ইউপি নির্বাচন : স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়জয়কার আওয়ামী লীগের জন্য সতর্ক-সংকেত

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০২১, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এই ধাপে ১ হাজার ৮টি ইউপিতে নির্বাচন হয়েছে। সন্দেহ নেই, নির্বাচন হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও সুষ্ঠু। তবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। যা ছিল অনভিপ্রেত, অনাকাক্সিক্ষত। তবুও এটা বলা যায়, ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে, ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন তার পুরান আমেজে ফিরেছে।
তৃতীয় ধাপে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতা বাদে সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এমন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ছাড়িয়ে গেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত ৯০৮টি ইউপির মধ্যে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৪৪৫টিতে এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ৪২৬টিতে জয়ী হয়েছে। অবশ্য বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত আওয়ামী লীগের ৯৯ জন প্রার্থী যুক্ত হলে চিত্রটি ভিন্ন হবে। এদিকে আওয়ামী লীগ মাদারীপুরসহ কয়েকটি এলাকার বেশ কিছু ইউপিতে দলীয় প্রার্থী না দিয়ে উন্মুক্ত রেখেছে। যেখানে নির্বাচিতরা স্বতন্ত্র হলেও প্রায় সকলে আওয়ামী লীগ ঘরাণার।
২৯ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মাঠ পর্যায়ের একীভুত ফলাফল থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এ নিয়ে তিন ধাপে ইউপির চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনে নৌকা ১২৭৮টিতে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৮৬১টিতে জয় পেয়েছে।
এবারের ইউপি নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের জনপ্রিয়তার বিষয়টি সম্পর্কেও জানতে পারছেন। একই সাথে প্রার্থী নির্বাচনের দুর্বলতাগুলোও সামনে আসছে। যা পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে করণীয় সম্পর্কে কর্মকৌশল নির্দিষ্ট করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে বড় ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ালীগের জন্য ভবিষ্যতে নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণে চলমান ইউপি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রার্থী নির্বাচনে বড় ধরনের ভুল-ত্রুটি আছে- তৃতীয় ধাপ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে সেটা পরিষ্কার হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার প্রার্থী নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট এমপি কিংবা দলীয় নেতৃত্ব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রার্থীর যোগ্যতার চেয়ে তাদের একান্তই নিজেদের লোকদের প্রার্থী নির্বাচনে ভূমিকা রেখেছেন। এটা যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের জন্য বড় অন্তরায়। দেশের যে কোনো স্থানে আওয়ামী লীগের মত একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী জামানত হারাবে এটা অবিশ্বাস্য। পিরোজপুরের সয়না রঘুনাথপুর ইউপি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ১২০ ভোট। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটা তামাশাই মনে হয়েছে।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিভিন্ন স্থানে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। তবে এক পর্যায়ে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত থেকে দলের হাইকমান্ড সরে এসেছে বলেই মনে হয়। কেননা সেটা অব্যাহত রাখলে দলের জন্য আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত হবে। ইউপি নির্বাচনের পর্যালোচনা মাধ্যমেই আগামী নির্বাচনগুলোতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। মাঠ পর্যায়ে আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তায় ঘাটতি হয়েছে তা মোটেও বলা যায় না। ঘাটতি ঐক্যের। অবশ্যই যোগ্য ও সক্ষম ব্যক্তিকেই প্রার্থী হিসেবে মনোনিত করতে হবেÑ নতুবা দলকে অনেক চড়া মূল্য দিতে হতে পারে। ইউপি নির্বাচন সেই অশনিসংকেত দিচ্ছে। অতএব সাবধান!

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ