ঈদের আনন্দ ঘর থেকে ঘরে || ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক সবার অন্তর

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

আগামীকাল শনিবার পবিত্র ঈদুল আযহা। মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম  উৎসব। ঈদুল আযহা ‘কুরবানি ঈদ’ হিসিবেও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত। আপাত দৃষ্টিতে কুরবানি করা হয় তা মুলতঃ ইসলামী শরিয়তের নিয়মাবলির অংশ হিসেবে। এর মৌলিক শিক্ষা হল পৃথিবীর লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ অনৈতিকতার দ্বারা মানুষের মধ্যে যে পশুত্ব তৈরি হয় তা পরিত্যাগ করা এবং নীতি নৈতিকতা মেনে জীবনকে পরিচালিত করা। অর্থাৎ ঈদুল আযহা ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হওয়ার শিক্ষা দেয়। এ জন্য মহান আল্লাহতাআলা বলেন, আল্লাহর কাছে তোমাদের রক্ত ও মাংস পৌঁছে না বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা ভাষাভাষিদের জন্য বিষয়টিকে আরো সহজ করে দিয়েছেন। কবির ভাষায়- ‘মনের পশুরে কর জবাই, পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই…।’ মনের মধ্যেকার পশুকে জবাই করে অন্তরাত্মাকে আলোকময় করতে পারলেই কেবল আল্লাহ ও জীব-জগতের প্রতি প্রেম-ভালবাসা, ভক্তি-শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীলতা অর্জন সম্ভব হবে। সুতরাং কুরবানির তাৎপর্যময় শিক্ষা হল একাগ্রচিত্তে নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহ তাআলার নিয়ম-নীতি ও পদ্ধতির দিকে নিজেকে সমর্পণ করা।
ইতোমধ্যেই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত প্রায় ২০ লাখ মুসল্লির সমবেত কণ্ঠে ‘লাব্বায়েক আল্লাহুমা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে আরাফাত ময়দান মুখরিত হয়েছে। পশু জবেহর মধ্য দিয়ে এবারের হজ্ব সম্পন্ন হয়েছে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের নাশকতামূলক কর্মকা- ঠেকাতে সৌদি সরকার কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল।
বাংলাদেশ থেকে এবার সৌদি আরবে হজে গেছেন  মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ২২৯ জন। হজ যাত্রী, হজ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, হজ ডেলিগেট, ধর্মমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৯৬ জন ভিসা পেয়েছিলেন। তবে ৩৬৭ জন সৌদি আরবে যেতে পারেননি। এরমধ্যে ৯৮ জন হজ অফিসে প্রতারণার অভিযোগ দিয়েছেন। বাকি ২৬৯ জনের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
নাড়ির টানে ইতোমধ্যেই নানা প্রান্তের মানুষ শেকড়ের কাছে ফিরে গেছেন এবং এখনো ফিরছেন। যানবাহনগুলোতে উপচেপড়া ভীড়। সড়কে তিব্রতর যানজট। বিড়ম্বনা আর ভোগান্তির শেষ নেই।  তবুও মা বাবা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদ-আনন্দ ভাগ করে নেয়ার মজাই আলাদা। কর্মস্থলে ফেরাটাও সকলের জন্য শুভ হোক, নিরাপদ হোক। ঈদের ছুটির দিনগুলিতে সড়ক দুর্ঘটনা একটি অনাহুত দুর্যোগ যা মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। একটু সতর্ক হলেই এই দুর্ঘটনা এড়ান যায়। গাড়িচালকদের দায়ত্বশীল ভূমিকা এই পরিস্থিতিকে অনেকটাই প্রশমিত করতে পারে। সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে সচেতন থাকবেন- আমরা এ প্রত্যাশাও করি।
ঈদুল আযহার তাৎপর্যময় শিক্ষা আমাদের জাতীয় জীবনকে মানবিক মূল্যবোধ  ও গণতান্ত্রিক চেতনায় দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ করুক। পরমত সহিষ্ণুতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানসহ মানবাধিকার সমুন্নত রাখার মাধ্যমে শান্তিময় বিশ্বসমাজ সমাজ গঠনে সকলকে উদ্বুদ্ধ করুক। ঈদুল আযহার মর্মবাণী আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়।
দৈনিক সোনার দেশের অগণিত পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভান্যুধায়ীদের প্রতি রইল  শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ