ইসলাম ধর্মকে জঙ্গি ধর্মে পরিণত করার জন্যই হামলা চালানো হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট: মার্চ ৯, ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছেন, ‘ইসলাম ধর্মকে জঙ্গি ধর্মে পরিণত করার জন্যই বারবার হামলা চালানো হচ্ছে। কিন্তু এদেশের মানুষ কখনো জঙ্গিবাদকে মেনে নেবে না। এদেশে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই।’
গতকাল বুধবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন জঙ্গিরা দেশের উন্নয়নকে গতিরোধ করার জন্য, ইসলামকে কলঙ্কিত করার জন্য এই বোমাবাজি করছে। ইসলাম কখনো এই বোমাবাজি সমর্থন করেনা। ইসলামের কোথাও মানুষ হত্যার কথা বলা নাই। যারা এই বোমাবাজি করছে তারা কখনও মুসলমান হতে পারে না। ধর্মপ্রাণপ্রিয় মানুষ কখনো বোমাবাজি করতে পারে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এই দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই দেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তখন জঙ্গিরা ধর্মের অপব্যবহার করে উন্নয়নের গতিকে বাধাগ্রস্ত করার জন্যই এই বোমা হামলা চালানো হচ্ছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী-১ আসনের সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৫ আসনের সাংসদ আব্দুল ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ আখতার জাহান, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার নূর উর রহমান, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের পেশ ইমাম ফরিদ উদ্দিন মাসুদ, ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ ধ্রুবশানান্দা মহারাজ, কুমিল্লা শালবন বিহারের অধ্যক্ষ শীলতন্দ্র মহাথেরো, রাজশাহী ধর্ম প্রদেশের বিশপ ক্যাথলিক জেরভাস রোজারিও। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী-৩ আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন, জেলা পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, নগরের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সভায় খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, হাজার বছরের ঐতিহ্য আমরা বাঙালি। তারপর আমরা কেউ হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান বা বৌদ্ধ। কোনো ধর্মই অন্য কোনো ধর্মের মানুষকে কোনো ধরনের ক্ষতি করার অধিকার দেয়নি। অথচ ধর্মের অপব্যাখা দিয়ে মনগড়া বক্তব্য প্রদান করে মানুষকে হত্যা করা সবচেয়ে জঘন্য অধর্মের কাজ। ধর্মের অপব্যাখা দিয়ে মানুষকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদও করা হয়। তরুণদের মাদকাসক্ত করে এই ধর্মান্ধতা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা বাঙালি সবাই এক। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এই ধর্মীয় মৌলবাদের শিকড় উপড়ে ফেলব।
সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ধর্মভিত্তিক কখনো রাষ্ট্র হতে পারে না। রাষ্ট্র হয় ভৌগোলিক অবস্থা, কৃষ্টি-কালচারের ওপর ভিত্তি করে। যারা ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে চায় তারা আসলে ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেয়। আমরা সম্প্রীতির দেশ। অসাম্প্রদায়িক দেশ। তাই এদেশে কখনো জঙ্গিবাদের ঠাঁই হতে পারে না।
সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ নির্মূলে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে নিয়েই আমাদের এই পথচলা। উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলা। মৌলবাদী শক্তিরা কখনো একে রুদ্ধ করতে পারবে না। সাংসদ আখতার জাহানও মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের পেশ ইমাম ফরিদ উদ্দিন মাসুদ বলেন, ইসলাম ধর্মের কোথাও মানুষ হত্যার কথা বলা নাই। শুধু মানুষ হত্যা না, বিনা প্রয়োজনে একটি গাছ কাটাও নিষেধ রয়েছে ইসলাম ধর্মে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই ধর্মে ইসলামের নামে মানুষ হত্যার কথা কোথাও লেখা নেই। যারা ধর্মের নামে, ধর্মকে অপব্যাখা দিয়ে মানুষ হত্যা করে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এদের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে।