ইদ সৌদি আরবে বুধবার II বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার!

আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০২৪, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:সৌদি আরবে ইদুল ফিতর’র তারিখ ঘোষণা করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (৮ এপ্রিল) দেশটির কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায় নি বলে বুধবার (১০ এপ্রিল) ইদুল ফিতর পালন করা হবে। বাংলাদেশেও এবার ৩০ টি রোজা পূর্ণ হচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশে পালিত হবে ইদুল ফিতর।

ইদ-উৎসব আয়োজন প্রস্তুতির ইতোমধ্যেই প্রায় সবটুকুই সম্পন্ন হয়েছে। টুকটাক যা বাকি আছে তা আজ মঙ্গলবার সম্পন্ন হবে। এক মাস সিয়াম সাধনার পর এই উৎসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। এটি মুসলমানদের উৎসব হলেও এর তাৎপর্যÑ সর্বস্তরের মানুষের মহামিলন। এই মিলন সম্প্রীতি ও শান্তির, ভ্রাতৃত্বের।

ইতোমধ্যে ইদকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। কেন্দ্রীয় ইদগাহসহ নগরীর সব ইদগাহের প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে। সংস্কার, রঙ করা, সামিয়ানা টানানো থেকে সব ধরনের কাজ চলছে।

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ইদের কেনাকাটাও। কেনাকাটা থেকে শুরু করে ইদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন সবাই। যদিও কেনাকাটার পর্ব শেষের দিকে। চলছে ইদ উদযাপনের নানা প্রস্তুতি। এখন থেকেই শিশু-কিশোরদের মধ্যে বইছে আনন্দ-ধারা। এরই আয়োজন দিকে দিকে, ছোটখাটো প্রয়োজন মেটানোর ব্যস্ততা ঘিরে। আর চলছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও মোবাইলের মেসেজে ইদের শুভেচ্ছা বিনিময়।

রমজান মাস ছিল সংযমের। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও কৃপা লাভের মধ্য দিয়ে বিগত জীবনের পাপরাশি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আশায় রোজা পালন করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। কোরআন পাঠ করেছেন, দান খয়রাত করেছেন, মগ্ন থেকেছেন বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে। মাসব্যাপি এই সিয়াম সাধনার পরিসমাপ্তি ঘটবে ইদ-আনন্দের মধ্য দিয়ে।

ইদের দিনটি ধনী-গরিব, আশরাফ-আতরাফনির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করায়। এ দিক থেকে ইদ কেবল আনন্দের বার্তাই নিয়ে আসে না, ইসলামের সাম্যের এক বড় পরিচয় উদ্ভাসিত হয় এই আনন্দঘন উৎসবের মধ্য দিয়ে।

এদিকে ইদের কেনাকাটার পর্ব ইতোমধ্যে শেষ করে ফেলেছেন প্রায় সবাই। প্রিয়জনের সঙ্গে ইদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজশাহী থেকে গ্রামের বাড়িতেও যাত্রা শুরু হয়েছে গত কয়েকদিন থেকে। আবার রাজশাহীর বাইরে থেকে স্বজনদের সাথে ইদ আনন্দ ভোগ করতে ফিরে এসেছে নাড়ির টানে।

চাঁদ রাত থেকেই ঘরে ঘরে শুরু হবে সাধ্যমতো উপাদেয় খাবার তৈরির আয়োজন। ‘সেমাইয়ের ইদ’ নামে প্রচলিত এই ইদে নানা রকম সেমাইয়ের সঙ্গে থাকবে ফিরনি, পিঠা, পায়েস, পোলাও, কোর্মাসহ সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। বিশেষ আয়োজন থেকে বাদ যাবে না হাসপাতালের রোগি, কারাগারের বন্দি বা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত কর্মীরাও। হাসপাতাল, এতিমখানা ও বন্দিদের জন্য কারাগারগুলোতে উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা থাকবে প্রথাগতভাবে। সরকারি শিশুসদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র এবং বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে কল্যাণকেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণকেন্দ্রেও থাকবে বিশেষ খাবার ও বিনোদনের সু-ব্যবস্থা।

ইদ উপলক্ষে ইতোমধ্যে দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকা প্রকাশ করেছে ইদের বিশেষ সংখ্যা ম্যাগাজিন ‘ইদ সংখ্যা ২০২৪’। স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোও প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। আর এই আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতার সমূহে রয়েছে ইদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

বাংলাদেশে মঙ্গলবার হবে ২৯ রমজান। এ দিন সন্ধ্যায় বৈঠকে বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে বুধবার পহেলা শাওয়াল তথা ইদুল ফিতর পালন করা হবে। আর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না গেলে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) ইদুল ফিতর পালন করা হবে। তবে সাধারণত বাংলাদেশে সৌদি আরবের পরদিন হিজরি মাস গণনা শুরু হয়।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনা অনুসারে, এবার রমজান মাস ৩০ দিন স্থায়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর এটা হলে সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে ঈদ উদযাপিত হতে পারে আগামী বুধবার। আর বাংলাদেশসহ অন্যান্য কয়েকটি দেশে হতে পারে বৃহস্পতিবার। তবে কোনো কারণে রোজা ২৯টা হলে একদিন আগেই হবে ঈদ।

সৌর মাসের সঙ্গে চন্দ্র মাসের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। চাঁদ দেখার ভিত্তিতে মাস শুরু হয় বলে চন্দ্র মাসের স্থায়িত্ব হয় ২৯ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে। আর এ কারণে প্রতি বছরেই ইদুল ফিতর কবে হবে তা জানতে আগের সন্ধ্যায় অপেক্ষায় থাকতে হবে।

২৯ রোজার পরই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানরা পশ্চিম দিগন্তে চোখ মেলেন। সন্ধ্যার আবছায়ায় তারা খুঁজতে থাকেন কাঁচির মতো দেখতে চাঁদকে। ২৯ রোজাতে চাঁদের দেখা না মিললে তখন নিশ্চিতভাবে ধরে নেওয়া হয় যে, ৩০ রোজা শেষে ইদ হবেই।

এবার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, আফগানিস্তান, মিশর, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে রমজানের চাঁদ দেখা যায় ১০ মার্চ, রোজা শুরু হয় ১১ মার্চ থেকে। তবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ওমান, জর্ডান ও লিবিয়া এবং মরোক্কোসহ বেশ কিছু দেশে ১১ মার্চ চাঁদ দেখার পর রোজা শুরু হয় ১২ মার্চ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version