ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন রাহুমুক্তি এখনো অনেক দূর

আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০১৭, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জামায়াতের রাহুমুক্ত হচ্ছে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক। সরকারের উদ্যোগে যুদ্ধাপরাধ, জঙ্গিবাদে অর্থায়নের মতো বহুল আলোচিত নেতিবাচক ইস্যু থেকে ইতিবাচকতার দিকে হাঁটছে প্রতিষ্ঠানটি। আর্থিক খাতে কর্মরত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, অর্থনীতিবিদরাও সরকারের এ উদ্যোগে দিচ্ছেন ইতিবাচক সাড়া। সংবাদ মাধ্যমে এ বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মত, সরকারের এ ধরনের সাহসী উদ্যোগের কারণেই একচেটিয়াভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হচ্ছে ইসলামী ব্যাংক। এতে ঝুঁকিমুক্ত হচ্ছে দেশের অন্যতম একটি আর্থিক খাত।
স্বাধীনতার প্রায় ৪৫ বছর পর দেশের ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের পরিবর্তনের ঘটনা এটিই প্রথম।
অর্থনীতিবিদদের মতে স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে দেশের কোনো ব্যাংক থাকবে এটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়, সুস্থও নয়। সরকার যেভাবে চাইছে নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে, সেটি দেশের স্বার্থেই। এই ইসলামী ব্যাংকে কর্মরতদের ৯৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যাকগ্রাউন্ড জামায়াত-শিবিরের। গতবছর প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার উপরে লাভ করেছে এ ব্যাংকটি।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে দেশব্যাপী যে ভয়াবহ সহিংসতা, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারাসহ রাস্তা-ঘাট অবরোধ করে যে ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালানো হয়েছিল তার জন্য জামায়াত-শিবিরকেই দায়ী করা হয়। দেশবিরোধী সেসব কর্মকা-ে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে তার যোগানদাতা বা উৎস কী- তা নিয়েও দেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে। কারও কারও মনে সন্দেহ, এই ব্যাংকের লাভের টাকায় দেশের জনগণের সম্পদ নষ্টের তৎপরতা চালিয়েছে এ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ইসলামী ব্যাংক যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন সেখানে বিদেশি বিনিয়োগই ছিল সবচেয়ে বেশি, মোট বিনিয়োগের ৭০ শতাংশই এসেছিল ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে। সেখানে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস, দুবাই ইসলামী ব্যাংক এদের বিনিয়োগ ছিল।
অন্যদিকে বাংলাদেশের যে ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ, তার মধ্যে দশ শতাংশ এসেছে শেয়ার বাজারে ছাড়া আইপিও(ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং) থেকে। বাকী যে বিশ শতাংশ বিনিয়োগ, তার পঁচিশ শতাংশ দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।
ব্যাংকটি ৩৫ বছর ধরে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে চলেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষের ধর্ম-অনুভুতিকে ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিক মোটিভেশন থেকে ব্যাংকটি পরিচালিত হয়েছে, সেটাও সত্য। সত্য-মিথ্যের গোলকধাধায় এতদিন ছিল কিন্ত জঙ্গি সন্ত্রাসী উৎপাত, জঙ্গি অর্থায়নের উৎসে যে জামায়াতের নামে বেনামে প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত তা দেশের মানুষ অনুমান করতে পারে।
ইসলামী ব্যাংক তাদের নিয়োগ, ব্যবসা, বিনিয়োগ, ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে কেবল একটি দলকেই অর্থাৎ জামায়াতে ইসলামীকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এটাকে তারা অসত্য বলে দাবি করতেই পারে কেননা জামায়াতের রাজনীতিটাই মিথ্যার ওপর দাঁড় করানো। যেমন তারা মহান মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মিথ্যাচার করে, মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, তাদের দায়কে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে। ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে যে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা আছে, সেরকম ধারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে আছে। আর এ ধারণা তো তার এমনি এমনি হয়নি। অভিজ্ঞতা দিয়েই মানুষ বুঝেছে, ইসলামী ব্যাংক কোনোভাবেই এ দেশের জনমানুষের স্বার্থ সুরক্ষা করে না। ইসলামী ব্যাংকের সাড়ে ১৩ হাজার কর্মীর প্রায় সকলেই জামায়াত- শিবিরের রাজনীতি থেকে এসেছে। ইসলামী ব্যাংক যে জামায়াত দ্বারা প্রভাবিত এর চেয়ে আর বড় প্রমাণ কী থাকতে পারে। রাজনৈতিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য না থাকলে এমনটি হবার কথা নয়। হ্যাঁ এটা ঠিক যে ব্যাংকের এক কোটি সতের লক্ষ্য গ্রাহকের সবাই জামায়াতের মতাদর্শে বিশ্বাসী নয়। কিন্তু সেটা কত শতাংশ? নিশ্চিতভাবেই সেটা খুবই মিনিমাম হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যাংকের নতুন পর্ষদকে গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু বিপুল পরিমাণ জামায়াত সমর্থিত রাজনৈতিক কর্মী বহাল রেখে জামায়াতের রাহুমুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করলে তা আত্মঘাতিই হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ