ইদে ঘুরতে পেরে খুশি বিনোদনপ্রেমীরা

আপডেট: August 5, 2020, 12:09 am

নিজস্ব প্রতিবেদক


ইদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর রাজশাহীর পদ্মাপাড়। ইদের দিন থেকেই নগরীসহ পবা উপজেলার পদ্মাপাড়জুড়ে বেড়েছে বিভিন্ন বয়সী মানুষের আনাগোনা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকছে বিনোদনপ্রেমীদের ভিড়। প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর খুলেছে শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা। এতে শনিবার (১ আগস্ট) ইদুল আজহার দিন থেকে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণায় আবারও মুখর হয়ে উঠেছে বিনোদন কেন্দ্রটি। এতে খুশি বিনোদনপ্রেমীরা।
পদ্মাপাড়ে ইদের দিনসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন বিনোদনপ্রেমীদের ভিড় বেশি দেখা গেছে। বর্ষায় ভরা নদীর সঙ্গে প্রকৃতির নতুন রূপের দেখা মিলছে পদ্মাপাড়জুড়ে। মাঝে মাঝে আছড়ে পড়ছে ঢেউ। এমন অপার সৌন্দর্যের টানেই বিনোদনপ্রেমীরা যাচ্ছেন পদ্মাপাড়ে।
পদ্মাপাড়ের মুক্তমঞ্চ এলাকায় ঘুরতে আসা তরুণী রুকাইয়া মিম জানান, করোনার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে অনেকটা ঘরেই বন্দি থাকতে হচ্ছে তাকে। কলেজ বন্ধ থাকায় বন্ধুদের সঙ্গে পদ্মাপাড়ে বেড়াতে যাওয়াও আর হয়ে উঠেনি। তাই এবার ইদে পরিবারের সঙ্গে পদ্মাপাড়ে এসেছেন। পদ্মাপাড়ের এই সৌন্দর্য জমে থাকা অস্বস্তিকে দূর করেছে তার।
রাজশাহী বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক এলাকায় ঘুরতে আসা রাসেল ইসলাম জানান, তিনি পরিবারের সঙ্গে ইদ উদযাপন করতে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে এসেছেন। দীর্ঘ ২ বছর পর বন্ধুদের সঙ্গে ইদের দ্বিতীয় দিন বাইক নিয়ে ঘুরেছেন। বিভিন্ন জায়গা ঘুরে পড়ন্ত বিকেলে পদ্মাপাড়ে এসেছেন। হাইটেক পার্কের পাশেই পদ্মাপাড়। এই সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করেছে।
এদিকে, শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা খোলা থাকলেও প্রতি বছরের চেয়ে দর্শনার্থীর ভিড় কম দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি ও বাধ্যতামূলক মাস্ক নিশ্চিত করে দর্শনাথীদের প্রবেশ করতে কর্তৃপক্ষকেও সজাগ থাকতে দেখা গেছে। তবে ভেতরে প্রবেশ করে মাস্ক ব্যবহারে দর্শনাথীদের অবহেলাও লক্ষ্য করা গেছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইদের দিন প্রায় ৭০০ শিশু ও তাদের অভিভাবক চিড়িয়াখানায় এসেছেন। ইদের পর দিন এসেছে প্রায় ২ হাজার শিশু ও তাদের অভিভাবক। ইদের তৃতীয় দিনও শিশুদের আনাগোনা ছিল বেশি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই চিড়িয়াখানায় বিনোদনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মাস্ক না পরলে কাউকেই চিড়িয়াখানার ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।
ইদের দিন বিকালে পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গিয়েছিলেন নীলা আক্তার। তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতিতে গৃহবন্দি থাকতে থাকতে তিনিসহ তার সন্তানরাও বিরক্ত। আগে মাঝে মাঝে পদ্মাপাড়সহ চিড়িয়াখানায় তারা ঘুরতে আসতেন। কিন্তু চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় তাদের আর আসা হয়নি। তাই ইদের দিন বিকেলে তারা চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন।
তিনি আরো জানান, চিড়িয়াখানার পরিবেশ তার কাছে খুব ভালোলাগেছে। আগের চেয়ে চিড়িয়াখানা বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মনে হচ্ছে। তার ছেলেমেয়েরাও খুশি।
শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীর শিশু পার্ক এখনও বন্ধ। তাই তাদের এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি হচ্ছে। তবে গত বছরগুলোর চেয়ে কম। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি তারা খুব খেয়াল করছেন। প্রবেশের সময়ই সবাইকে জীবাণুনাশক টানেলের ভেতর দিয়ে আসতে হচ্ছে। আর সবাই যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন তার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।
বিনোদনপ্রেমীদের পদচারণা বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও খুশি। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, করোনার মধ্যে ইদুল ফিতরে তারা বেচাকেনা করতে পারেন নি। এতে তারা অনেক খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এই ইদে পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় তারা ব্যবসা করতে পারছেন। তবে আগের মতো জমে উঠছে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ