ইতালির ইসকিয়া দ্বীপে ভূমিধসে ৭ মৃত্যু

আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২২, ২:২২ অপরাহ্ণ

ভূমিধসে দ্বীপটির ছোট একটি শহর প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ছবি: রয়টার্স

সোনার দেশ ডেস্ক :


দ্বীপটির কাজামিচ্চোওলা টারমে শহরে কাদা, আবর্জনা ও পাথরের একটি ‘জলপ্রপাত’ আঘাত হানে বলে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় অবকাশযাপন দ্বীপ ইসকিয়ায় প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ভূমিধসে নবজাতক ও দুটি শিশুসহ অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে।
ভূমিধসে দ্বীপটির ছোট একটি শহর প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে বলে রোববার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নেপলস অঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তা ক্লাউডিও পালোম্বা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “পাঁচজন এখনও নিখোঁজ রয়েছে।”র্
উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে জরুরি বিভাগের বহু কর্মী দ্বীপটিতে জড়ো হয়েছে এবং উদ্ধাকর্মী ডুবুরিরা উপক‚লীয় এলাকার সাগরে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার প্রবল বৃষ্টির সময় দ্বীপটির সবচেয়ে উঁচু পবর্ত থেকে পানির সঙ্গে কাদা, আবর্জনা ও পাথরের স্রোত নেমে এসে কাজামিচ্চোওলা টারমে শহরের বাড়ি ও রাস্তাগুলোর ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বহু ভবন ভেঙ্গে গুড়িয়ে যায় এবং স্রোতের ধাক্কায় বেশ কয়েকটি গাড়ি সাগরে গিয়ে পড়ে, ছবি ও ওপর থেকে নেওয়া ভিডিওতে এমনটি দেখা গেছে।

ওই স্রোতটিকে ‘কাদা ও পানির জলপ্রপাত’ বলে বর্ণনা করেছেন স্থানীয় একজন বাসিন্দা, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
নেপলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের ইসকিয়া একটি ঘনবসতিপূর্ণ আগ্নেয় দ্বীপ। উষ্ণ প্রস্রবণ ও ছবির মতো সুন্দর উপক‚লের আকর্ষণে বহু পর্যটক দ্বীপটিতে ঘুরতে যায়।

কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে দ্বীপটিতে ঘন ঘন ভারি ও তীব্র বৃষ্টিপাত সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতালির বহু এলাকাই এ ধরনের জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইসকিয়াতে অবৈধভাবে তৈরি বহু বাড়ি আছে, এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের বন্যা ও ভূমিকম্পের দীর্ঘস্থায়ী ঝুঁকিতে ফেলেছে। পাহাড়ি এই দ্বীপটি প্রায়ই বন্যা ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়।

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ওইসব বেআইনি ভবনের নির্মাতাদের ক্ষমা মঞ্জুর করা হয়েছে। অনেক রাজনীতিক এই ইস্যুটি নিয়ে তখন কোনো উচ্চবাচ্যও করেননি। কিন্তু এবারের প্রাণঘাতী ভূমিধসের পর ওই ‘ক্ষমা’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

ক্যাম্পানিয়া অঞ্চলের গভর্নর ভিনচেন্সো দে লুকা রোববার রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম আরএআই-য়ে বলেছেন, “লোকজনকে অবশ্যই বুঝতে হবে ঝুঁকিতে থাকা কিছু এলাকা ও ভবনগুলোতে তারা বসবাস করতে পারবে না, সেগুলো অবশ্যই ভেঙ্গে ফেলতে হবে।”

জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন ইতালির নতুন ডানপন্থি সরকার রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এক ডিক্রি জারি করে ইসকিয়া দ্বীপের দুর্যোগে বিপদে পড়া লোকজনকে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া প্রায় ২৩০ জনও এ সহায়তা পাবেন।

এ ডিক্রিতে ২০ লাখ ইউরোর একটি প্রাথমিক সহায়তা প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের চলতি বছরের অবশিষ্ট কর স্থগিত করার কথা বিবেচনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ