ইউরিয়া সারে কেজিপ্রতি ৬ টাকা বৃদ্ধি অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য রুখতে সজাগ থাকতে হবে

আপডেট: আগস্ট ৫, ২০২২, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

কোন একটি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেই সম পর্যায়ের অন্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থীতিশীল করার অপচেষ্টা এখন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ক্রেতাদের বাধ্য করা হয় বেশি দামে পণ্য কিনতে। লবণ ও তেল কান্ড যার উৎকৃষ্ট উদাহরণও। সম্প্রতি আন্তজার্তিক বাজারে সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ডিলার পর্যায়ে ইউরিয়া সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কেজিপ্রতি ১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে এক কেজি ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ টাকা পুন:র্র্নিধারণ করেছে সরকার। ১ আগস্ট পুন:নির্ধারিত দাম সর্ম্পকে জানায় কৃষি মন্ত্রণালয়।
ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধির পর থেকেই অন্য সারের সরবরাহ কমের অজুহাত দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্বিগুণ দামে এমওপি (পটাশ) সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। নওগাঁর মান্দা উপজেলায় এমন ঘটনা বেশি ঘটছে বলে জানা গেছে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশে কৃষকের সুরক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে।
এবছর আষাঢ় মাস জুড়েই ছিল চৈত্রের কাঠফাটা রোদের দাপট। শ্রাবণ মাসের অর্ধেক পেরিয়ে দেখা মিলেছে বৃষ্টির। অনাবৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ক্ষতির মধ্যে বাড়তি খরচের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে কৃষক সেচের মাধ্যমে আমন ধানের চারা রোপণ শুরু করেছেন। এখন যদি অসাধু ব্যবসায়ীদের দাপট বাড়তে থাকে তবে এ অঞ্চলের কৃষি হুমকির মধ্যে পড়বে।
সোনার দেশের উপজেলা প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যে বলছে, সরকারিভাবে প্রতিবস্তা পটাশ সারের দাম নির্ধারণ রয়েছে ৭৫০ টাকা। কিন্তু খোলা বাজারে ১৩০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকায় মিলছে পটাশ। ইউরিয়ার দাম বাড়ানোর কারণে ৮০০ টাকা বস্তার সার এখন কিনতে হচ্ছে ১১০০ টাকায়। খুচরা পর্যায়ে এমন অস্বাভাবিক দাম কখনোই কাম্য নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা বাড়াতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কৃষি ও কৃষককে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। সারের মূল্য চার দফায় কমিয়ে অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে পর্যাপ্ত সার কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। বৈশি^ক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার দাম বৃদ্ধির এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এটিকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে অপব্যবহার যেন কোন সিন্ডিকেট করতে না পারে সে দিকে নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ