আশুলিয়ায় নিহত রহমানই নব্য জেএমবির আমির: র‌্যাব

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
ঢাকার আশুলিয়ায় জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানের সময় পাঁচ তলা থেকে পড়ে নিহত আবদুর রহমানই নব্য জেএমবি শীর্ষ নেতা শায়খ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ বলে দাবি করেছে র‌্যাব।
বাহিনীর মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ শুক্রবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরে বলেন, ওই জঙ্গি নেতার প্রকৃত নাম সারোয়ার জাহান।
বেনজীর বলেন, ওই আবদুর রহমানই শায়খ আবু ইব্রাহীম আল হানিফ নামে নব্য জেএমবি গঠন করে আমিরের দায়িত্ব নেন।
এর প্রমাণ হিসেবে নব্য জেএমবি কর্মকা- শুরুর একটি ঘোষণার অনুলিপি সংবাদ সম্মেলনে দেখানো হয়।
বেনজীর বলেন, ওই ঘোষণায় আবু ইব্রাহীম আল হানিফের সঙ্গে শেখ আবু দুজুনা নামে আরেকজনের সই আছে। সেই আবু দুজুনা হলেন নারায়ণগঞ্জের অভিযানে নিহত তামিম চৌধুরী, যাকে এতোদিন নব্য জেএমবির প্রধান সমন্বয়ক বলা হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার মহাখালী ও মতিঝিল থেকে নাফিজ আহমেদ নয়ন ও হাসিবুল হাসান নামে দুইজনকে আটকের পর শুক্রবার সকালে এই সংবাদ সম্মেলনে আসেন র‌্যাব প্রধান বেনজীর।
র‌্যাব সদরদপ্তরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওই দুইজনের কাছ থেকে ২৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
“তারা দুজনেই নব্য জেএমবির সদস্য এবং আব্দুর রহমান ওরফে আবু হানিফ ওরফে ঘনিষ্ঠ সহযোগী,” বলেন তিনি।
গত ৮ অক্টোবর ঢাকার আশুলিয়ার এক বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানের সময় পাঁচতলা থেকে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়। সে সময় র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয় নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর রহমান আয়নাল, তিনিই নব্য জেএমবির প্রধান অর্থ যোগানদাতা।
ওই বাসা থেকে যে ৩০ লাখ টাকাও উদ্ধার করে র‌্যাব। নিহতের স্ত্রী মোসাম্মত শাহানাজ আক্তার রুমিকে (২৮) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয়; তাদের দুই শিশু সন্তানকে পাঠানো হয় সেইফ হোমে।
সংবাদ সম্মেলনে বেনজীর বলেন, আশুলিয়ার ওই আস্তানায় ভুয়া ন্যাশনাল আইডি, পাসপোর্ট ও চাকরির আইডি কার্ডসহ বিভিন্ন কাগজপত্র পান তারা। সব মিলিয়ে জানা যায়, ওই ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে আসছিলেন।
>> প্রকৃত নাম: সারোয়ার জাহান
>> বাড়ি : চাঁপাইনবাগঞ্জের ভোলাহাটে।
>> অন্য নাম: মোক্তার, নাজমুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, শায়খ আসিম আজওয়াদ, শায়ক আবু ইব্রাহিম আল হানিফ
>> লেখাপড়া: ১৯৯৮ সালে নাচোলের একটি কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি হন; সেখান থেকেই দাওরা পাস করে।
>> পরিবার: বিয়ে করেছে দুটি। প্রথম পক্ষে এক মেয়ে এক ছেলে; পরের পক্ষে এক ছেলে রয়েছে। বর্তমান স্ত্রী সন্তান সম্ভবা।
তথ্য: র‌্যাব
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কওমি মাদ্রাসায় ভর্তির পর থেকেই সারোয়ার জাহান জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন। ২০০৩ সালে চাঁপাইনবগঞ্জের ক্ষেতলালের এক বাড়িতে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে শতাধিক লোক জড়ো হওয়ার খবরে পুলিশ সেখানে যায়। সে সময় বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে জঙ্গিরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তিনটি অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় এবং গুলি করে গ্রেনেড ছুড়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সেদিন ঘটনাস্থল থেকে ৩৩ জনকে আটক করে, যাদের মধ্যে এই সারোয়ার জাহানও ছিলেন বলে জানান বেনজীর আহমেদ।
সেই এফআইআরের কপি সাংবাদিকদের দেখিয়ে তিনি বলেন, “সারোয়ার ওই এফআইআরে সাত নম্বর আসামি ছিল।
“আমরা জানতে পেরেছি, ২০০৩ থেকে ২০১৬- এই ১৩ বছর সে জঙ্গি জীবন যাপন করে। সর্ববেশ আবু ইব্রাহিম নামে আমির হিসেবে নব্য জেএমবি গঠন করে।”  বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ