আসন্ন ইউপি নির্বাচনে শিবগঞ্জে প্রচার- প্রচারণায় নারী প্রার্থীরা এগিয়ে

আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২১, ৫:২১ অপরাহ্ণ


শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি :


আসন্ন ২৮ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী দের প্রচার প্রচারনায় সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীরাই এগিয়ে। অন্যান্য বারের নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনে পুরুষেরাই বেশি প্রচারনা চালিয়েছিল। এবার নির্বাচনে নারী প্রার্থীরা নিজেরাই প্রচারনা চালাচ্ছেন। উপজেলার প্রত্যন্তাঞ্চল ঘুরে দেখা ও জানা গেছে, নারীদের প্রচারনায় অংশগ্রহণ। দলে দলে নারীরা সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছেন।

 

নারীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন প্রতীক ও নামের লিফলেট। মাইক বা সাউন্ডবক্সে নারীদের কণ্ঠস্বরে ছন্দ মিলিয়ে গান গেয়ে গেয়ে প্রাচারনা চালাচ্ছে।চলছে মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিক্স্রা ও অটোরি´ার শোডাউন। শোডাউনে বিভিন্ন ধরনের সহস্রাধিক যানবাহন দেখা গেছে। প্রচারকালে তারা এলাকায় কী কী সমস্য রয়েছে তা চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করে পাস করতে পারলে সে সমস্যাগুলির সমাধান করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। যদিও বিধি অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত প্রচারনার সময় নির্ধারিত রয়েছে। তারপরও প্রচারণা চলছে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। এ নির্বাচনে আরো লক্ষ্যণীয় যে সংরক্ষিত নারী আসনে কিছুটা হলেও দলীয় ইমেজ কাজ করছে।

তবে নারীদের ভোট প্রার্থনা অনেকটাই শান্তিপূর্ণ। কোনো উত্তেজনা নেই বললেই চলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গরিব প্রার্থীদের অভিযোগ টাকাওয়ালা নারী প্রার্থীরা তাদের নারী কর্মীদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে ভোট কেনাবেচা করছে। কিন্তু কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ না করায় প্রতিক্রিয়া নেই বলে অনেকেই জানান।

অন্যদিকে, সাধারণ সদস্যদের ভোট প্রার্থনায় চরম রেষারেষি লক্ষ্য করা গেছে। কাপড়, লুঙ্গি ও টাকা ছড়ানো হচ্ছে বলে কয়েকটি গোপন সূত্রে জানা গেছে। একে অপরকে পাহারাও দেয়া হচ্ছে। হচ্ছে কথা কাটাকাটি। ঘটছে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা। যা দিনদিন সহিংসতা বাড়ছে।

সরেজমিনে ঘুরে একাধিক গোপন সূত্রে জানা গেছে, বিনোদপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ, বাখরআলী, আইড়ামারি, জমিনপুর, মনাকষা ইউনিয়নের পারচোকা, রাণীনগর, মনাকষা ১নং ওয়ার্ড ও সাহাপাড়া ও পাঁকা ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে মাদক ও চোরাকারবারীরা প্রার্থী হওয়ায় একদিকে টাকা ও মাদকের ছড়াছড়ি অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে বিভিন্ন হুমকি-ধুমকির মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা থেকে কোণঠাসা করে রাখা হচ্ছে।

এমনকি তাঁরা কেন্দ্র দখলেরও হুমকি দিচ্ছি বলে নাম না প্রাকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর অনেক প্রার্থী এমন অভিযোগ করছেন। এব্যাপারে অনেক প্রার্থী সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগও করেছেন বলে জানা গেছে।
সমাজের সচেতন মহলের মন্তব্য এটি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের ও সাধারণ ভোটারদের মাধ্যমে এটি রোধ করা সম্ভব। তা হলে আগামী ২৮ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে প্রায় ৩০/৩৫ ওয়ার্ডে চরম সহিংসতা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে। গত দূর্গা পূজায় কিছু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হওয়ায় এ বারের নির্বাচনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সাথে কথা বলে জানা গেছে

তারা বড় বিপদে আছেন। কারণ অনেক ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্যরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চাপ সৃষ্টি করছে। তারা না পারছে প্রকাশ করতেন না পারছে মুখ খুলতে, নিরব থাকতে। তারা বলেন এ নির্বাচন যেন আমাদের করাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের দাবী প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনের আগে ও পরে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তামো. তাসিনুর রহমান জানান, শতভাগ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার লক্ষ্যে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জনগণ নির্বিঘেœ তাদের ভোটারাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
অন্যদিকে, শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মো. ফরিদ হোসেন জানান, জনবাদ্ধব এ সরকারের ভাবমুর্তি অক্ষুন্ন রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে সবধারনের সহিংসতা রোধের মাধ্যমে জনগণের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ