ইফতারের তৃষ্ণা মেটাতে আখের রস

আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০২১, ৯:২৯ অপরাহ্ণ

স্মৃতি আক্তার:


রাজশাহীতে গরমের কারণে ইফতারে তৃষ্ণা মেটাতে আখের রসের চাহিদা বেড়েছে। ক্রমশ তাপমাত্রা বৃদিাধর সাথে সাথে আখে রসের চাহিদাও বাড়ছে। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে সময় পানীয় হিসেবে শরবতের চাহিদা প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে। সে ক্ষেত্রে আঁখের রস তৃষ্ণা মেটাতে ইফতার সামগ্রীতে স্থান করে নিচ্ছে। লেবুর শরবত, বেলের শরবত, ট্যাংকসহ অন্যান্য শরবতের পাশাপাশি আখের রস দিয়ে তৃষ্ণা মেটাতে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকেই। তবে বাইরের এই আখের শরবত কতটা স্বাস্থ্যকর? তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এরপরও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে থেমে নেই আখের রস খাওয়ার চাহিদা।
সাধারণত শহরে বিভিন্ন স্থানে সারা বছর ধরে আখের রস বিক্রি করতে দেখা গেলেও, রমজানে এর চাহিদাটা রোজাদারের কাছে একটু বেশি। তাইতো পুরো রমজান মাস জুড়ে শহরের আখের রস ক্রেতারা বোতলে করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। আখের রস শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, এটি শরীরের অনেক উপকারও রয়েছে। এই তীব্র গরমে শরীর প্রাণবন্ত করে তুলতে সাহায্য করে। আখের রসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, বিভিন্ন খনিজ যেমন-ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়ন, পটাশিয়াম , ভিটামিন এ,সি,বি কমপ্লেক্স থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে এটি শরীরের ফিটনেস বজায় রাখতেও সাহায্য করে। নিয়মিত আখের রস খাওয়া শুরু করলে শরীরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষমতা বেড়ে যায়। ফলে ছোট-বড় রোগ কম হয়ে থাকে। আঁখের রস শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে হার্টের সুস্থতায় সাহায্য করে।
সাব্বির নামের একজন ক্রেতা জানান, গরমে তৃষ্ণা মেটাতে আখের রসের জুড়ি নেই। তা ছাড়া সব কিছুতেই ভেজাল, কিন্তু আখের রসে কোনো ভেজাল নেই বলে মনে করি। তবে একটু ঠান্ডার জন্যে বিক্রেতারা রসের সাথে বরফ মেশায়, যা রোজাদারদের তৃপ্তি আরো বাড়িয়ে দেয়। রমজানে প্রায়ই বাসার জন্যে বোতলে করে আখের রস নিয়ে যাই।
আখের রস বিক্রেতা রাফি জানান, বছরের প্রায় সব মৌসুমে রস বিক্রি করি। কিন্তু রমজান মাসকে ঘিরে আমাদের ব্যবসা একটু বেশি হয়। তার মূল কারণ কয়েক বছর ধরে রমজান মাসে গরমের তীব্রতা বেশির কারণে রসের বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিগ্লাস রস ১০ টাকায় করে বিক্রি করেন।
তিনি আরও জানান, বছরের সব সময় শহরের বিভিন্ন স্থানে আখ রস বিক্রি করে থাকি। তবে নির্দিষ্ট স্থানে বিক্রি করিনা। শহরের বিভিন্ন স্থানে যায়। এবারও বিক্রি করছি কিন্তু করোনার সময় লকডাউনে ব্যবসা করতে হিমসিম খাচ্ছি। সকালের দিকে তেমন সুযোগ হয়ে উঠছে না। কিন্তু বিকেলে সুযোগ করে বিক্রি করছি।