আড়ানীতে ৫ম শ্রেণি পাশের পর ভর্তি অনিশ্চয়তা

আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০২০, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর এলাকায় উচ্চ বিদ্যালয়ের অভাবে ৫ম শ্রেণি পাশের পর ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। একটি মাত্র উচ্চ বিদ্যালয় সেটাও দুই বছর আগে সরকারি হওয়ায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী একটি উচ্চ বিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য দাবি তুলেছেন।
জানা যায়, আড়ানী পৌর এলাকায় একটি মাত্র উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়টি দুই বছর আগে সরকারিকরণ হয়েছে। ফলে এ বিদ্যালয়ে ভর্র্তির আসন সরকারিভাবে ১২০টি নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফলে দুর্বল শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে মেধাতালিকায় টিকতে পারছে না। অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক পড়েছেন বেকায়দায়। এ বিদ্যালয়ের অধীনে ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষার্থী রয়েছে ৫ শতাধিক। ফলে দুর্বল শিক্ষার্থীর জন্য এলাকাবাসী একটি উচ্চ বিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য দাবি তুলেছেন।
আড়ানী পৌর এলাকার গোচর ও কুশাবাড়িয়া গ্রামের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ বিদ্যালয়ের ফলাফল সন্তোষজনক। এ দুটি বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হয়েছে। এরমধ্যে ভর্তির সুযোগ পেয়ে মাত্র ৮-১০ জন। অন্য শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তারা ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বেকায়দায় পড়েছে।
অপরদিকে আড়ানী পৌরসভার মধ্যে আড়ানী, ঝিনা-১, ঝিনা-২, ঝিনা-৩, বেড়েরবাড়ি, চকসিংগা গ্রামে আরো ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ সকল বিদ্যালয়ের দুর্বল শিক্ষার্থীদের একই অবস্থা। তাদেরও উচ্চ বিদ্যালয়ের অভাবে ৫ম শ্রেণি পাশ করার পর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে।
এদিকে খোর্দ্দ বাউসা ও রুস্তমপুর উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। আড়ানী থেকে এর দূরত্ব ৫-৬ কিলোমিটার। ফলে আড়ানী সরকারি মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে অনেকের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম।
এ বিষয়ে গোচর গ্রামের ফজলুর রহমান বলেন, আমার ছেলে ৫ম শ্রেণি পাশ করার পর আড়ানী সরকারি মনোমোহনিহী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে সুযোগ পায়নি। আমি বাধ্য হয়ে ৬ কিলোমিটার দূরের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করার পরিকল্পনা করছি। কিন্তু ছেলে এতো দূরে যেতে চাচ্ছেনা। কী করবো ভেবে পাচ্ছিনা। এলাকায় যদি একটি উচ্চ বিদ্যালয় থাকতো এ সমস্যা হতো না। এখন দেখছি ছেলের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
আড়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান শাহীদ বলেন, মেয়েরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সুযোগ না পেলেও পাশে বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে। কিন্তু ছেলেদের জন্য আলাদা কোনো স্কুল না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বাঘা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু পাঠদানের ক্ষেত্রে বিকল্প স্কুলের প্রয়োজন আছে। তবে এ বিষয়ে কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান গড়তে চাইলে সহযোগিতা থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, স্থানীয়ভাবে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাথে ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণি পর্যন্ত সংযুক্ত করা যায় কিনা, আগামী মিটিংএ শিক্ষা কমিটির কাছে উপস্থাপনা করবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ