ইয়েমেনে কলেরায় আক্রান্ত আড়াই লাখ, তিন মাসে নিহত ১৫০০

আপডেট: জুলাই ৩, ২০১৭, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ইয়েমেনে কলেরার ভয়াবহ আক্রমণে নিহতের সংখ্যা ১,৫০০ ছুঁয়েছে। আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই হিসাব জানিয়েছে। এ বছর এপ্রিল থেকে কলেরার মহামারী শুরু হয় দেশটিতে। ২৪ জুন (শনিবার) এক বিবৃতিতে এ পর্যন্ত দেশটিতে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত এক হাজার ৩১০ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও ১৯০ জনের প্রাণহানির খবর জানালো তারা।
ইয়েমেনে কলেরার মহামারী
ইয়েমেনে নিয়োজিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র নেভিও জাগারিয়া। ১৫০০ জনের প্রাণহানির খবর জানিয়ে বিশ্বকে ইয়েমেনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। ইউনিসেফের একজন মুখপাত্রের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ৩০ জুন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজারে পৌঁছেছে। এদের অর্ধেকই শিশু।
পানিবাহিত রোগ কলেরা সহজে নিরাময়যোগ্য। তবে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে এটা প্রাণঘাতী রূপ ধারণ করে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা বেশ দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, আগামী আগস্টের শেষ নাগাদ দেশটিতে কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়াতে পারে।
ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে ২০১৫ সালে দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি জোট। গত দুই বছরে সৌদি জোটের উপর্যুপরি বিমান হামলা তথা সামরিক অভিযানে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ইয়েমেনের মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশ মানুষ।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইয়েমেনের বিদ্যমান খাদ্য সংকট চলতি বছরই দুর্ভিক্ষে রূপ নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতেই মরার ওপর খড়ার ঘা-এর মতো দেশটিতে নেমে এসেছে কলেরার তা-ব।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন