আশরাফুল-তুষার-রাজ্জাকদের কোচ করার কথা ভাবছে বিসিবি?

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৯, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সাম্প্রতিক সময় সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল, তুষার ইমরান, আব্দুর রাজ্জাক আর মোহাম্মদ শরীফদের নিয়ে হঠাৎই হৈ চৈ। তাদের ফিটনেস এবং বিপ টেস্ট নিয়ে রাজ্যের কথাবার্তা। তাদের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর জাতীয় লিগ খেলা নিয়েই জেগেছে সংশয়। এবং সে সংশয় তৈরি হয়েছে বিসিবির জুড়ে দেয়া বিপ টেস্টকে কেন্দ্র করে।
বলার অপেক্ষা রাখেনা, এবার জাতীয় লিগের আগে বিসিবি বিপ টেস্টে একটা মাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বলে দেয়া হয়েছে অন্তত বিপ টেস্টে ১১ স্কোর করতে না পারলে জাতীয় লিগ খেলা যাবে না। আর মধ্য তিরিশে পা রাখা আশরাফুল, তুষার ইমরান, রাজ্জাক ও শরীফদের ঐ স্কোর করা কঠিন।
আশরাফুল আর তুষার ইমরান প্রাথমিক টেস্টে উত্তীর্ণ হতেও পারেননি। তবে তাদের এই বিপ টেস্টে উত্তীর্ণ হতে না পারা এবং মধ্য তিরিশে জাতীয় লিগ খেলা নিয়ে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে চলছে দ্বিমুখী চিন্তা ও কথাবার্তা।
একপক্ষর কথা- সন্দেহ নেই আশরাফুল, তুষার, রাজ্জাক আর শরীফরা দেশের ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তারা জাতীয় দলে খেলেছেন। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি নিজেদের মেধা ও প্রজ্ঞার স্বাক্ষরও রেখেছেন। তবে কঠিন সত্য হলো, এই সব সিনিয়র ও মেধাবি ক্রিকেটাররা তাদের ক্যারিয়ারের স্বর্ণ সময়কে পিছনে ফেলে এসেছেন। তাদের আর জাতীয় দলে ফেরা বিশেষ করে টেস্ট খেলার সম্ভাবনা খুব কম। তাই তাদের ক্রিকেটার তথা পারফরমার হিসেবে জাতীয় লিগ খেলার প্রয়োজনীয়তা, গুরুত্বও গেছে কমে।
সেই পক্ষর দাবি, ঐ সব ক্রিকেটারদের বরং কোচিংয়ে সম্পৃক্ত করার সময় চলে এসেছে। আশরাফুল-তুষার ব্যাটিং কোচ আর রাজ্জাক স্পিন কোচ এবং শরীফ পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করতে পারেন। বিসিবি ইচ্ছে করলেই তাদের বয়সভিত্তিক জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক বিভাগীয় কোচের দায়িত্ব দিতে পারে। তবে তার আগে তাদের কোচিংয়ের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগও করে দেয়া জরুরি। তাহলে আশরাফুল, তুষার, রাজ্জাক ও শরীফরা অনায়াসে জাতীয় লিগ খেলা বাদ দিয়ে কোচিং করাতে পারবেন।
এমন হলে তারা যে কেবল তাদের মেধা, দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও মননের স্বাক্ষর রাখতে পারবেন সেটাই নয়। তাদের জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে খেলার অভিজ্ঞতাগুলোও পরবর্তী প্রজন্মর মাঝে বন্টন করা সম্ভব হবে।
আশার কথা, সম্ভবত বিসিবিও হয়ত সে পথেই হাঁটতে যাচ্ছে। জাতীয় দল, বয়স ভিত্তিক জাতীয় দল আর হাই পারফরমেন্স ইউনিটের প্রধানদের এক যৌথ সভা শেষে আজ শনিবার ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি চেয়ারম্যান আকরাম খান যেমন বললেন, তাতে কিন্তু তাই মনে হচ্ছে।
গতকাল দুপুরে মিডিয়ার সাথে আলাপে আকরাম খান বলেন, ‘আমি, দুর্জয় (হাই পারফরমেন্স ইউনিট চেয়ারম্যান নাইমুর রহমান দুর্জয়), সুজন (বিসিবি গেম ডেভলপমেন্ট কমিটি চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন) আজ বসেছিলাম বাংলাদেশের কোচের ডেভলপমেন্ট নিয়ে। কোথায় কি কোচ লাগবে বা না লাগবে এসব নিয়ে নিজেরা অনেক কথা বলেছি। সেখানে কোচ বিভাগে কোন কোচরা থাকবে সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর এদের মান কিভাবে আরও বাড়ানো যায় সেটা নিয়েও কথা চলছে। আমাদের কি আরও কোচ লাগবে কিনা বা যারা আছে এদের মান কিভাবে বাড়ানো যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা করেছি।’
প্রসঙ্গতঃ মোহাম্মদ আশরাফুল, তুষার ইমরান, আব্দুর রাজ্জাক ও মোহাম্মদ শরীফের সমসাময়িক তিন সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার রাজিন সালেহ, তালহা জুবায়ের ও আফতাব আহমেদ এবারই প্রথম জাতীয় লিগে কোচিং করাবেন। এর মধ্যে তালহা ও আফতাব প্রিমিয়ার লিগে কোচিং করানো শুরু করে দিয়েছেন আগেই। গত লিগে তালহা শাইনপুকুর আর আফতাব লিজেন্ডস অফ রুপগঞ্জের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার সাবেক পেসার তালহা ঢাকা মেট্রোর কোচিং করাবেন। আফতাব আহমেদকে দেখা যাবে চট্টগ্রামের কোচের ভূমিকায়। রাজিন সালেহ সিলেটের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিসিবিই তাদের সে সুযোগ করে দিয়েছে। এবার কি আশরাফুল, তুষার, রাজ্জাকদের পালা? আকরাম খানের কথায় কিন্তু সেই ইঙ্গিতই মিলল।-জাগোনিউজ