ইসলামিক স্টেটের নেতা আল বাগদাদী কি রুশ হামলায় নিহত হয়েছে?

আপডেট: জুন ১৭, ২০১৭, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



সিরিয়ার রাকায় রাশিয়ার চালানো কোন এক বিমান হামলায় ইসলামিক স্টেটের নেতা আবু বকর আল বাগদাদী নিহত হয়েছে কিনা তা যাচাই করে দেখছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ২৮ শে মে রাকায় ইসলামিক স্টেটের এক কথিত গোপন সভাস্থল লক্ষ্য করে রুশ বিমান থেকে এই হামলা চালানো হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ওই হামলায় তিনশো তিরিশ জনের মতো ইসলামিক স্টেট যোদ্ধা নিহত হয়। এদের মধ্যে হয়তো আবু বকর আল বাগদাদীও ছিল।
ইসলামিক স্টেট রাকা-কে তাদের রাজধানী বলে গণ্য করে। উল্লেখ্য আল বাগদাদীর মৃত্যু নিয়ে এরকম জল্পনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও কয়েকবার তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। তবে রাশিয়ার দিক থেকে এরকম দাবি এটাই প্রথম। এর আগে গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার এরকম খবর বেরিয়েছিল যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন হামলায় বিমান হামলা বাগদাদী নিহত হয়। রাশিয়ার একটি সরকারি বার্তা সংস্থা স্পুটনিক নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামিক স্টেটের তিনশোর বেশি লোক এবং তিরিশ জনের মতো অধিনায়ক ঐ সভায় ছিল।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন বাহিনীর মুখপাত্র কর্ণেল জন ডরিয়ান বলেন, বাগদাদী নিহত হয়েছেন কিনা সেটা তারা নিশ্চিত করতে পারছেন না।
সিরিয়ার সরকার এ বিষয়ে এখনো কোন মন্তব্য করেনি।
আবু বকর আল বাগদাদীর সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে সেরকম কোন খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না। তবে গত বছরের অক্টোবরে যখন ইরাকের মসুল শহরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয় তখন আল বাগদাদী সেখানে ছিল বলে মনে করা হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছিল, আল বাগদাদী এখন মসুল বা রাকার পরিবর্তে মরুভূমির হাজার হাজার বর্গমাইল এলাকার মধ্যে লুকিয়ে আছে।
ইসলামিক স্টেট তাদের খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়ার পর এ পর্যন্ত আল বাগদাদীকে একবারই প্রকাশ্যে দেখা গেছে। ২০১৪ সালের জুনে মসুল শহরের এক মসজিদে তাকে খুৎবা দিতে দেখা যায়।
তবে গত কয়েক বছরে ইসলামিক স্টেট তাদের কথিত খেলাফতের একটা বিরাট অংশের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। রুশ এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের দ্বিমুখী আক্রমণের মুখে তারা এখন বেশি চাপের মধ্যে আছে।
গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসন জানিয়েছিলেন আল বাগদাদীর বেশিরভাগ সহযোগীই নিহত হয়েছে। তিনি বলেছিলেন বাগদাদীর একই পরিণতি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আল বাগদাদী আসলে কে?
আবু বকর আল বাগদাদীর আসল পরিচয় কি তা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। আল বাগদাদী তার আসল নাম নয় বলে মনে করা হয়।
ধারণা করা হয় ১৯৭১ সালে বাগদাদের উত্তরে সামারা এলাকায় আল বাগদাদীর জন্ম।
২০০৩ সালে যখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে সামরিক অভিযান চলে, তখন আল বাগদাদী বাগদাদের কোন একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন বলে দাবি করা হয় কোন কোন রিপোর্টে।
অনেকের বিশ্বাস, সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলেই আল বাগদাদী জঙ্গি জিহাদিতে পরিণত হয়েছিল। তবে অন্য অনেকের ধারণা, যখন তাকে দক্ষিণ ইরাকে একটি মার্কিন সামরিক ক্যাম্পে চার বছর আটকে রাখা হয়েছিল তখনই আসলে আল বাগদাদী জঙ্গীবাদে দীক্ষা নেয়। এই ক্যাম্পে অনেক আল কায়েদা কমান্ডারকে বন্দি রাখা হয়েছিল।
আল বাগদাদী পরে ইরাকে আল কায়েদার নেতা হিসেবে আবির্ভুত হয়। পরে অবশ্য ইরাকের আল কায়েদা নিজেদেরকে ২০১০ সালে ‘ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড লেভান্ট’ বলে ঘোষণা করে।
২০১১ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র আল বাগদাদীকে সন্ত্রাসী বলে ঘোষণা করে। তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা