ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর আহ্বান স্কুল খুলে দেয়া কতটুকু বান্তবসম্মত?

আপডেট: জুলাই ১৪, ২০২১, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

সবাইকে টিকা দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় না থেকে স্কুল খুলে দিয়ে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস শুরুর আহ্বান এসেছে জাতিসংঘের দুই সংস্থা ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর তরফ থেকে।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর এবং ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অড্রে অ্যাজুল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘১৩ জুলাই অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল এডুকেশন মিটিং সামনে রেখে আমরা নীতি নির্ধারক এবং সরকারগুলোর প্রতি অনুরোধ জানাই, একটি প্রজন্মকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে নিরাপদে স্কুল খুলে দেয়ার বিষয়টিকে আপনারা অগ্রাধিকার দিন।’
জাতিসংঘের দুই সংস্থা ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে এই আহবান যখন আসলো তখন বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো নিজ নিজ দেশে কোভিড-১৯ সামলাতে রীতিমত হিমসিম খাচ্ছে। এসব দেশ মহামারি মোকাবিলায় এখনো কার্যকরভাবে উদ্যোগ নিতে পারে নি। কেননা করোনার টিকার যত প্রয়োজন সেটা সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে মোটেই সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে এসব দেশ কোন্ কৌশল গ্রহণ করে স্কুল খুলে দিবে সেটা খুব বোধগম্য নয়। ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর এই আহবান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে দ্বান্দ্বিক হচ্ছে নয় কি? যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড-১৯ এর ঘনঘন রূপ বদল করে সংক্রমণের যে চরিত্র-বৈশিষ্ট্য তা থেকে বিশ্বের দেশ সমূহকে সতর্ক করে যাচ্ছে। সংস্থাটি টিকাকরণের প্রতি খুব বেশি গুরুত্বারোপ করে চলেছে। সংস্থাটি বলছে- টিকাকরণের কাজটি যথার্থ না হলে উন্নয়শীল দেশগুলোতে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। শুধু তাই নয়, বিশ্ব সংস্থার বলছে জুলাই মাসের মধ্যে অন্তত দেশের ৮০ শতাংশ লোককে টিকার আওতায় অনতে হবে। এটা বাংলাদেশ. ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশেও সম্ভব হয় নি। অফ্রিকার দরিদ্রপীড়িত দেশগুলোর অনিশ্চয়তা আরো অনেক বেশি।
ইউনিসেফ ও ইউনেস্কো বলছে, ‘স্কুল খুলে দেয়ার জন্য সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যায় না। স্কুলে প্রবেশের আগে টিকাদান বাধ্যতামূলক না করে সব স্কুলের উচিত যত দ্রুত সম্ভব ক্লাসে এসে শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে- সেই ব্যবস্থা করা।’ হ্যাঁ এটা ঠিক যে, করোনার মারাত্মক প্রকোপে শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নেয়াও হয়ত সম্ভব হবে না। কিন্তু জীবনের দাবি সর্বাগ্রে সেটাকে তো উপেক্ষা করা যায় না। যতক্ষণ পর্যন্ত না সে ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়।
বাংলাদেশে মহামারি করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ও সংক্রমণের হার ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। গত কয়েক দিনের পরিসংখ্যানের জেরেই ওয়ার্ল্ডোমিটারের তালিকার দৈনিক মৃত্যুর শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই তথ্য তো উদ্বেগ-আতঙ্ক সঞ্চারিত। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা বা নিশ্চিত হওয়াটা জরুরি। কৌশলটা কেমন হতে পারে এবং সেটি কার্যকর করার সক্ষমতা বিবেচনাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর পরিষ্কার কর্মকৌশল নিয়ে এগিয়ে আসাটা জরুরি। এক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও স্পষ্ট পদক্ষেপটা কেমন হবে সেটাও গুরত্বপূর্ণ। নতুবা বিচ্ছন্নভাবে আসা যে কোনো পরামর্শ বিভ্রান্তি সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ