ইরানে খামেনিবিরোধী বিক্ষোভ আরও জোরালো হচ্ছে?

আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২০, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করার স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমাগত জোরালো হচ্ছে। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আন্দোলন আরও জোরালো করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশটির জনগণ।
গত ৮ জানুয়ারি (বুধবার) জেনারেল স গোলাইমানি হত্যার বদলা নিতে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দিনেই ১৭৬ আরোহীসহ বিধ্বস্ত হয় ইউক্রেনগামী বিমান। ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ উইক তাদের অনুসন্ধানে দাবি করে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রথমে অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে তেহরান বিমান ভূপাতিত করার কথা স্বীকার করে। এরপর থেকেই সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়।
বুধবার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে বলা হয়, ‘দুর্নীতিবাজ সরকারের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে নামছি।’ রয়টার্সের প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এই আন্দোলন সহিংস রুপ নেবে। এর আগে চলমান আন্দোলনে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছিলো পুলিশের বিরুদ্ধে। সামাজিক মাধ্যমে সেই ঘটনার ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্তের একটি ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, উপর মহল থেকেই তাদের সংযত থাকতে বলা হয়েছিল বলে তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়নি।
গত চারদিন ধরে ইরানের বিভিন্ন শহরে আন্দোলন অব্যাহত হয়েছে। আন্দোলন হচ্ছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেও। তবে সবার দৃষ্টি তেহরানের আজাদি চত্বরে। কিন্তু সেখানকার পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও খুব বেশি খবর প্রকাশ করছে না।
বিক্ষুব্ধ ইরানিরা প্রশ্ন তুলেছে, এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ওই বিমানটিকে কেন উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়েছিলো। সিকিউরিটি ফুটেজ থেকে দেখা যায়, উড্ডয়নের পর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত আনে বিমানটিতে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছেন।
গত কয়েক দিন ধরেই তেহরানের বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন ফিটনেস পরামর্শক সোহরাব। নিষেধাজ্ঞার অধীনে বেঁচে থাকাটা হতাশার বলে জানান তিনি। তবে এজন্য সরকার দায়ী বলে মনে করেন না তিনি। তবে বিমান ভূপাতিতের ঘটনা সরকার যেভাবে সামলেছে তাতে ক্ষোভ রয়েছে তার। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরকে তিনি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রে মিথ্যার পরিমাণ দেখে আমি হতভম্ব। সর্বোচ্চ নেতা নিজেও কোনও ক্ষমা চাইলেন না’।
এই ঘটনার পর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে ইরান। আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে ছিলো দেশটি। ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হয়েছে ইরানি নেতাদের।

তেহরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি পুলে লাইফগার্ড হিসেবে কাজ করেন হোসেইন। তিনি মিডল ইস্ট মনিটরকে বলেছেন, ‘জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। আমরা কেউই চাহিদা মেটাতে পারছি না। তবে আল্লাহ যদি সাহায্য করেন আর ট্রাম্প যদি আশ্চর্যজনকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বির কাছে হেরে যান এবং এই ধ্বংসাত্মক নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে ইরান যদি চূড়ান্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে তাহলে হয়তো ভালো কিছু হতে পারে’।
বৃহস্পতিবার লন্ডনে কানাডা, ইউক্রেন ও ব্রিটেনসহ যেসব দেশের নাগরিকরা ওই বিমান বিধ্বস্তে প্রাণ হারিয়েছেন তাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইউক্রেন জানিয়েছে বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ কি হতে পারে সেটা নিয়েই আলোচনা করবেন তারা।
ইতোমধ্যে ইরানে তদন্ত দল পাঠিয়েছে কানাডা। বিমানটিতে ইরানি ছাড়াও ৫৭ জন কানাডীয় ছিলো। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন টুডো বলেন, ‘দোষীরা শাস্তি না পাওয়া পর্যন্ত কানাডা বিশ্রাম নেবে না। প্রত্যেক পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন