আশঙ্কা, উত্তেজনার ভোট আজ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২০, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ১২টায় ঢাকার দুই সিটি (উত্তর ও দক্ষিণ) নির্বাচনের প্রচার শেষ হয়েছে। আজ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে শুরু হবে ভোটগ্রহণ। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
ভোট উপলক্ষে রাজধানীতে ইতোমধ্যে (৩০ জানুয়ারি রাত ১২টা থেকে) মটরসাইকেল চলাচল বন্ধ হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ১২টায় বন্ধ হয়েছে সব ধরনের যান চলাচল। এ ছাড়াও শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা পর্যন্ত নৌ চলাচলও বন্ধ থাকবে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বেশ আশঙ্কা, উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অভিযোগ করেছে, নির্বাচনে সহিংসতার জন্য রাজধানীর বাইরে থেকে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ঢাকায় জড়ো করেছে বিএনপি। বিপরীতে বিএনপির অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র দখল ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলছেন, নির্বাচন কমিশন কারও সহায়ক না, কারও পক্ষে বা বিপক্ষে না। সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে কমিশন।
তবে নির্বাচন কমিশনও (ইসি) ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে বোঝা যাচ্ছে। এর আগে ইসি জানিয়েছিল, দুই সিটিতে ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২০টিরও কম। অথচ ভোটের কয়েক দিন আগে শুধু উত্তরেই ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ঘোষণা করা হয়েছে ৮৭৬টি।
ইসি জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ছয় জন অস্ত্রসহ পুলিশ (একজন এসআই, একজন এএসআই ও চারজন কনস্টেবল), দুইজন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার এবং ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য (চারজন নারী ও ছয়জন পুরুষ) মোতায়েন থাকবে। আর সাধারণ ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রসহ চারজন পুলিশ (এসআই/এএসআই একজন ও তিনজন কনস্টেবল), দুইজন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার, ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঢাকার এ দুই সিটি নির্বাচন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দেশবাসী ও বিদেশিরা। এ নির্বাচনে মোট ২২ প্রতিষ্ঠানের এক হাজার ১৩ দেশি পর্যবেক্ষক কাজ করবেন। তাদের মধ্যে উত্তরে ৫০৩, দক্ষিণে ৪৫৭ এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ৫৩ পর্যবেক্ষক পর্যবেক্ষণ করবেন। আর বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করবেন মোট ৭৪জন। তাদের মধ্যে ৪৬ বিদেশি এবং ২৮ বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।
ইসি সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ এবং নারী ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন। উত্তরে মোট ভোটকেন্দ্রে এক হাজার ৩১৮। মোট সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ১৮টি। এ ছাড়াও অস্থায়ী ভোটকক্ষ রয়েছে ৭৫৪টি।
আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪। এর মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১ এবং নারী ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা এক হাজার ১৫০। সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫টি। এ ছাড়াও অস্থায়ী ভোটকক্ষের সংখ্যা রয়েছে ৮৭৬টি।
ইসি সূত্র আরও জানায়, দুই সিটিতে পুলিশ ও আনসার-ভিডিপির সদস্য থাকছেন ৪১ হাজার ৯৫৬ জন। পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত ১২৯টি মোবাইল ফোর্সে থাকবেন এক হাজার ২৯০ জন, ৪৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্সে থাকবেন ৪৩০ জন, রিজার্ভ স্ট্রাইকিং ফোর্সে থাকবেন ৫২০ জন। এ ছাড়া দুই সিটিতে ৬৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন রয়েছেন। তাদের মধ্যে উত্তরে থাকবে ২৭ প্লাটুন এবং দক্ষিণে থাকবে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি। প্রতি দুইটি সাধারণ ওয়ার্ডে ১ প্লাটুন করে বিজিবি থাকবে।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ