‘আয় না করলে খাবো কী?’

আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০১৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের মোট জনসংখ্যার অধিকাংশই মানুষ গ্রামে বসবাস করেন। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই সাধারণত কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি। যারা অন্যের বাড়িতে খেটে জীবনযাপন করেন। এদের মধ্যে কেউ রিকশা, ভ্যান, মানুষের জমিতে আবার কেউ দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালায়। এদের নিজের কোনো জমিজমা না থাকায় আধিবর্গা বা পত্তন হিসেবে জমিজমা চাষাবাদ করে থাকেন। গ্রামের আবাদি জমিতে কাজ না থাকলে কৃষিজীবী মানুষ কাজের সন্ধানে শহরের উদ্দেশে রওনা হয়। ভোর না হতেই শহরে উদ্দেশে কাজের জন্য পৌঁছাতে হয় তাদের। মানুষের বাড়িতে সকাল থেকে কেউ রাজমিস্ত্রির সঙ্গে, কেউ রিকশা-অটোরিকশা চালিয়ে, আবার কেউ কুলিগিরির কাজ করেন। কাজের সন্ধানের জন্য ভোর থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় শ্রমজীবীদের।
এমনচিত্র প্রতিদিনই দেখা যায় নগরীর রেলগেট এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর, তালাইমারি, লক্ষ্মীপুর, কোর্ট এলাকায়। শ্রমজীবীরা সারিবদ্ধ হয়ে বসে থাকে। প্রত্যেক শ্রমিকের সঙ্গে ডালি, কোদাল, কড়াই আর চলাচলের জন্য সাইকেল সঙ্গী হয়ে থাকে। ভোর না হতেই তাদের দেখা পাওয়া যায় এসব স্থানে। এদের আগমন ঘটে রাজশাহী অঞ্চলের আশেপাশের উপজেলা নন্দনগাছি, আড়ানি, বানেশ্বর, চারঘাট, বাঘা ও কাঁকন এলাকার শ্রমজীবীদের। এসব এলাকার মানুষ বেশিরভাগ শহরের উদ্দেশ্যে কাজের সন্ধানে ছুটে আসেন। এদের মধ্যে যারা রাজমিস্ত্রির সঙ্গে লেবারের কাজ করে তারা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মতো এবং যারা রিকশা বা ভ্যান চালায় তারা ৪ থেকে ৫শ টাকা আয় করতে সক্ষম হয়।
গ্রাম-গঞ্জের খেত-খামার, মাঠে-ঘাটে কাজ না থাকার কারণে খেটে খাওয়া দরিদ্র দিনমজুররা গ্রাম ছেড়ে শহরের দিকে কাজের খোঁজে দূর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসেন। ফজরের নামাজের আগেই রওনা হতে হয় বাড়ি থেকে শহরের দিকে। কিন্তু গ্রামের চিত্র ও হাল শহরেও দেখা দেয়। শহরে তেমন কাজ না থাকায় অপেক্ষা করে বেলা গড়ালে খালি হাতে ফিরে যেতে হয় অনেককেই।
এবিষয়ে নগরীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বরে কাজের অপেক্ষায় বসে থাকা নন্দনগাছি ও বানেশ্বর এলাকার শ্রমিক জব্বার আলী এবং করিম উদ্দিন জানান, গরীবের কপালে সুখ বলে কিছু নেই। কষ্ট আর কষ্ট। জীবনজীবিকার জন্য প্রতিদিনই ভোর না হতেই বাড়ি থেকে রওনা হই শহরে। কোনদিন কাজ পাই আবার পাই না। জমিতে ধানকাটা শুরু হলে কাজের সমস্যা হয় না। এখন কাজ নেই বলে তো, পেট থেমে থাকবে না। কাজ করতে হবে, আয় না করলে খাবো কী?
এদিকে, আড়ানি ও চারঘাট এলাকার শ্রমিক শমসের আলী এবং রেজাউল করিম বলেন, আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। কষ্টে জীবনযাপন করছি। একদিন কাজ না করলে কষ্ট হয়ে পড়ে। গ্রাম অঞ্চলে কৃষি কাজ ছাড়া তো আর কিছু নেই। এখন ধান ওঠেনি। কদিন পর ধান উঠলে শহরে আসা লাগবে না। তারা বলেন, বেশিরভাগ রাজমিস্ত্রির সঙ্গে কাজ করে থাকি। আবার কেউ বালু বা ইট তোলার জন্য নিয়ে যায়। সকাল না হতেই শহরে এসে পৌছাতে হয়। কারণ সকাল ৮টার মধ্যে কাজের জন্য লোক খুঁজতে আসে অনেকে। দেরি হয়ে গেলে সেদিন আর কাজ পাওয়া যায় না।