‘ইতিবাচক’ নাসিরের বোধোদয়

আপডেট: আগস্ট ২১, ২০১৭, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে নাসির হোসেন। ছবি বিসিবির সৌজন্যে

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাটিয়ে দিয়েছেন ছয়টি বছর। শুরুতে আলো ছড়ালেও তেমন বিকশিত হতে পারে নি তার ক্যারিয়ার। দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে কাটিয়ে দেওয়া নাসির হোসেন অর্ধযুগ পর বুঝতে পারছেন নিজের সমস্যা! দীর্ঘ দুই বছর পর টেস্ট দলে ফেরা ‘ফিনিশার’ নামে পরিচিত অলরাউন্ডারের উপলব্ধি, ‘শুরুর ভুলগুলো না হলে আমার ক্যারিয়ার এখন অন্যরকম হতে পারতো।’
পারফরম্যান্স ভালো না হলে দল থেকে বাদ পড়াই স্বাভাবিক। নাসিরও বাজে পারফরম্যান্সের মাশুল দিয়ে বার বার ছিটকে পড়েছেন জাতীয় দল থেকে। তবে মাঠের বাইরের নানা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় কম সমালোচনার জন্ম দেন নি। তার জনপ্রিয়তা অবশ্য বিন্দুমাত্র কমে নি। অনেক দিন ধরেই তাকে জাতীয় দলে ফেরানোর দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার ভক্তরা। ঘরোয়া ক্রিকেটে নাসিরের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও তাদের দাবিকে জোরালো করেছে ক্রমাগত।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে সুযোগ পেয়ে নাসির স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত। তবে অতীতের ভুল নিয়ে আক্ষেপও আছে তার মনে। রোববার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুরুতে কিছুটা মজা করলেন ড্রেসিংরুম মাতিয়ে রাখা এই অলরাউন্ডার, ‘ওই সময় আমার গোঁফ ছিল না, এখন আছে।’ তারপরই গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, ‘তখন ব্যাটে রান ছিল না, তাই বাদ পড়েছি। বিষয়টা খুব স্বাভাবিক। একজন খারাপ খেলোয়াড় দলে থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। তবে এটাও জানতাম, পারফর্ম করলে দলে ফিরতে পারবো। বাদ পড়ার পর থেকেই ভালো খেলার চেষ্টা করেছি।’
কথাগুলো বলার পরই আফসোস ঝরে পড়লো নাসিরের কণ্ঠ থেকে, ‘আমার ক্যারিয়ারে অনেক ভুল ছিল। আমি চাইলে অনেক বড় ইনিংস খেলতে পারতাম। হয়তো অমনোযোগী ছিলাম, তাই পারিনি। এখন চেষ্টা করি যত বেশিক্ষণ সম্ভব উইকেটে থেকে ব্যাটিং করার। ইদানীং রান করার ক্ষুধা আগের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করে আমার মধ্যে।’
গত দু বছরে মন-মানসিকতায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করেন নাসির। বিশেষ করে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে নিজের ব্যাটিংয়ে উন্নতি হয়েছে বলেই তার বিশ্বাস, ‘আমি জাতীয় লিগে খেলেছি, বিসিএলে (বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ) খেলেছি। এসব প্রতিযোগিতায় আমার কিছু পরিকল্পনা ছিল। সেই পরিকল্পনা সফল হয়েছে বলেই আমি রান করতে পেরেছি। জাতীয় দলের পক্ষেও তেমন পরিকল্পনা নিয়ে খেলবো।’
যে ফরম্যাটের ক্রিকেট হোক, টাইগারদের দলে নাসিরকে নামতে হয় নিচের দিকে, লোয়ার মিডল অর্ডারে। প্রথম টেস্টে একাদশে থাকলেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি অবশ্য এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন, ‘যতটুকু বুঝতে পারছি, একাদশে থাকলে ৬ কিংবা ৭ নম্বরে খেলবো। মানে দুজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে আমি সঙ্গী হিসেবে পাবো। এসব বিষয় মাথায় রেখেই ব্যাটিং করবো। সঙ্গে ব্যাটসম্যান থাকলে চেষ্টা করবো ইনিংসটাকে বড় করার। আর টেল এন্ডাররা নামলে স্কোরবোর্ডে দ্রুত কিছু রান যোগ করার চেষ্টা করবো।’
শুধু ব্যাটিং নয়, নাসিরের অফস্পিন বোলিংও দলের বড় সম্পদ। তিনি নিজেও বল হাতে জ্বলে উঠতে আত্মবিশ্বাসী, ‘সবচেয়ে বড় কথা, আমি বোলিং উপভোগ করি। সুযোগ পেলে বল হাতে দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করবো।’-বাংলা ট্রিবিউন