ঈদের আগে অস্ট্রেলিয়া বধ || বাংলাদেশ টেস্ট দলের সবাইকে অভিনন্দন

আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০১৭, ১:২০ পূর্বাহ্ণ

ভালোই ভালোই শেষ হলো মিরপুর টেস্ট। শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশ। অথচ একটা সময় এই টেস্ট প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। আদৌ সিরিজ হবে কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল শঙ্কা। সব সমস্যার অবসান ঘটিয়ে ঢাকায় পা রাখে অসিরা। হতে পারে ক্রিকেটের পরাশক্তি দল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু তাতে কি হয়েছে। বাংলাদেশও এখন কোন অংশে কম না। যেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মাঠে এসে খেলোয়াড়দের উৎসাহ প্রদান করে। সে দেশের খেলোয়াড়দের দমিয়ে রাখা যায় না। সেটা গতকাল মিরপুরে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ ২০ রানে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর মুহূর্ত দেখলো বিশ্ববাসী। শুধু তাই নয়, নিরাপত্তার অজুহাত তৈরি করে অস্ট্রেলিয়া এই চলতি সিরিজ না খেলার বিভিন্ন সময় টালবাহনা করেছে। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের চেয়ে উন্নত দেশ হতে পারে! কিন্তু জঙ্গি ও সন্ত্রাস মোকাবিলা করে বিশ্বে এই লাল-সবুজের দেশটি প্রমান করেছে উন্নত দেশগুলো যেখানে হিমসিম খাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ কতটা নিরাপদ। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ দুর্যোগ কিভাবে মোকাবিলা করবে সেটা তারা অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে না। বন্যা ও রোঙ্গিরার মতো ইস্যুও দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করে। আর এসব মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল দেশের মানুষকে উল্লাস করার উপলক্ষ্য তৈরি করে দেয়। আর টেস্ট ক্রিকেটে অভিজাত অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১১ বছর পর খেলতে নেমে ২০ রানের অবিস্মরণীয় এই জয় ঈদের আগে বাড়তি উপহার এনে দিয়েছে মুশফিক-সাকিবরা।
প্রবল পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি প্রথম টেস্ট জয় বাংলাদেশের। অসাধারণ এই জয়ের নায়ক সাকিব আল হাসান। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে করেছিলেন ৮৪ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে রান না পেলেও বল হাতে অসিদের বধ করে নিজের ৫০তম টেস্ট ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখলেন। দ্বিতীয়বারের মত ১০ উইকেট নিয়েছেন তিনি যে রেকর্ড বাংলাদেশে আর কারও নেই।
অভিনন্দন সব খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও অধিনায়ককে স্মরণীয় এই সাফল্যের জন্য। কোচ ও অধিনায়ক দুটি টেস্টই জিততে চান বলে যে মন্তব্য করেছিলেন, সেটা যে তারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন ও সামর্থ্য রাখেন, তা আমাদের সামনেই করে দেখালেন। আমাদের অনেকের কাছে হয়তো মনে হয়েছিল এখনও এত বড় মন্তব্য করার জায়গায় আমরা পৌঁছায় নি। কিন্তু এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে বাংলাদেশ লিখল নতুন ইতিহাস। অবশ্য এখনও দ্বিতীয় টেস্টের লড়াইটা বাকি আছে, তবে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
টেস্ট ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের দশম জয়। এর আগে জিম্বাবুয়েকে পাঁচবার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুবার, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডকে একবার করে হারিয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর এই শেরে বাংলা স্টেডিয়ামেই ইংল্যান্ডকে ১০৮ রানে হারায় বাংলাদেশ দল। বুধবারের জয়ের মধ্য দিয়ে ১০১ তমে টেস্টে ১০ম জয় তুলে নিল টাইগার বাহিনী। এক রোমাঞ্চকর ও মহাকাব্যিক বিজয় অর্জন করে মিরপুর টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখলেন মুশফিক-সাকিব-তামিমরা। আমাদের প্রত্যাশা এভাবেই ক্রিকেট পরাশক্তিদের হারিয়ে এগিয়ে যাবে টাইগার বাহিনী। ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ