আস্থাহীনতা কেন চিন্তাহীনতার জন্ম দেয়?

আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২২, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

মতিয়ার রহমান


বাংলাদেশের মানুষের যে কোনো বিষয়ের প্রতি আস্থাাহীনতা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু কেন এই আস্থাীনতা দিন দিন বাড়ছে? আস্থাহীনতা বাড়ার পিছনে অনেক কারণ আছে। সেজন্য আমরা কেউ কি একবারও ভেবে দেখেছি আস্থাহীনতার কারণ? মানুষের কাছে কোনো রকম দিন গেলেই হলো। মানুষের ভাবনার বা চিন্তার জগৎকে মাথা থেকে তাড়াতে পারলে রাষ্ট্র অত্যন্ত আনন্দের সাথে শোষণ ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করে নিজেদের স্বর্গবাসে রূপান্তরিত করে রাখা সহজ হয়। আর এজন্য গুটিকয়েক সুবিধাভোগী পদলেহনকারী মানুষকে সুবিধা দিলেই তা সম্ভব। বাকী ৯৫% মানুষ শোষণ যন্ত্রণা ভোগ করবে। মূল হচ্ছে চিন্তাশক্তি ধ্বংস করা। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থা বাণিজ্যিককরণ ও ধর্মীয়করণ। সব হাতে কাজ না দিয়ে লুন্ঠন ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা। শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় তুলে দিয়ে শোষণ ব্যবস্থা অব্যাহত রেখে টাকা বিদেশে পাঠানো। বড় নেতার কিছু ছা-পোষা তাবেদার তৈরি করা ইত্যাদি।
মানুষের যদি চিন্তাশক্তি ধ্বংস হয়, তখন সে আর মানুষ থাকে না। মানুষ অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য মানুষ চিন্তা করে সমাজকে পাল্টাতে পারে, আর অন্যান্য প্রাণী চিন্তা করতে পারে না। ফলে অন্য প্রাণী পশু আর আমরা মানুষ। মানুষের চিন্তাশক্তিকে আরো দৃঢ়তার সাথে শক্তিশালী যুক্তিবাদী, সৃজনশীল করতে চাই। তাহলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন উপযুক্ত নেতৃত্ব, উপযুক্ত চর্চা, যুক্তিবাদী মনন-বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা অর্জন ছাড়া সম্ভব নয়। তেমনি ক্ষুরধার যুক্তির বিকাশ লাভ। তা না হলে একদলকে দাসত্ব দলদাস হয়ে অন্যান্য প্রাণীর মত পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হবে। মানুষের মত হয়ত দুই হাত, দুই পা, দুই চোখ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকবে কিন্তু মনুষ্যত্ব থাকবে না। আর থাকবে না বলেই সমাজ, পৃথিবী, রাষ্ট্র নিয়ে যারা চিন্তা করে, তাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে কর্তৃত্ববাদী শাসন, দাসত্ববাদী শাসন, স্বৈরাচারী শাসন মানুষ নামক প্রাণীকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রাখবে কর্তৃত্ববাদীরা। তাই সামনে এগিয়ে যেতে হবে, পিছনে ফেরার কোনও পথ নাই।
সমাজ কী? সভ্যতা কী? বিজ্ঞান কী? মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের ইতিহাস, এভাবে এর ইতিহাস শিশু মনে দাগ কাটাতে হবে। শিশু মনে ধর্মীয় গোঁড়ামী বা উগ্রধর্ম শিক্ষার নামে শিশুদের শিক্ষা দেওয়া উচিত হবে না। কেননা ধর্মীয় মূল্যবোধই মানুষকে লোভ, হিংসা, পরশ্রীকাতরতা, হত্যা, যৌনতা সহ অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। বেশি বলাৎকার কিংবা হত্যার প্রশ্ন করলে মৌলবাদীরা এড়িয়ে গিয়ে তাদের নিকট থেকে উত্তর আসে শয়তানে করেছে। কী সেই শয়তান? আমরা সকলে এর মূলোৎপাটন করতে রাষ্ট্রকে সেখাবে সাজাতে চাই। ক্ষমতার মোহ মানুষকে পশুতে পরিণত করে। ১ টাকার জন্য একজন মানুষকে হত্যা করতে দ্বিধা করে না। ফলে পুঁজিবাদী সা¤্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা মানুষকে পশুতে পরিণত করতে বাধ্য হয়। তবে ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রে ভিন্ন ভিন্ন ফর্মে হয়। বাংলাদেশে মাত্রাটা অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করেছে। এখানে ক্ষমতার মোহ খুবই অন্ধ। সকল মানুষের মুক্তি চাই। পৃথিবীতে সকল মানুষ সুখে থাকুক এই প্রত্যাশা করছি।
লেখক : উন্নয়ন কর্মী