বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

আশ্বিনের বৃষ্টির কারণে রাজশাহীতে আলু চাষ বিলম্বিত

আপডেট: December 8, 2019, 1:07 am

শরিফুল ইসলাম


আশ্বিনের বৃষ্টির কারণে এবছর রাজশাহীর মাঠে আমন ধান কাটা মাড়াই পিছিয়ে পড়ায আলুর আবাদ দেরিতে শুরু হবে বলে কৃষকেরা জানিয়েছে। তবে কিছু এলাকায় আগাম আলু চাষ শুরু হয়েছে।
গত বছর আলু তোলার সময় দাম ভাল পেলেও আলু স্টোরে রেখে ভাল দাম পাননি কৃষকেরা। তবে শেষ সময়ে কোল্ড স্টোরেজে রক্ষিত আলুতে লাভের মুখ দেখেছে চাষি ও ব্যবসায়ীরা। আলু চাষের দিকে পিছিয়ে পড়া তানোর উপজেলায় গত কয়েক বছর থেকে মাঠকে মাঠ আলু চাষ হচ্ছে। ফলে গত ২-৩ বছরে তানোর উপজেলায় নতুন ভাবে গড়ে উঠেছে ৪ টি কোল্ড স্টোরেজ।
রাজশাহীর তানোর, মোহনপুর, বাগমারা এবং পবা উপজেলায় এখন চলছে আমন ধান কাটা মাড়াই। আর ১৫ থেকে ২০দিন পর পুরোদমে শুরু হবে আলু চাষ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানা গেছে, এবারে রাজশাহী জেলায় আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৪৮ হেক্টর। গত বছর আবাদ হয়েছিল ৩৮ হাজার ৯৭১ হেক্টর জমিতে।
রাজশাহীর আলু চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মৌসুমের শুরুতে আলুর ভাল দাম থাকলেও শেষে এসে দাম না পাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীদেরকে লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে হিমাগারে মজুদ রাখা আলুতে পুরো মৌসুমেই আলুতে চাষিদের লোকসান গুনতে হয়েছে। কিন্তু শেষ সময়ে যারা হিমাগারে আলু রেখেছিলেন তারাই লাভের মুখ দেখেছেন। এ ক্ষেত্রে হিমাগার কর্তৃপক্ষের লাভই বেশী হয়েছে।
অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় চাষিরা বলছেন গত ৩/৪ বছর যাবত আলুর আবাদ ও উৎপাদন ভালো হচ্ছে। গত বছর তারা উঠতি মৌসুমে আলুর দামও পেয়েছেন ভালো। উঠতি মৌসুমে ৬ শ’ থেকে ৭ শ’ টাকা বস্তা (৫৫ কেজি) বিক্রি হয়েছে।
পবা উপজেলার আলু চাষি ও ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক বলেন, আরো কয়েক দিন লাগবে পুরো দমে আলু চাষ করতে । তিনি তানোর উপজেলার চান্দুড়িয়া এলাকায় বেশ কয়েক বছর থেকে ৩ থেকে ৪ শ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেন। এবার তিনি প্রায় ৫শ বিঘা জমিতে আলু চাষ করবেন বলে জানান।
কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আলু সাধারণত শীতপ্রধান অঞ্চলের ফসল। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলেও আলু ভালো জন্মে।
তবে অ-নিরক্ষীয় অঞ্চলের শীতকালীন মৌসুমে যেমন আমাদের দেশে আলুর চাষ করা চলে। ১৬-২১ ডিগ্রি তাপমাত্রা আলুর জন্য আদর্শ স্থানীয়। তবে গাছ বৃদ্ধির প্রথম দিকে অধিক তাপ ও শেষ দিকে অর্থাৎ কন্দ ধরা কালীন সময়ে কম তাপ থাকা বাঞ্ছনীয়। অল্প পরিমাণ বরফ পড়াও আলু সহ্য করতে পারে, তবে অধিক শীতে কন্দের বৃদ্ধি থেমে যায় ও কোষের গঠন নষ্ট হয়ে যায়।