আড়ানীতে নৌকার ২ সমর্থককে আবারও কুপিয়ে জখম

আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২১, ৭:০২ অপরাহ্ণ

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :


রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর নির্বাচনে আবারও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদের দুই সমর্থককে বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহতদের রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের একজনকে আইসিইউতে নেয়া হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন, আড়ানী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান (৪৫) ও তার ভাগ্নে আরিফ হোসেন (৩০)। তাদের অভিযোগ বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র মুক্তার আলীর সমর্থককেরা তাদের ওপরে হামলা করেছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে পৌরসভার নুরনগর গ্রামের এই ঘটনা ঘটেছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে বজলুর রহমানকে। বজলুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শহীদুজ্জামানের কাছ থেকে কেন্দ্র খরচের টাকা নিয়ে আমি ও আমার ভাগ্নে আরিফ বাড়ি ফিরছিলাম। আরিফকে বাড়ি পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলাম। নুরনগর গ্রামের কদমতলা থেকে পশ্চিমে ২০০ গজ আসতেই দেখতে পায় স্থানীয় নাসির উদ্দিনের ছেলে আশিক আহম্মেদ, বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীর ছেলে রাজু আহম্মেদ, সেকেন্দার আলীর ছেলে সজল হোসেন, সুলতান আলীর ছেলে শরীফ হোসেনসহ মুখ বাঁধা আরও ৫/৬ জন। মুক্তার আলীর ছেলের হাতে চাইনিজ কুড়াল, আশিকের হাতে ডেগার। তারা এখানে কী করছে জানতে চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশিক তার বগলের নিচ দিয়ে ডেগার ঢুকিয়ে দেয়। এ সময় আমি পড়ে যায়। মুক্তার আলীর ছেলে এসে তার পায়ের ওপরে চারটি কোপ দেন। মুখ বান্ধা লোকেরা এসে উপর্যুপরি আমার পিঠের ওপরে চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকেন। আমি মারা গেছি বলে বালুর মধ্যে তাকে ফেলে চলে যায়। পরে হাসপাতালে এসে জানতে পারি আমার ভাগ্নের পেটে আশিক ডেগার চালিয়ে দিয়েছে। ভাগ্নের নাড়ি ভূড়ি সব বেরিয়ে গেছে।
বজলুর রহমান আরো বলেন, ঘটনার পরে লোক মারফত জানতে পারি বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার তাকে হত্যা করার জন্য আশিকের সঙ্গে ১০ লাখ টাকার চুক্তি করেছেন।
আরিফের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তার মামাত বোন আঁখি খাতুন বলেন, আরিফ একজন সিএনজি চালক। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার নাড়ি ভুড়ি বের হয়ে গেছে। তাকে চিকিৎসকেরা ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টা পার না হলে তিনি বাঁচবে কিনা তার নিশ্চয়তা নেই।
এ বিষয়ে বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, হামলার শিকার ও হামলাকারীরা পরস্পরের আত্মীয়। যারা আহত হয়েছেন, তারা নৌকার সমর্থক। আর যারা হামলা করেছে তারা বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক। নৌকার প্রার্থীকে ফোন করে তিনি এইটুকু জানতে পেরেছেন। এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। মৌখিকভাবে খবর পেয়ে হামলাকারীদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বাড়িতে তাদের পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, উপজেলার আড়ানী পৌর নির্বাচনে আ.লীগের নৌকার প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদ গণসংযোগ শেষে আড়ানী বাজারের তালতলায় পথসভায় করছিল। এ সময় বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র মুক্তার আলী ও তার সমর্থকরা ১৫/২০ জন অতর্কীভাবে হামলা চালায়। পরে তারা মসজিদের মাইকেল লোকজনকে ডেকে মুক্তার আলীসহ তার দল নিয়ে নৌকার প্রার্থীর দুটি অফিস ভাংচুর, ৫টি মোটরসাইকেল, শতাধিক দোকান ভাংচর করে লুটপাট করে নিয়ে যায়। দফায় দফায় গুলি ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায়। এই ঘটনায় নৌকার নির্বাচন কমিটির আহবায়ক আবদুল মতিন মতি বাদি হয়ে মুক্তার আলীকে প্রধান আসামী করে ৫০ জনে নাম উল্লেখ করে ৫০০/৬০০ জনের নামে মামলা বিস্ফোরণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় মিলন নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।