আড়ানীর হলুদ বিদেশে রফতানির পরিকল্পনা

আপডেট: নভেম্বর ৪, ২০২১, ৯:০০ অপরাহ্ণ


আমানুল হক আমান, বাঘা:


আমের মতো রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানীর হলুদ বিদেশে রফতানি করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় পাবনায়, গাঙ্গীয়া, সোনামুখি, ডিমলা বারী-১ প্রভৃতি জাতের হলুদ চাষ হয়। গাঙ্গীয়া জাতের হলুদ ভাল ফলন হয়। এই জাতের হলুদ আকারে মোটা এবং রং অন্যান্য হলুদের তুলনায় ভাল। প্রতি বিঘা জমিতে ৪৫ থেকে ৫০ মণ উৎপাদন হয়। হলুদ চাষে জৈবসার ব্যবহারে খরচ খুব কম হয়। বিঘা প্রতি সার ও বীজসহ খরচ হয় প্রায় আট থেকে ১০ হাজার টাকা। এক বিঘা জমির কাঁচা হলুদ প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

বাগানের ছায়াযুক্ত জমিতে হলুদ চাষ ভাল হয়। এক সাথে ফল ও হলুদ দুটো পাওয়া যায়। সরকারিভাবে বীজ সংরক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হলে আগামীতে অনেক চাষী হলুদ চাষ করতে আগ্রহী হবে।

এ বিষয়ে আড়ানীর হলুদ ব্যবসায়ী একরামুল হক সনত বলেন, এ এলাকার হলুদের সুনাম দেশ ব্যাপী রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার হাটে হলুদ কিনে ঢাকা, চট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনাসহ বিভিন্ন জায়গাতে নিয়ে যায়। বর্তমানে ৪০ কেজি শুকনা হলুদ সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, উপজেলার পাশ দিয়ে বড়াল নদী বয়ে যাওয়ায় জমিতে বৃষ্টির পানি জমে থাকে না। উচু ও ছায়াযুক্ত জমিতে হলুদের ফলন ভাল হয়। উপজেলার হলুদ আমের মতো বিদেশে রপ্তানি করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

উপজেলায় সাড়ে ৬০০ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন।