ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধাপরাধ করেছে: জাতিসংঘ

আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০২৩, ১২:১৪ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


মাসাধিক আগে শুরু হওয়া সংঘাতে ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই যুদ্ধাপরাধ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এ মন্তব্য করেছেন। বুধবার গাজা-মিশরের রাফাহ ক্রসিং পরিদর্শনকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী দ্বারা সংঘটিত নৃশংসতা ছিল জঘন্য। সেগুলো ছিল যুদ্ধাপরাধ – জিম্মিদের অব্যাহত রাখা।

ফিলিস্তিনি অসামরিক বাসিন্দাদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনি কর্তৃক সম্মিলিত শাস্তিও একটি যুদ্ধাপরাধ- যেমন বেসামরিক লোকদের বেআইনিভাবে জোরপূর্বক সরিয়ে নেয়া।
ইসরায়েলি বাহিনি রাফাহ সীমান্তের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা বিতরণ শুরু হওয়ার আগে অঞ্চলটিতে হামলা চালিয়েছিল। এ সীমান্ত এলাকাটিকে ‘লাইফলাইন’ বলে আখ্যা দেন তুর্ক।, লাইফলাইনটি অন্যায়ভাবে, আক্রোশজনকভাবে সরু করে ফেলা হয়েছে, বলেন তিনি।

ভলকার তুর্ক বলেন, দক্ষিণ ইসরায়েলে আন্তঃসীমান্তে হামাসের আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় গাজায় অব্যাহতভাবে বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। ইসরায়েলের এ কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় হামাসের মানুষও হামলা চালায়। এতে ১৪শো ইসরায়েলি নিহত হয়েছে এবং ২৪০ জনকে জিম্মি করা হয়। অন্যদিকে ইসরায়েলি বোমা হামলায় গাজায় অনেক নারী ও শিশুসহ ১০ হাজার ৫শো জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

তিনি আহ্বান জানান, জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় দু’পক্ষকে যুদ্ধবিরতিতে ঐকমত্য হওয়া প্রয়োজন।
হাইকমিশনার বলেন, ইসরায়েল-গাজায় মানবাধিকারের অপরিহার্যতা ৩টি- গাজায় পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা দেয়া, জিম্মিদের মুক্তি এবং দখলদারিত্বের টেকসই অবসান হওয়া বাঞ্ছনীয়। আমরা একটি গিরিশৃঙ্গ থেকে নিচে পড়ে গেছি, যা কোনোভাবেই চলতে পারে না। এক পক্ষের কর্ম অন্য পক্ষের কর্মকে নিষ্কৃতি দেয় না।

গাজায় দুর্ভোগ লাঘবে চলমান যুদ্ধের মানবিক বিরতির দিকে ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ ও জি-৭ দেশগুলো। কিন্তু ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানও নাকচ করে দিয়েছে। ইসরাইল বলেছে, হামাস যতক্ষণ জিম্মিদের মুক্তি না দেবে, ততক্ষণ যুদ্ধবিরতিতে তারা রাজি নয়। অন্যদিকে হামাস বলছে, যতক্ষণ গাজায় হামলা চলবে তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন