ইজতেমায় জুমার নামাজে দেশের বৃহত্তম জামাত

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০১৭, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দিন ইজতেমা মাঠে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে দেশের বৃহত্তম জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে জুমার জামাত শুরু হয়। ওই নামাজের ইমামতি করেন ঢাকার কাকরাইল মসজিদের মাওলানা মো. ফারুক। ইজতেমায় যোগদানকারী ছাড়াও জুমার নামাজে অংশ নিতে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশ এলাকার লাখ লাখ মুসল্লি ভোর থেকেই ইজতেমাস্থলে যেতে শুরু করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরের আগে ইজতেমা মাঠমুখী টুপি-পাঞ্জাবী পরা মানুষের ঢল নামে। হেঁটে, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠে আসতে থাকেন।
বেলা ১২টার দিকে ইজতেমা মাঠ উপচে আশপাশের খোলা জায়গাসহ সবস্থান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠে স্থান না পেয়ে অনেকে মহাসড়ক ও অলি-গলিসহ যেখানে পেরেছেন হোগলা পাটি, চটের বস্তা, খবরের কাগজ বিছিয়ে নামাজে শরিক হয়েছেন। ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
কাপাসিয়া থেকে আসা আব্দুল জলিল বলেন, “বড় জামাতে নামাজ আদায় করা অনেক ফজিলত। তাই জুমার নামাজ আদায় করার জন্য ভোরেই বাড়ি থেকে বের হয়েছি।”
ঢাকা থেকে আসা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “আমি তাবলীগ জামাতে যোগ দিতে নয়, দেশের বৃহত্তম জুমার নামাজে অংশ নিতে টঙ্গীর ইজতেমায় এসেছি। এত লোকের সাথে আমার নামাজটা বা মোনাজাতটা যদি আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়।”
ভারতের মওলানা ওবায়দুল খোরশেদের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুক্রবার ফজর নামাজের পর তিনদিনের বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়েছে। আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রোববার প্রথম পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার কথা। এর চার দিন পর আগামী শুক্রবার শুরু হওয়ার কথা ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।
এবার ৭ হাজার বিদেশি মুসল্লি , মিয়ানমার নেই
বিশ্ব ইজতেমায় এবার এখন পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার বিদেশি মুসল্লি অংশগ্রহণ করলেও মিয়ানমার থেকে কেউ আসেননি বলে আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মো. মোমিনুল ইসলাম জানান, এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত শতাধিক দেশ থেকে ছয় হাজার ৮৮৭ জন বিদেশি মুসল্লি ইজতেমায় যোগ দিয়েছেন।
এর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া, পানামা, মিসর, ওমান, সুদান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব-আমিরাত, কাতার, অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, কানাডা, কম্বোডিয়া, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, ইরান, জাপান, মাদাগাস্কার, মালি, সেনাগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, তাঞ্জানিয়া, ত্রিনিদাদ, রাশিয়া, আমেরিকা, বেলজিয়াম, ক্যামারুন, চীন, ফিজি, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, সুইডেন, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, কোরিয়া, আলজেরিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিন, কুয়েত, মরক্কো, কাতার, সোমালিয়া, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন, জর্দান, মৌরিতানিয়া, দুবাইসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের মুসল্লিগণ রয়েছেন বলে তিনি জানান।
ইজতেমার আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরুব্বী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, মুসল্লিদের এ সংখ্যা আরও বাড়বে। ইজতেমার মূল বয়ান উর্দুতে হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিদেশিদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় আলাদাভাবে তা তরজমা করা হচ্ছে।
ইজতেমা ময়দানের উত্তর পাশে বিদেশি মেহমানদের জন্য পৃথক নিবাস নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
বিশ্ব ইজতেমার বিদেশি মুসল্লিদের দায়িত্বে থাকা মুরুব্বী মো. আনিসুর রহমান জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইজতেমার মুরুব্বীদের পরামর্শ অনুযায়ী এবার রোহিঙ্গাদের বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণে অনুমতি দেয়া হচ্ছে না।- বিডিনিউজ