ঈদের পর এখনো মোকামে ফেরে নি চাতাল শ্রমিকরা || ঈশ্বরদীতে ৬ শতাধিক চাতাল বন্ধ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৭, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী


ঈদের পর থেকে এখন পর্যন্ত চাতালের শ্রমিকরা কাজে ফিরে না আসার কারণে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ঈশ্বরদী মোকামের ছয় শতাধিক চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। এসব চাতালে চাল উৎপাদন বন্ধ থাকায় মোকামের চাল বেচাকেনাও একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিন জয়নগর, মানিকনগর, দাশুড়িয়া, সলিমপুর, বরইচরাসহ ঈশ্বরদীর চাল মোকামের বিভিন্ন এলাকার চাতাল মালিক ও ধান চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এ চিত্র। ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েকদিনে এই মোকামে উৎপাদিত সব ধরনের চালের দাম বস্তা প্রতি (৮৪ কেজি) বেড়েছে ৬-৭শ টাকা করে। এদিকে শ্রমিকরা কাজে ফিরে না আসায় ঈদের পর থেকে এখনো পর্যন্ত এই মোকামের সাত শতাধিক চাল কলের মধ্যে এখন চাল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে কমপক্ষে ৬শ চাল কলে।
ঈশ্বরদী উপজেলা ধান-চাউল ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক আলী বিশ্বাস জানান, এমনিতেই এখন ধান কিনে চাল তৈরির পর বিক্রি করতে গেলে লাভের বদলে ট্রাক প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। তারওপর ঈদের ছুটির পর এখন পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজে ফিরে না আসায় মোকামে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
চাতাল মালিকরা জানান, ঈদুল আজহার আগে মোকামের চাতালগুলি কয়েকদিনের জন্য ঈদের ছুটি হিসেবে বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু সে ছুটির পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ শতাধিক চাতাল চালু করা যায় নি। ব্যবসায়ীরা জানান, এভাবে চলতে থাকলে ঈশ্বরদী মোকামে হাসকিং চালের মিলগুলি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। চাতাল মালিকরা জানান, ইতোমধ্যে ঈশ্বরদী মোকামে ক্রেতাশূন্য অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চালু চাতালগুলোয় যা চাল উৎপাদন হচ্ছে তাও বিক্রি হচ্ছে না বললেই চলে। চাল ক্রেতার অভাবে বেশিরভাগ চালই অবিক্রিত পড়ে থাকছে বলে জানান চাল ব্যবসায়ীরা। চালের বাজার বেড়ে যাওয়ার করণে এমনটি হচ্ছে বলে জানান উপজেলা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি খায়রুল ইসলাম।
উপজেলা ধান চাউল ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব অনুযায়ী, মিনিকেট, আটাশ, উনত্রিশ, পারিজা, নতুন গুটিস্বর্ণা, বিনা-৭ ও উনচল্লি¬শ চালসহ এই মোকামে উৎপাদিত সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।
উপজেলা ধান চাউল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্ল¬¬া জানান, বাজারে ধানের দামের সঙ্গে চালের বাজার মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় ঈশ্বরদী মোকামে উৎপাদিত চালের মূল্য হুহু করে বাড়ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ঈশ্বরদী মোকামের মিলগুলি বন্ধ থাকায় বিভিন্ন চালের আড়তে থাকা চালগুলি বিক্রি করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ