ইদ বাজারেও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০২৪, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

 

মাহাবুল ইসলাম:ইদ উৎসবের আর মাত্র ক’দিন বাকি। সঙ্গে পহেলা বৈশাখেরও প্রস্তুতি। শেষ মুহূর্তে জমজমাট ইদ ও পহেলা বৈশাখের পোশাকের বাজার। রাত-ভোর চলছে কেনাকাটা। কিন্তু শেষ মুর্হূর্তে এসেও স্বস্তির বার্তা নেই রাজশাহীর স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মাঝে। কেননা বিদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতার কাছে অসহায় দেশীয় পণ্য। আর এতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে রাজশাহীর স্থানীয় ক্ষুদ্র, মাঝাড়ি ও বড় উদ্যোক্তাদের কপালে।

উদ্যোক্তা বলছেন, অন্য সময়ের চেয়ে ইদ বাজারে তাদেরও কিছু প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু এবার সে প্রত্যাশায় গুড়েবালি। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার তাদের বেচাবিক্রি কমেছে। অনেকে খরচের টাকাও তুলতে পারছেন না।

উদ্যোক্তারা আরও বলছেন, দেশীয় পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমছেই। আর এবারের ইদে রাজশাহীর মার্কেটে ভারতীয় ও পাকিস্তানি পণ্যের আধিক্য সবচেয়ে বেশি। একারণে উদ্যোক্তাদের বেচাবিক্রি আরও কমেছে।

রাজশাহী ওমেন চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির তথ্যমতে, রাজশাহীর স্থানীয় পোশাক উদ্যোক্তা রয়েছেন প্রায় ৫০০ জন। এরমধ্যে বড় উদ্যোক্তা রয়েছেন প্রায় ২০ জন, মাঝারি ২০০ জন এবং বাকিরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য বলছে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সাধারণ ঋণ নিয়ে ছোট্ট পরিসরে কাজ করে থাকে। ইদ ও বৈশাখের মতো উৎসবকে সামনে রেখে তারা স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু এবার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কেনাবেচা খুবই কম।

নগরীর নুসরাত ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী উদ্যোক্তা রুপা মোস্তফা জানান, তার সিরাজগঞ্জে তাঁত আছে। তিনি মূলত থ্রি-পিস, লুঙ্গিসহ মূল চারটি দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করেন। প্রতি ইদেই তার একটা ব্যবসায় টার্গেট থাকে। এবারও ছিলো। কিন্তু এবার টার্গেট পূরণের ধারে কাছেও নাই।

আরেক উদ্যোক্তা শারমিন সুলতানা বলেন, আমি অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমেই বিক্রি করে থাকি। গত বছরও ইদে চার লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত দুই লাখ টাকা ছুঁতে পারি নি। আর বাকি দুই দিনে কি আর বেচাবিক্রি হবে! ক্রেতাই তো নাই!

নগরীর আরেক নারী উদ্যোক্তা রাহি বুটিকের সত্ত্বাধিকারী সায়মা খাতুন বলেন, অন্য বছরগুলোতে ইদে অন্তত তিন লাখ টাকার বেচাবিক্র হয়। এবার এখন পর্যন্ত দেড় লাখ টাকার বিক্রি হয়েছে। ক্রেতা তেমন নেই। আসলে ইদের বাজার পাকিস্তানি ও ভারতীয় পোশাক দখলে নিয়েছে। মানুষও ওই পণ্যই বেশি কিনছেন।

নগরীর সবচেয়ে অভিজাত থিম ওমর প্লাজায় শো-রুম নিয়ে ব্যবসা করেন উদ্যোক্তা নিলুফা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ইদ কেন্দ্রীক তার প্রায় ৭-৮ লাখ টাকার বেচাবিক্রি হয়। কিন্তু এবার এর ধারে কাছেও পৌঁছাতে পারি নি। গত বছরও মোটামুটি বিক্রি হয়েছিলো। আসলে বাজারে পাকিস্তানি পোশাকের আধিক্য বেশি। এবার খরচ বাদে লাভের মুখ দেখতে পায় নি।

উইমেন এন্টারপ্রিনিয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব), রাজশাহীর আঞ্জুমান আরা পারভীন ওরফে লিপি বলেন, মানুষ ইদ বাজারে ব্যতিক্রমি পোশাক কিনতে চাই। যার কারণে দেশীয় পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ খুবই কম থাকে। যার প্রভাব দেখা যাচ্ছে, ইদ বাজারে আমাদের স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বেচাবিক্রি তেমন হচ্ছে না। উৎসবে ব্যবসায়ের এমন চিত্রে উদ্যোক্তারা আশাহত হয়ে থাকেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ