ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্কের নেপথ্যে

আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০২১, ৬:৫১ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক:


যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে এগিয়ে এসেছে বেশ কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে আরব দেশ বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে।

ইসরায়েল থেকে প্রকাশিত আরবি দৈনিক গ্লোবস্ এক প্রতিবেদনে জানায়, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে বেশ কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তি সই হয়েছে।

২০২০ সাল থেকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ পর্যন্ত চারটি দেশ অর্থাৎ বাহরাইন, আমিরাত, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

ট্রাম্পের শাসনামলের শেষের দিকে সৌদি আরবের সঙ্গেও ইসরায়েলের সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে ব্যাপক গুঞ্জন শোনা যায়। এ নিয়ে বিভিন্ন খবর প্রকাশিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।

পার্স টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধী ছিলেন। তবে সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের মধ্যে যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে, তাতে এ ধারণাই শক্তিশালী হয়েছিল যে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা হয়তো রিয়াদের নেই।

তবে গত এক সপ্তাহের ঘটনাবলীতে প্রমাণিত হয়েছে, সৌদি আরব শুধু ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে তাই নয়, একইসঙ্গে আরও বহুমাত্রিক সহযোগিতা গড়ে তুলছে। এরই অংশ হিসেবে ১ নভেম্বর সৌদি আরবের প্রথম বিমান ইসরায়েলে গেছে। এর পরের দিন ইসরায়েলের একটি বিমান রিয়াদ বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।
এ ঘটনার পর সৌদি আরবের বাজারে ইসরায়েলি পণ্য প্রবেশের দরজা খুলে গেছে বলে উল্লেখ করা হয় দৈনিক গ্লোবস্ পত্রিকায়।

রিয়াদে হচ্ছে ইহুদিদের প্রথম উপাসনালয়
প্রতিবেদনে বলা হয়, এর ফলে ইসরায়েলি কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের সামনে বিরাট সম্ভাবনার দরজা খুলে গেল এবং তাদের গুরুত্ব বহুগুণে বেড়ে গেল। এমনকি রাজধানী রিয়াদে ইহুদিদের প্রথম উপাসনালয় উদ্বোধনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। রিয়াদের ওই স্থানটিকে ইহুদিদের সমস্ত ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সৌদি আরব-ইসরায়েল সম্পর্কের পেছনে যারা
ধারণা করা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। ঠিক যেমনটি ট্রাম্পের শাসনামলে তিনি চারটি আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্থাপনে ভূমিকা রেখেছিলেন।

হিব্রু ভাষায় প্রকাশিত ওয়েব সাইট বালো’র প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সালিভান চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর রিয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় রিয়াদ ও তেলাআবিবের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানও সম্প্রতি বলেছেন, ইসরায়েল এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে।

ইসরায়েল-সৌদি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনে বাহরাইন ও আমিরাতের ভূমিকা। এর আগে সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় বাহরাইন ও আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। আর এখন ওই দুই দেশই সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্থাপনে মধ্যস্থতা করছে। যদিও ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা অনেক আগে থেকে গোপনে বজায় রয়েছে। কিন্তু মানামা ও আবুধাবি এখন বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর তার সমর্থন লাভের জন্য চেষ্টা করছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এমনকি সৌদি বাদশার পদে যুবরাজ সালমানের অধিষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারেও বাইডেন প্রশাসনের সমর্থন রয়েছে।

তাই সৌদি যুবরাজ বিন সালমান বাইডেনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন বলে অনেকে মনে করছেন। এতে সৌদি বাদশার পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমর্থন পেতে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিবাদী লবিং গ্রুপেরও সমর্থন পাওয়া যাবে।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ