপথ নিয়েছেন। গতকাল সোমবার এ শপথ নেন রাজশাহীর চর মাঝাড়দিয়াড়ের ৪০ জন মাদকব্যবসায়ী ও একজন মানব কঙ্কাল চোরাকারবারী। তারা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে এ শপথ নেন।
চর মাঝাড়দিয়াড় এলাকায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন চর মাঝাড়দিয়াড় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি। এ সময় রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে তিনি তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। ওই অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণকারীরা পুলিশের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরও করেন। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। আত্মসমর্পণকারীরা কথা দেন, কখনোই তারা আর অন্ধকারের পথে পা বাড়াবেন না। পুলিশের পক্ষ থেকেও তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানা না থাকায় এসময় কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি।
রাজশাহী শহরের ওপারেই ভারতীয় সীমান্ত লাগোয়া এলাকা চর মাঝাড়দিয়াড়। পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের দুর্গম একটি গ্রাম এটি। কৃষি কাজ ছাড়া এই চরের মানুষের আয়ের তেমন উৎস নেই। ফলে সীমান্তে অনেকেই জড়িয়ে পড়েন নানা অবৈধ কারবারে। আবার অনেক সাধারণ মানুষও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানির শিকার হন। এ অবস্থায় চরের ৪০ মাদকব্যবসায়ী ও একজন চোরাকারবারি পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আরএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যারা মাদকের কুফল সম্পর্কে অনুধাবন করতে পেরে আত্মসমর্পণ করলেন, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। তারা সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়ান, এই কামনা করি। চোরাকারবার কোনো ভালো কাজ নয়। আশা করি, আর যারা চোরাচালানে জড়িত আছেন, তারাও অবৈধ কারবার ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।’
তিনি বলেন, ‘আজ যারা মাদক ব্যবসা ছাড়লেন, তাদের আয়ের উৎস হারিয়ে গেল। এখন তারা যদি চান, পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কেউ যদি রিকশা-ভ্যান চালাতে চান, পুলিশের পক্ষ থেকে কিনে দেয়া হবে। ছোট-খাটো চাকরি চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করে তার ব্যবস্থা করা হবে। তবে কারও নামে মামলা থাকলে সেগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আরএমপির উপকমিশনার (সদর) তানভীর হায়দার চৌধুরী, উপকমিশনার (পশ্চিম) একেএম নাহিদুল ইসলাম, আরএমপির মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম, পবা উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল হক তোতা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান) বজলে রেজবি আল হাসান মুঞ্জিল।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে চর মাঝাড়দিয়াড় পশ্চিমপাড়া এলাকার আবদুল মজিদের ছেলে মাসুম আলী (৩৫) বলেন, ‘আমি ভুল করে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছিলাম। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। চোরাচালান করলে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যায় না। তাই পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণ করলাম। অন্য কেউ যেন চোরাচালানে না জড়ান, সে জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি। অন্ধকারের জীবন ভালো জীবন নয়।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ