ইলেকটোরাল কলেজের আনুষ্ঠানিকতায় ট্রাম্পেই সায়

আপডেট: ডিসেম্বর ২১, ২০১৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার আগে ইলেকটোরাল ভোটের যে আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিল, তাও নির্বিঘেœ শেষ হয়েছে।
ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া আটকাতে তাকে ভোট না দিতে ইলেকটরদের প্রতি আহ্বান ছিল হিলারি ক্লিনটনের সমর্থক ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের একটি অংশের। তবে নির্বাচনের ছয় সপ্তাহ পর সোমবার ইলোকটোরাল কলেজের ভোটাভুটিতে ৫৩৮টি ভোটের মধ্যে প্রয়োজনীয় ২৭০টি জিতে নিতে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীর তেমন কোনো বেগ পেতে হয়নি।
হোয়াইট হাউজের পথে মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ পেরিয়ে আসার পর ট্রাম্প আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে কঠোর পরিশ্রম করবেন, সব আমেরিকানের প্রেসিডেন্ট হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী তাদের প্রেসিডেন্ট জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। ভোটের আগেই প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থীরা প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ইলেকটরদের মনোনীত করেন। আর ভোটারদের ভোটে ঠিক হয়, কোন প্রার্থীর মনোনীত কতজন ইলেকটর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটাভুটিতে থাকবেন।
অর্থাৎ, গত ৮ নভেম্বরের নির্বাচনের দিন ভোটাররা ট্রাম্প বা হিলারিকে মাথায় রেখে ভোট দিলেও আসলে তারা ৫০টি অঙ্গরাজ্যের জন্য ৫৩৮ জন ইলেকটর নির্বাচিত করে তাদের হাতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
বেশিরভাগ রাজ্যে নিয়ম হল- ‘উইনার-টেইক-অল’। মানে কোনো রাজ্যে যদি দশটি ইলেকটোরাল ভোট থাকে, তার মধ্যে যে দল অন্তত ছয়টি, অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ ইলেকটোরাল ভোট পাবে, ওই রজ্যের সবগুলো, অর্থাৎ দশটি ইলেকটোরাল ভোটই সেই দলের বলে গণ্য হবে।
এ কারণে ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ভোটের হিসাবে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি রিপাবলিকান পার্টির ট্রাম্পের চেয়ে প্রায় ৩০ লাখ ভোট বেশি পেলেও ইলেকটোরাল ভোটের হিসাবে হেরে গেছেন তিনি। ৩০৬ ইলেক্টোরাল ভোট পাওয়ায় ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া তখনই নিশ্চিত হয়ে যায়। হিলারি পেয়েছিলেন ২৩২ ইলেকটোরাল ভোট।
নির্বাচিত সেই ইলেকটররাই সোমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা সারতে বসেছিলেন টেক্সাসে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ইলেকটোরাল কলেজের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার ঘটনা বিরল বলেও শেষ চেষ্টা হিসেবে ট্রাম্পকে ভোট না দিতে ইলেকটরদের আহ্বান জানানো হচ্ছিল নানাভাবে।
বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্পবিরোধীরা একের পর এক ইমেইল পাঠিয়ে গেছেন ইলেকটরদের; ফোন করে নিজেদের আবেদন তুলে ধরেছেন।
শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকান পার্টির দুজন ইলেকটর তাদের প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে চারজন ডেমোক্রেট ইলেকটর হিলারির বদলে তাদের ভোট দিয়েছেন অন্য প্রার্থীকে। শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ২৭০ ভোটের বেশিই পেয়েছেন ট্রাম্প। আগামী ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে এই ভোটাভুটির পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।- বিডিনিউজ