ঈদকে সমানে রেখে গ্রামে গ্রামে পোশাকের ফেরিওয়ালা

আপডেট: জুন ১৭, ২০১৭, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


ঈদকে সামনে রেখে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে পোশাক বিক্রি করছেন জিল্লুর রহমান-সোনার দেশ

ঈদকে সামনে রেখে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে পোশাক বিক্রি করছেন জিল্লুর রহমান। তিনি এর আগে অন্যের দোকানে সেলসম্যানের চাকরি করতেন। সেখানে দীর্ঘদিন চাকরি করে সংসার পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। তাই ওই দোকান থেকেই পোশাক কিনে বর্তমানে গ্রামে গ্রামে ছেলে-মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের পোশাক বিক্রি করেন।
জিল্লুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে তিনি একটি সাইকেল কিনেন। এই সাইকেলে লোহার রড় দিয়ে স্ট্যান্ড তৈরি করে নিয়েছেন। স্ট্যান্ডে বিভিন্ন পোশাক আটকিয়ে আকর্ষণীয় করা হয়েছে। জিল্লুর রহমান প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামে গ্রামে এই পোশাক বিক্রি করেন। প্রতিদিন তার সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকার পোশাক বিক্রি হয়ে থাকে। এই থেকে তার বর্তমানে প্রতিদিন আয় ৬শ থেকে ৮শ টাকা। তবে ঈদ মৌসুম ছাড়া অন্য সময়ে তার আয় ৪শ থেকে ৫শ টাকা হয়।
গতকাল শুক্রবার বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা গ্রামে ভিড় করে তার কাছে থেকে গ্রামের মেয়েরা পোশাক কিনছিলেন। এসময় কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার পাঁচ সদস্যের পরিবার। সংসারে আয় করার লোক আমি। বাবা-মা বয়সের ভারে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তারা আর কাজ করতে পারেন না। আমি যে আয় করি, এই আয় থেকে সংসারের যাবতীয় খরচ চালাতে অসুবিধা হয় না। তবে আগের চেয়ে অনেক অনেকগুণে ভালো আছি। তিনি এখনো বিয়ে করেন নি। আর কিছু টাকা রোজগার করে ২০১৮ সালে বিয়ে করবেন বলে জানান। জিল্লুর রহমান বাউসা ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের ইনছার আলীর ছেলে।
তার প্রতিবেশী কলেজ শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, জিল্লুর রহমান খুব পরিশ্রমী এবং আন্তরিক। তার সংসারে আগের চেয়ে বর্তমানে অনেক সচ্ছলতা এসেছে। জিল্লুর রহমানে যেভাবে পরিশ্রম করে, তার দেখাদেখি বেকাররা একাজকে ছোট না ভেবে পরিশ্রম করলে দেশ এমনিতেই এগিয়ে যাবে।
এ বিষয়ে বাউসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক বলেন, জিল্লুর রহমান একজন পরিশ্রমী ছেলে বলে জানি। বর্তমানে গ্রামে গ্রামে সাইকেলে করে বিভিন্ন পোশাক বিক্রি করে বেড়ায়।