ইয়েমেনে বিমান হামলায় ৩০ জন নিহত

আপডেট: আগস্ট ২৬, ২০১৭, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে বুধবার ভোররাত তিনটে নাগাদ একটি হোটেলের উপর হুথি জঙ্গিদের হটানোর লক্ষ্যে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে নিহতদের পরিচয় নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। এরা সত্যিই জঙ্গি নাকি সাধারণ মানুষ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সানায় দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠির মধ্যে লড়াই চলছে বহু দিন ধরেই। এক দিকে রয়েছে উত্তরের শিয়া যোদ্ধা, যারা পরিচিত হুথি জঙ্গি হিসেবে। আর হুথিদের সঙ্গে লড়াই চলে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহর অনুগামীদের। এই দুই গোষ্ঠির সংঘর্ষে দীর্ঘ দিন ধরে উত্তপ্ত সানা। বিদ্রোহীরা ২০১৫-র গোড়া থেকে সানার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন সানা থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে আরহাব শহরের দো’তলা ওই হোটেলে হামলা চালিয়েছে যুদ্ধ বিমান। হোটেল থেকে কিছু দূরে হুথি নিয়ন্ত্রিত চেকপয়েন্টেও পরে বিমান হামলা চলেছে বলে সূত্রের খবর। কিন্তু হোটেলের ধ্বংসস্তূূপ সরিয়ে একের পর এক যাদের দেহ উদ্ধার হচ্ছে, ডাক্তারদের দাবি, তারা মূলত সাধারণ কৃষক।
কিন্তু সরকারি সূত্রে দাবি, নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই হুথি জঙ্গি। ওই জঙ্গি-গোষ্ঠি নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা আল-মাশিরা টিভি চ্যানেলের ফুটেজে দেখা গেছে, হোটেলের ভেতরে এক এক জায়গায় মৃতদেহ ঝুলছে। আশপাশ থেকে কম্বলে মুড়ে কেউ কেউ বিকৃত সব মৃতদেহ সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আল-মাশিরার দাবি, ৩০ জনেরও বেশি ‘বিদ্রোহী’ প্রাণ হারিয়েছে।
আর এক সূত্রে দাবি নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬০ ছুঁতে পারে। উদ্ধারকাজে যোগ দেয়া চিকিৎসক আলি আল-রাকমি বলেছেন, হামলার সময়ে হোটেলে একশোরও বেশি মানুষ ছিলেন। তিনি নিজে ৩৫টি দেহ উদ্ধারের কাজ তত্ত্বাবধান করেছেন। কাছাকাছি হাসপাতাল উমরা-র প্রাণ ফাদ মারহাবের দাবি, বিমান হামলায় কেউই বেঁচে নেই।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের উৎখাত করতে জোর অভিযান চালাচ্ছে। ২০১৬-র প্রথমার্ধে যত হামলা হয়েছে, এ বছর শুধু গত সপ্তাহে ইয়েমেনে তার চেয়েও বেশি বিমান হানা চলেছে বলে দাবি করেছে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো। স্কুল, হাসপাতাল, বাজারড় কিছুই বাদ নেই হামলা থেকে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। জাতিসংঘ এবং যুক্তরাজ্যও সরব রয়েছে। টানা সংঘর্ষ ও হামলায় দশ হাজারেরও বেশি সাধারণ মানুষ মারা গিয়েছেন। আশ্রয়হীন হয়েছে ৩০ লাখ মানুষ।
তথ্যসূত্র: বাসস

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ