ইন্দোনেশিয়া করোনার হটস্পট যে কারণে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কাছাকাছি?

আপডেট: জুলাই ১৮, ২০২১, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

ইন্দোনেশিয়ায় ইদুল ফিতরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপেক্ষিত হওয়ায় সেখানে করোনা সংক্রমণের গতি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির দমকল বাহিনির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি প্রবেশ করে করোনায় মৃতদের বের করে এনে সৎকার করছেন কেননা ওই মৃতরা পরিত্যক্ত হয়ে বাসায় পড়ে থাকছে। এমনই মর্মান্তিক চিত্র বিবিসির প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এশিয়া মহাদেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া হয়ে উঠেছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন আরেকটি হটস্পট। গত দেড় বছরের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। দেশটিতে এখনো পর্যন্ত ২৬ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিনই ৪০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। অতি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইন্দোনেশিয়ায় এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজার মানুষ মারা গেছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মানুষ মারা গেছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।
মে মাসের প্রথম দিকে ইন্দোনেশিয়ায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হঠাৎ করেই মারাত্মক আকার ধারণ করে। তখন ইদের ছুটিতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে যাতায়াত করেছে। দেশটিতে অক্সিজেন সঙ্কটও চরমে পৌঁছেছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে সেখানকার একটি হাসপাতালে অক্সিজেন সংকটের কারণে ৬৩ জন কোভিড রোগী মারা গেছেন। সাধারণত একটি হাসপাতালে এক সপ্তাহে তিন টন অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এখন এই পরিমাণ অক্সিজেন এক দিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার সামাজিক সংক্রমণের সাথে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলনা করলে ইদের সময়ে স্থানান্তর অনেক বেশি হয়। আসন্ন ইদুল আজহা উপেলক্ষেও বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজধানী ঢাকা ত্যাগ করছেন। এবং একই চিত্র দেখা গেছে ্দুল ফিতরের সময়। উভয় ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। অথচ বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। লক্ষ করা গেল যে, ইদুল ফিতরের পর থেকেই দেশে করোনা সংক্রমণের গতি বৃদ্ধি পেতে থাকলো। বর্তমানে যা ভয়ঙ্কররূপে দেখা যাচ্ছে। অবশ্য এটা যে ইদ উপলক্ষে গণপরিবহণে স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপেক্ষিত হওয়ার কারণে হয়েছে সেটা বলা হচ্ছে না। তবে এ বক্তব্যের বিরোধিতাও করা যায় না।
মারাত্মক উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে ইদুল ফিতরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানার ব্যাপারে জনসাধারণের খুব কম জনের মধ্যে দায়িত্ব বোধ লক্ষ্য করা যায়। এই অসচেতনতা নতুন কোনো অনিশ্চয়তার দিকে নিচ্ছে কি না তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ