ইংলিশরা ফেভারিট তবে…

আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০১৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগের পরিসংখ্যান এবং তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিচারে খুব স্বাভাবিকভাবেই ফেভারিটের তকমা কুক-বাটলারদের গায়েই। মুশফিকও এমনটাই মনে করেন। তবে ইংলিশরা টেস্ট সিরিজে ফেভারিট হলেও দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে কঠিন লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন মুশফিকুর রহিম, ‘ইংল্যান্ড দল গত কয়েক বছর দেশের মাটিতে এবং বাইরে যেভাবে খেলছে, ওরা টেস্ট সিরিজে পরিষ্কার ভাবেই ফেভারিট। তবে এটাই শেষ কথা নয়। ওয়ানডে সিরিজেও আমরা ফেভারিট ছিলাম, কিন্তু হেরেছি। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটে সেশন বাই সেশন কে কতটা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারে। আমাদের মূল লক্ষ্য এটাই।’
ওয়ানডে সিরিজ শেষে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের অধিনায়ক মাশরাফি বলেছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে প্রথম ইনিংস খুব গুরুত্বপূর্ণ। মুশফিকও তাই মনে করছেন, ‘প্রথম ইনিংস খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে লিড পাবে কিংবা শুরুতে প্রতিপক্ষের লাগাম টানতে পারবে তারাই পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করবে। আমরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে মুখিয়ে আছি। সত্যিই এটা আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আশা করি আমরা কঠিন লড়াই করতে পারবো।’
দলে ২০ উইকেট নেওয়ার মতো বোলার নেই। আর তাইতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পেলে সেটা হবে বোনাস। ঠিক এমনটাই মনে করছেন প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে। মুশফিক অবশ্য এতোকিছু ভাবছেন না। তার লক্ষ্য ভালো ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি কমপক্ষে পাঁচদিন টিকে থাকা, ‘ফলাফল দিনশেষে একটা হবেই। ইংল্যান্ডের সঙ্গে জিতে গেলেই আমরা বিশ্বের সেরা টেস্ট দল হয়ে যাবো না! আমাদের মূল ফোকাস থাকবে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলা। গত ২ বছরে আমরা ওয়ানডেতে অনেক ধারাবাহিক ছিলাম। তার মানে এই নয় যে, সব ম্যাচই জিতেছি। কিছু হেরেছিও। তবে গ্রাফটা উন্নতির দিকে ছিল। আমরা এটাই চাই যে টেস্টেও যেন এরকম একটা দল হয়ে উঠতে পারি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই সিরিজ থেকে আমাদের লক্ষ্য, প্রতিটি টেস্টে আগের চেয়ে উন্নতি করা। এভাবে যদি একটা ভালো অবস্থানে থাকতে পারি পাঁচটা দিন; তাহলে হয়ত জয়ের কাছাকাছি থাকতে পারবো। সেদিক থেকেও হয়ত কোচ বলেছেন জয়টা বোনাস হবে।’
টেস্ট ক্রিকেট জিততে গেলে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নিতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশ দলে এই কাজটাই করতে পারছে না। দলের প্রধান কোচ হাথুরুসিংহেতো চারদিন আগে সরাসরিই বললেন-২০ উইকেট নেওয়ার মতো বোলার তার দলে নেই।
সাকিব অবশ্য পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন ভাবে দেখছেন। তার মতে উইকেট থেকে সহায়তা পেলে বাংলাদেশের বোলারদের ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে। সাকিবের কথার সঙ্গে একমত টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকও, ‘সাকিবের সঙ্গে আমি একমত। ফ্ল্যাট উইকেটে ২০ উইকেট নেওয়া কঠিন। তবে আমরা এবার ভিন্নভাবে পরিকল্পনা করেছি। আমাদের মূল শক্তি স্পিন, উইকেট থেকে আমাদের স্পিনাররা যদি সুবিধা আদায় করে নিতে পারে; সেক্ষেত্রে ২০ উইকেট অবশ্যই নেওয়া সম্ভব।’
গত দুই বছর ধরে ওয়ানডে ক্রিকেটে ভালো করছে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে সেই ধারাটা ঠিক ওয়ানডের মতো নেই। যদিও গত বছর খেলা ৫টি টেস্টে উন্নতির ছাপ কিছুটা হলেও রয়েছে। ওয়ানডের সাফল্য টেস্ট দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে কিনা জানতে চাইলে মুশফিক বলেছেন, ‘ওয়ানডে বা টেস্ট নয়, এখানে দল কিন্তু একটাই, আর সেটা বাংলাদেশ। এটা আলাদা করে দেখার কিছু নেই। তারপরও এটা ভাবনার বিষয়, টেস্টে আমরা ওয়ানডের মতো ভালো ক্রিকেট খেলতে পারছি না। তারপরও গত ১৪-১৫ বছরের চেয়ে গত এক বছরে ভালো খেলেছি। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকে আমরা অলআউট করেছি, লিড নিয়েছি। তবে এখনও অনেক কাজ করার বাকি আছে। টেস্টে হুট করে চাইলেই পারা যায় না।’
তিনি আরও যোগ করে বলেছেন, ‘সবসময়ই বলি, আমরা যত বেশি টেস্ট খেলবো, তত বেশি উন্নতি হবে। ক্রিকেটাররা অভিজ্ঞ হবে। বুঝতে শিখবে কোন কন্ডিশনে কীভাবে বল করতে হয়, একজন ব্যাটসম্যানকে সেটআপ করে কীভাবে আউট করতে হয় বা একটা বোলারকে কীভাবে সামলে পরের সেশনে এসে রান করতে হয়। এই মুহূর্তে দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা অনেক পরিণত, আশা করি সামনে ভালো কিছুই হবে।’-খবর বাংলাট্রিবিউনের