ই-সিগারেটে ঝুঁকছে কিশোর পরিস্থিতি এখনই সামাল দিতে হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯, ১:২৯ পূর্বাহ্ণ

সিগারেট থেকেই মাদকের নেশা শুরু হয় এবং মাদকাসক্তদের ৯০ শতাংশই ধূমপায়ী। ধুমপান বিরোধী আইন আছে কিন্তু সেটির যথাযথ প্রয়োগ নেই। ফলে প্রকাশ্যে স্থানে থেমেও নেই ধুমপান প্রবণতা। ধুমপান জগতে বৈচিত্র্য আনতে এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ই-সিগারেট। এটা কিশোর বা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করছে। এ এক নতুন আপদ, যা নতুন দুর্ভাবনার সূত্রপাত করেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ই-সিগারেট এখন ধুমপায়িদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। টোবাকো কোম্পানিগুলো নতুন আঙ্গিকে নেশার কৌশল হিসেবে ই-সিগারেট বেছে নিয়েছে। যদিও দেশে ই-সিগারেটের বিষয়ে কোনো আইন নেই। তাই স্বাস্থ্যের বেশি ক্ষতি হলেও বেড়েছে এর ব্যবহার। ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেট এটি ভিন্ন ধরনের নেশা। সম্পন্ন লিকুইড। সিগারের চেয়ে গাঢ় ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই ধোঁয়া অনেকের পছন্দের।
২০১৮ সালে কৃত এক জরিপ তথ্যমতে, রাজশাহী মহানগরীতে ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী ধুমপান করে। এবং এ সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর শিক্ষার্থীদের মধ্যেই ই-সিগারেটের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ই-সিগারেট বেশি ক্ষতিকারক। এটি বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি। সাধারণ সিগারেটের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ গুন বেশি ক্ষতি করে। উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতি এখনই সামাল দিতে হবে।
সন্দেহ নেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধুমপান প্রবণতা অবশ্যই উদ্বেগের কারণ। এবং এই ধুমপান থেকেই সাধারণত অন্য মাদকে জড়িয়ে পড়ার সংখ্যাটাও বেশি। ধুমপানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ খুবই জরুরি।
বুধবার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ভ্রাম্যমান আদালত একটি সময়ের জন্য পরিচালিত হলে প্রকাশ্যে ধুমপান বন্ধ করা যাবে না। এবং সেটা বন্ধ করা যায়ও নি। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকে রুটিন কাজের অংশ হিসেবে না নিলে ধুমপানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠবে না। ই-সিগারেট কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে এবং আদৌ এর কোনো বৈধতা আছে কি না তা বিবেচনায় নিয়ে এর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা বাঞ্ছনীয়।
তথ্য বলছে, ২০২০ সাল নাগাদ তামাক ব্যবহারজনিত কারণে বিশ্বে এক কোটি লোকের মৃত্যু হবে। যাদের বেশির ভাগই মারা যাবে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে। সিগারেট থেকেই মাদকের নেশা শুরু হয় এবং মাদকাসক্তদের ৯০ শতাংশই ধূমপায়ী।
মাদকসাক্তির ঝুঁকি যে হারে বাড়ছে, তাতে দেশের কোনো সুস্থ মানুষ মুখ ঘুরিয়ে থাকতে পারে না। কেননা যে কোনো সময় যে কারো বাড়িতে সর্বনাশা মাদক কড়া নাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে পারিবারিকভাবেও প্রতিরোধ গড়তে হবে। শিক্ষার্থীদের ধুমপান প্রবণতা থেকে মুক্ত রাখতে সমাজের সকলেরই দায়িত্ব নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ