ইতিহাস লেখা হলো না বাংলাদেশের

আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০১৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
হলো না। হেরেই গেছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম দিনে ৩৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১০ রান নিতেই স্বাগতিকরা হারায় শেষ দুটি উইকেট। তাতে ২২ রানের হারে শেষ হয়ে যায় স্বপ্ন। আশার আলো জ্বেলে রাখা সাব্বির রহমান টিকে থাকলেও অন্য প্রান্ত ধরে রাখতে পারেন নি তাইজুল ইসলাম ও শফিউল ইসলাম। তাদের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায় ২৬৩ রানে।
লক্ষ্যটা ছিল ২৮৬ রানের। চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ স্কোরে জমা করেছিল ২৫৩ রান। জয় থেকে তখন মাত্র ৩৩ রান দূরে। কিন্তু হাতে যে উইকেট ছিল মোটে দুটি। যেখানে তাইজুল ও শফিউল মূলত বোলার। এই দুজনকে নিয়ে সাব্বির পথটা পাড়ি দিতে পারবেন কিনা, সেটাই ছিল দেখার। পারেননি। চতুর্থ দিন শেষ করা তাইজুল শুরুটা ভালো করলেও ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা বেন স্টোকসের বলটা বুঝতে পারলেন না, এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ১৬ রান করে। বাংলাদেশের আশার প্রদীপে তাতে আঘাত করে ঝোড়ো হাওয়া। আর তা নিভে যায় এক বল পরেই। যখন ওই স্টোকসের বলেই তাইজুলের মতো শফিউলও (০) ফেরেন এলবিডাব্লিউ হয়ে। অন্য প্রান্তে নীরব দর্শক হয়েই দলের হারটা তাই দেখলেন ৬৪ রানে অপরাজিত থাকা সাব্বির।
চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন থেকে যা অবস্থা, তাতে বোঝাই যাচ্ছিল সকালে কঠিন পরীক্ষার সামনে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সকালের সেশনে কয়েকটা উইকেট হারিয়ে ফেলার দৃশ্যটা দেখা যাচ্ছিল প্রথম দিন থেকে। তাই ৩৩ রানও বাংলাদেশের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়াবে, ক্রিকেট বিশ্লেষকদের এই ছিল বিশ্লেষণ। হলো তাই। তিন বলে দুই উইকেট হারিয়ে ইতিহাস লেখা হলো না বাংলাদেশের।
হারলেও কম প্রাপ্তি যোগ হয় নি বাংলাদেশের ঝুলিতে। অর্জনের খাতায় প্রথমে যা আসবে, তা হলো ইংল্যান্ডকে দুই ইনিংসে অলআউট করা। প্রথম ইনিংসে ২৯৩ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ইংলিশদের ২৪০ রানে অলআউট করে স্বাগতিকরা। বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও আলো ছড়িয়েছিল বাংলাদেশ, প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের স্কোর ছাড়িয়ে লিড নেওয়ারও আভাস দিয়েছিল অসাধারণ ব্যাটিংয়ে। কিন্তু শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ২৪৮ রানেই থেমে গিয়েছিল টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসেও ঘটলো একই ঘটনা। এবার সাব্বির রহমান দাঁড়িয়ে গেলেও সঙ্গ দেওয়ার মতো পাননি কাউকে।
সেই মুলতান টেস্ট বাদ দিলে পাঁচ দিনের ক্রিকেটে জয়ের এতটা কাছে গিয়ে হার দেখে নি বাংলাদেশ। ‘বাংলাদেশ ওয়ানডের দল, টেস্ট খেলতে এখনো শেখেনি’-না জিতলেও এই অপবাদ থেকে নিশ্চয় এখন মুক্তি মিলবে মুশফিকদের। তাও আবার কোন দলে বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স, যারা কিনা টেস্ট ক্রিকেটে সব সময় থাকে উপরের সারিতে! এখন র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে না থাকলেও ওই জায়গাতেই তাদের দেখা যায় বেশিরভাগ সময়। সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্সে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের শুরু হলো নতুন দিগন্তের।
ইংলিশদের বিপক্ষে টেস্ট মানে বাংলাদেশের কঠিন পরীক্ষা। হারটা কত রানের বা উইকেটের হবে, সেটাই আসলে হিসাব করা হতো। তাদের বিপক্ষে জয় তো দূরে থাক, কখনো ড্র পর্যন্ত করা হয়নি বাংলাদেশের। তাদের বিপক্ষে ব্যর্থতার ইতিহাস অনেক পুরনো। পুরনো এই অর্থে কারণ শেষবার ইংলিশদের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলেছিল সেই ২০১০ সালে। মাঝের পাঁচ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক এগিয়ে গেলেও আগের পারফরম্যান্সগুলোও তো অস্বীকার করার উপায় ছিল না। পরিসংখ্যান বলছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বনিম্ন হারটা বাংলাদেশের (রানের হিসাবে) মাত্র ১৮১ রানে। উইকেটের হিসাবে সবচেয়ে কম ব্যবধানে হারটা ৭ উইকেটের। ইনিংস ব্যবধানে হার আছে বেশ কয়েকটি। সেই দলের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর মাত্র ২২ রানের হারটা অন্য দিক থেকে তাই জয়েরও। এই জয়টা টেস্ট ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর, এই জয়টা সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। ইতিহাস লেখা হয়নি, তবে আগামীর জন্য সব রসদ জমা রাখল বাংলাদেশ চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়ে।-বাংলাট্রিবিউন