আহত ঈগলের প্রতি তিন বন্ধুর ভালোবাসা

আপডেট: মার্চ ৪, ২০১৭, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি



ঈশ্বরদীর শহরতলী পাতিবিলে একটি বিশাল আকৃতির ঈগলকে অনেকক্ষণ ধরে এক স্থানে বসে থাকতে দেখে কৌতুহল হয় ইনসাম নামের এক শিশুর। সে সাহস করে কাছে এগিয়ে গিয়ে ঈগলটিকে ছুঁয়ে দিলেও ঈগলটি যখন চুপচাপ থাকে তখন তার কৌতুহল হয়।
এক পর্যায়ে নেড়েচেড়ে দেখে সে বুঝতে পারে ঈগলটির একটি পা ভাঙা। কোথাও কোনভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঈগলটি হয়ত এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে। একপর্যায়ে শিশু ইনসাম, নবম শ্রেণির ছাত্র গৌরব বিশ্বাস ও রেজান হোসেন রুবাব এই তিনজন মিলে ঈগলটিকে বাঁচাতে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে ঈগলটি উদ্ধার করে তারা। গৌরব শহরের শেরশাহ রোডের রাজিব বিশ্বাসের ছেলে এবং রুবাব একই এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে, তারা দুজনই ঈশ্বরদীর সাঁড়া মাড়োয়ারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। ইনসাম তাদের এলাকার বন্ধু।
ঈগলের ভাঙা পায়ের প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে ঈগলটি নিয়ে কোথায় রাখবে, কি করবে এসব ভাবতে ভাবতে তিন বন্ধু মিলে প্রাণিসম্পদ অফিস, উপজেলা পরিষদসহ একাধিক স্থানে ঘুরে চেষ্টা করেও ঈগলটিকে রাখার দায়িত্ব নেয়ার জন্য কারো সহযোগিতা পায় নি। অবশেষে ঠিক করে তারা নিজেরাই ঈগলটিকে বাঁচাতে দায়িত্ব নেবে। ঈগলটি এখন ঈশ্বরদীর ফতেমোহাম্মদপুর লেকোসেড এলাকায় ইনসামের এক আত্মিয়ের বাড়িতে আছে। তিন বন্ধু পালাক্রমে ঈগলটিকে তাদের বাসায় রেখে লালন করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানায় তারা।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল মাহমুদ বলেন, আমি ঈশ্বরদীর বাইরে আছি। ঈশ্বরদীতে ফিরে ঈগলটির ব্যাপারে কি করা যায়, সেটা ভেবে কার্যকর ব্যবস্থা নেব।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ