ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত: গাযায় বহুতল ভবন ধ্বংসের জবাবে তেল আবিবে ফিলিস্তিনিদের রকেট হামলা

আপডেট: মে ১২, ২০২১, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


গাযা ভূখন্ডের একটি বহুতল ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর তেল আবিবে অন্তত ১৩০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে ফিলিস্তিনিরা।
এদিকে লোড শহরে ইসরায়েলি আরবদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর ইসরায়েলি ওই শহরটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, গাযার ১৩ তলা ভবনটির ওপর হামলার দেড় ঘণ্টা আগে সেখানকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছিল ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, এর আগের রকেট হামলার জবাব দিতে তারা গাযায় ফিলিস্তিনি জঙ্গিদের লক্ষ্য করে হামলা করছে।
এই বছরের সবচেয়ে বড় সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে।
জেরুজালেমে কয়েকদিন ধরে চলা উত্তেজনার রেশ ধরে এই সহিংসতার শুরু হয়েছে। উভয় পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহবান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
ফিলিস্তিনিরা জেরুজালেম এবং অন্যান্য এলাকা লক্ষ্য করে শতাধিক রকেট নিক্ষেপ করে। ইসরায়েলে চালানো হামলায় অন্তত তিনজন ব্যক্তি নিহত হয়েছে। আর ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাস “রেড লাইন অতিক্রম করে ফেলেছে” এবং ইসরায়েল “শক্তভাবে” এর জবাব দিয়েছে।
গত কয়েক দিনে জেরুজালেমে যে সহিংসতা হচ্ছে, সেটা গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক।
গাযার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হামাস বলছে, জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি ‘আগ্রাসন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ জবাব দিতেই ওই হামলা করা হয়েছে।
আল-আকসা মসজিদ এলাকাটি মুসলমান ও ইহুদি ধর্মাবলম্বী – উভয়ের কাছেই পবিত্র স্থান। সোমবার সেখানে ইসরায়েলি পুলিশ ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ আহত হয়।
২০১৭ সালের পর গত কয়েকদিন ধরে জেরুজালেমে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ হচ্ছে।
জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করবে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা, এমন হুমকির কারণে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
শহরের আরব বাসিন্দাদের এলাকায় গত এক মাস ধরেই পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ লেগে রয়েছে।
সর্বশেষ হামলা সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
হামাস বলছে, ‘শত্রুরা আবাসিক এলাকায় হামলা করার পাল্টা জবাব দিতে’ তারা তেল আবিব এবং এর আশেপাশের এলাকায় রকেট নিক্ষেপ করেছে।
তেল আবিব থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে রাতের আকাশে রকেটের ঝলকানি দেখা গেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মিসাইলের আঘাতে এসব রকেটের বেশ কিছু আকাশেই বিস্ফোরিত হয়েছে।
তেল আবিবের কাছে রিশন লেযিওন শহরে ৫০ বছর বয়সী একজন নারী নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হোলন শহরতলীতে একটি খালি বাসে রকেট বিস্ফোরিত হয়েছে। সেখানে একটি শিশু এবং দুইজন নারী আহত হয়েছেন।
রয়টার্স জানাচ্ছে, সাইরেন বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তেল আবিবে পথচারীরা দ্রুত আশ্রয় খুঁজে নেয় এবং রেস্তোরাগুলোয় রাতের খাবারের আয়োজন বাতিল হয়ে যায়।
বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে লম্বা সময়ের জন্য সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ইলাত এবং আশকেলন শহরের মধ্যে জ্বালানী সরবরাহের একটি পাইপলাইনেও রকেট হামলা করা হয়েছে।
গাযার বহুতল হানাদি টাওয়ার ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস করে দেয়ার পর এসব রকেট হামলা চালানো হয়। ওই ভবনটিতে হামাসের একটি কার্যালয় ছিল, যা তাদের রাজনৈতিক নেতারা ব্যবহার করতেন।
তবে ওই হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেও সেখানে হতাহতের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
জানা যাচ্ছে, সেখানে আরেকটি বহুতল ভবনও ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী, যদিও হামলা চালানোর আগে সতর্ক করা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গানৎজ বলেছেন, ইসরায়েলের হামলার ‘মাত্র শুরু এখন।”
”সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোয় কড়া আঘাত করা হচ্ছে এবং এ রকম আঘাত চলবে, কারণ তারা ইসরায়েলে হামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা দীর্ঘমেয়াদের জন্য শান্তি এবং নীরবতা ফিরিয়ে আনব।”
হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়েহ বলেছেন, ইসরায়েল যদি (সহিংসতা) আরও বাড়াতে চায়, তাহলে জবাব দেওয়ার জন্য তারাও প্রস্তুত রয়েছে।
”যদি (ইসরায়েল) আরও বাড়াতে চায়, আমরা সেজন্য প্রস্তুত রয়েছি আর তারা যদি বন্ধ করতে চায়, আমরা সেজন্যও প্রস্তুত আছি,” বলেন তিনি।
এই সহিংসতা নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার একান্ত আলোচনায় বসতে যাচ্ছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করবে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা, এরকম হুমকির কারণে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
ছবির ক্যাপশান,
জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করবে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা, এ রকম হুমকির কারণে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে
সহিংসতার পেছনের কারণ
১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকেই পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে ইসরায়েল। পুরো শহরকে তারা নিজেদের রাজধানী বলে মনে করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ দেশ তাতে স্বীকৃতি দেয়নি।
ফিলিস্তিনিরা দাবি করে, পূর্ব জেরুজালেম হবে তাদের স্বাধীন দেশের রাজধানী।
ওই এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে, কারণ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের জন্য পূর্ব জেরুজালেমের বাড়িঘর থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার সম্ভাবনায় প্রতিদিনই কলহ তৈরি হচ্ছে।
জাতিসংঘ ইসরায়েলের প্রতি আহবান জানিয়েছে যেন যেকোনো ধরনের উচ্ছেদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হয় এবং ”বিক্ষোভকারীদের প্রতি যেন সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখানো হয়”।
জোর করে বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহবান জানিয়েছে আরব লীগ।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা