আলোর পথে ফিরলো ১০৫ মাদক ব্যবসায়ী

আপডেট: মার্চ ২৩, ২০১৭, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


আত্মসমর্পনকারি মাদক ব্যবসায়ীকে সেলাই মেশিন প্রদান করেন আরএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম- সোনার দেশ

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘মাদক ব্যাবসায়ী ও মাদকসেবিদেরকে আমরা আগে গ্রেফতার করতাম, আদালতে চালান দিতাম। আদালত তাদেরকে জেলখানায় পাঠিয়ে দিত। সাজা শেষে বাইরে এসে আবারও তারা একই কাজ করত। তারা ভালো হতো না। তাই আমরা বিকল্প পদ্ধতি বের করি তাদেরকে পুনর্বাসন করার। যাতে করে তারা ভালো হতে পারে।’
গতকাল বুধবার বিকেলে নগরীর শাহ্মখদুম থানা প্রাঙ্গনে শাহ্মখদুম থানার উদ্যোগে আয়েজিত মাদক ব্যবসা পরিত্যাগকারীদের পুনর্বাসন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (পূর্ব বিভাগ) আমির জাফর। স্বাগত বক্তব্য দেন, শাহ্মখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিবেবে বক্তব্য দেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযিম, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডস্ট্রির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি, রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ ওমর ফারুক, আওয়ামী লীগ নেত্রী নার্গিস সেলী, মাদক দ্রব্য অধিদফতর রাজশাহী ডিডি লুৎফর রহমান, শাহমখদুম থানা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারন সম্পাদক মোখশেদ আলী প্রমুখ। আত্মসমর্পণকারী মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে থেকে বক্তব্য দেন, মাজেদা বেগম ও মুক্তার হোসেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় তারা পুলিশের সাধারণ কন্সটেবলকে দেখলে ভয়ে পালিয়ে যেত, অথচ আজ তারাই কমিশনারের সামনে নির্ভয়ে বসে আছে। কারণ আজ তারা অন্ধকার জগৎ থেকে আলোর পথে ফিরে এসেছে।’
মাদক ব্যবসায়ীরা সম্পদশালী হতে পারলেও তারা সমাজে কখনোই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আর তাদের সন্তানরা মানুষ হতে পারে না। কারণ সমাজে তারা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। ফলে মাদক ব্যবসায়ীদের সন্তানারাও সমাজে ঘৃণিত কাজে লিপ্ত হয়ে যায় বলে উল্লেখ করে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের সমাজকে মাদক মুক্ত রাখার দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই। তাই মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের পুর্নবাসনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে রাজশাহী মহানগরীতে একজন মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবি থাকা পর্যন্ত তা চলমান থাকবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদক পুর্নবাসন কেন্দ্রগুলো আরো আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করতে হবে। আর মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবিদেরকে সহায়তা করতে হবে যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। বক্তারা আরো বলেন, মাদক সকল অপরাধের মূল। সেইজন্য সামাজিক ও পারিবারিকভাবে এসব মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে পুলিশের সহযোগী হয়ে।
এদিকে জঙ্গির চেয়েও ক্ষতিকর মাদক ব্যবসা। জঙ্গি একটা মানুষকে নষ্ট করতে পারে কিন্তু মাদক ব্যবসা পুরো জাতিকে ধ্বংস করে বলেও মন্তব্য করেন অনুষ্ঠানের বক্তারা।
অনুষ্ঠানে মাদক ব্যবসা পরিত্যাগকারী ১০৫ জন্যকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এবং শপথ াক্য পাঠ করান নগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম। এসময় তাদের মাঝে তিনি ৬টি সেলাই মেশিন, একটি ভ্যান, ১০ জনকে নগদ ৫ হাজার টাকা প্রদান করে। এছাড়াও ৫ জনকে বিভিন্ন অটোরাইসমিলে চাকরি প্রদান করেন তিনি।
এসময় পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকতা, নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ