ঈদের শপিং

আপডেট: জুন ২৫, ২০১৭, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

আরাফাত শাহীন


চন্দনের আজ বাসা ফিরতে মোটেও ইচ্ছা করছে না। তার অবশ্য কারণও আছে। বাসায় গেলেই বউয়ের সেই একই প্যানপ্যানানি। ‘ঈদের শপিং করতে যেতে হবে’। এছাড়া তার মুখে আর কোনো কথা নেই।
ঈদের আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত চন্দনের পকেট একেবারে ফাঁকা। অফিসে আজ বিল দেবার কথা ছিলো। কিন্তু অফিসে এসে ও শুনতে পায় বস দেশের বাইরে আছেন। বিল আজ পাওয়া যাবে না। কবে দেশে ফিরবেন, তারও কোনো ঠিক নেই। চন্দনের মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেছে। বাসায় ফেরার ইচ্ছাটা একদম নেই। চন্দন সাধারণত অফিস টাইম ছাড়া একদম ঘরের বাইরে থাকে না। বেশিরভাগ সময়ই সে স্ত্রী শান্তার সাথে কাটায়। বাকি সময় পড়াশুনা আর লেখালেখিতে কাটিয়ে দেয়।
চন্দন একটা ছোটখাটো পত্রিকা অফিসে কাজ করে। মাসে ত্রিশটা দিন অফিসে গাধার মত খাটতে হয়। অসুখবিসুখ কিংবা জরুরী কোনো প্রয়োজনেও ছুটি পাওয়া মুশকিল। তারপরও ঠিকমত বেতন পাওয়া যায় না। চন্দনের জীবনটা আগাগোড়াই সংগ্রামে পরিপূর্ণ। সেই ছোটবেলায় বাবা মারা যায়। চন্দনের মা বহু কষ্টে ওকে মানুষ করেছে। কখনো-সখনো তাকে অন্যের বাড়িতেও কাজ করতে হয়েছে। বাবা বেঁচে থাকতে অবশ্য চন্দনদের তেমন কোনো দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হয়নি। ভালো খাবার খাওয়া, ভালো পোশাক পরাÑ সর্বোপরি গ্রামের আর দশজনের চেয়ে ওদের অবস্থা বেশ ভালোই ছিলো। বাবা মারা যাবার পরেই তাদের পরিবারে এমন দুর্গতি শুরু হয়। চন্দন নিজে অবশ্য ওর পরিবারের স্বচ্ছলতা দেখেনি। মায়ের মুখ থেকেই সব শোনা।
বহু কষ্টে গ্রামে থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পড়াশুনা শেষ করে ও। তারপর একদিক ঢাকা শহরে চলে আসে ওরা; আসতে বাধ্য হয়। চন্দনের বাবারা ছিলেন দুই ভাই। চন্দনের চাচা গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি করার মত লোক দশ গ্রামে নেই। চন্দনের বাবার মৃত্যুর পর তার ক্ষমতা আর প্রতিপত্তি যেন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তার ঔদ্ধত্য চরম সীমা অতিক্রম করে। চন্দনের চাচা শুধু প্রভাবশালীই ছিলেন না; সেইসাথে নিষ্ঠুর আর লোভীও। তার লোভের কোনো দাড়ি-কমা ছিলো না। একসময় তার লোভের চক্ষু গিয়ে পড়ে চন্দনদের বাড়ির জমিটুকুর উপর। এই জমিটুকু ছাড়া ওদের আর কিছুই ছিলো না। চন্দনের চাচা সেই জমিটুকুও গ্রাস করে নিলো। চন্দনের মা জানতো প্রতিবাদ করে কোনো লাভ হবে না। তার দেবরের বিরুদ্ধে গ্রামের একটা লোকও মুখ খুলবে না। উল্টো অসহায় পেয়ে ওদেরও ফাঁসিয়ে দিতে পারে। এ সমাজে যতই ন্যায়বিচারের কথা বলা হোক, সেটা তাদেরই জন্য যাদের ক্ষমতা আর প্রভাব লাগামহীন। গরীবের ন্যায়বিচার পেতে চাওয়া এখানে বাতুলতামাত্র। চন্দন তার কর্তব্য স্থির করে ফেলে। একরাতে মাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। পেছনে পড়ে থাকে বসতভিটা আর সঙ্গে করে নিয়ে আসে এক সমুদ্র কষ্ট।

২.
পরদিন সকালবেলা ঢাকা শহরে এসে পৌঁছে ওরা মা-ছেলে। এই অচেনা অজানা পথঘাট যে ওরা কীভাবে অতিক্রম করে এসেছে কেউই তা বলতে পারে না। কেমন যেন একপ্রকার ঘোরলাগা স্বপ্নের মত ওরা এসে পৌঁছে গিয়েছে এক অচেনা রাজ্যে! এ শহরের কেনোকিছুই ওদের পরিচিত নয়; না পথঘাট, না মানুষজন। কোনো পরিচিত মানুষের কাছে থাকা তাই সম্ভবপর হয়নি। একটি রাত তো গাড়িতেই পার হয়ে গেছে। কিছু খাবার মুখে দিয়ে ওরা বেরিয়ে পড়ে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে পাবার আশায়। ঢাকা শহরÑ এখানে সামান্য একটু মাথা গোঁজার মত জায়গা খুঁজে পাওয়া সহজ ব্যাপার নয়। সারাদিন ঘুরে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে ওরা মা-ছেলে। একটু থাকার মত জায়গা ওরা অবশ্য পেয়েছিল তিনদিন পর। চন্দন একথা আজ লজ্জায় মুখ ফুটে স্বীকার করতে পারে না। তবে বাস্তব সত্য হলো, কোনো থাকার মত জায়গা না পেয়ে দুরাত ওরা ফুটপাথে ঘুমাতে বাধ্য হয়েছে। তারপর অবশ্য স্রষ্টা ওদের দিকে মুখ তুলে চেয়েছেন। মীরপুরের ওদিকে বস্তির একটা ঝুঁপড়ি ঘরে ওদের থাকার ব্যবস্থা হয়ে যায়।
থাকার চিন্তা না হয় মিটে গেল। কিন্তু খাবার চিন্তা কি সহজে মিটলো? সঞ্চয় যা আছে তা দিয়ে আর কয়দিনই বা চলে! ফলে ওদের জন্য কাজের সন্ধানে নেমে পড়া অনিবার্য হয়ে পড়লো। চন্দন কোনোদিনও চাইতো না যে ওর মা অন্যের বাড়িতে কাজের জন্য যাক। কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে ও উপেক্ষা করবে কীভাবে! বস্তিতে ওঠার তিনদিনের মাথায় চন্দনের মা একটা বাসা-বাড়িতে কাজের ব্যবস্থা করে ফেললো; রান্নার কাজ। মালিক বেশ ভদ্রলোকই। রান্না শেষে ছেলের জন্য খাবারও নিয়ে আসা যেত। চন্দন নিজে এবার কাজের সন্ধানে মরিয়া হয়ে উঠলো। ঢাকা শহরে মাত্রই মাধ্যমিক পাশ করা একটি ছেলের জন্য কাজ খুঁজে পাওয়া কী এতই সহজ! চন্দনের জন্য সময়টা ছিলো এক দীর্ঘ বিভীষিকা।প্রায় একমাস ঘোরাঘুরির পর একটা কাজের জোগাড় ও করতে পারে। পত্রিকার প্রুফ দেখার কাজ। আজ যে পত্রিকাতে কাজ করছে এটাই ছিলো তার প্রথম কর্মস্থল। বহু চেষ্টা করেও আজ পর্যন্ত এরচে ভালো কোথাও যেতে পারেনি। প্রথমদিকে প্রুফ দেখার কাজ করলেও এখন ও একটি পাতার স¤পাদনার দায়িত্ব পালন করে। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি এক অদম্য আকর্ষণ ছিলো ওর। ফলে পত্রিকাতে এই কাজ নিয়ে ওর মাঝে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ কোনোদিনও দেখা যায়নি।
পত্রিকাতে কাজ করার পাশাপাশি চন্দন একটি কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে থাকে। এতে অবশ্য ওর পরিশ্রম অমানুষিক পর্যায়ে পৌঁছে যেত। কিন্তু পড়াশুনার প্রতি একটা অদম্য ইচ্ছাশক্তি ওকে এ পরিশ্রম মুখ বুঁজে সহ্য করতে সাহায্য করতো। নিজের জীবনের এই কষ্টকে চন্দন সহজভাবেই মেনে নিয়েছিলো। এছাড়া অবশ্যি কিছু করারও ছিলো না।
এভাবে দেখতে দেখতে প্রায় দুবছর কেটে যায়। চন্দন কলেজ জীবন শেষ করে অন্য একটা সরকারি কলেজে অনার্সে ভর্তি হয়ে পড়াশুনা অব্যাহত রাখে। তাদের উপার্জনের টাকায় অবশ্য দুজনের এ ছোট্ট সংসারটি কোনো রকমে চলে যেত।
সারাদিন একটানা প্রচ- খাটুনির ফলে মায়ের শরীর ক্রমাগত ভেঙ্গে যেতে থাকে। চন্দন বহুবার তাকে এই কাজ ছেড়ে দিতে বলেছে। কিন্তু মাকে ও কোনোভাবেই  রাজী করাতে পারেনি। ছেলের মুখের দিকে চেয়ে দিনরাত তার এ পরিশ্রম। অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে থাকাকালীন একদিন মা প্র- অসুস্থ হয়ে পড়ে। চন্দন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু গেলে কী হবে! যা হবার তা বহু আগেই হয়ে গিয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। চন্দন বিহ্বল হয়ে হাসপাতালের বারান্দায় বহুক্ষণ বসে থাকে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের বিরুদ্ধে ওর আর কীই বা করার আছে!

৩.
মায়ের মৃত্যুর পর পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ পুরোপুরি স্তিমিত হয়ে পড়ে। পড়াশুনা পুরোপুরি ছেড়ে দেয় ও। তবে লেখালেখির প্রতি একটি অদম্য নেশা পেয়ে বসে ওকে। সেজন্য পত্রিকার এ ছোট্ট চাকরীটি ত্যাগ করতে পারেনি।
মায়ের মৃত্যুর চার বছর পর শান্তাকে বিয়ে করে আনে চন্দন। চন্দনের মত শান্তারও দুইকূলে কেউ ছিলো না। দুজন হতভাগ্য মানুষকে স্রষ্টা কীভাবে যে একস্থানে এনে মিলিয়ে দিলেন তা কেবল তিনিই ভালো জানেন। অবশ্য শান্তার মত স্ত্রী পেয়ে চন্দনের গর্ব করাই উচিত। স্বামীর এই ছোট্ট উপার্জন দিয়ে দু’জনের এ সংসারটাকে কীভাবে যে সে চালিয়ে নেয় চন্দন তা কোনোদিনও বুঝতে পারেনি। শান্তা প্রবলভাবে সংসারী আর চন্দন ঠিক তার উল্টো। ফলে সংসার সামলানোর মত গুরুদায়িত্ব একা শান্তাকেই পালন করতে হয়। শান্তা যে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব বেশ ভালোভাবেই পালন করে তা তাদের ছোট্ট গোছানো ছিমছাম বাসাটিতে একবার চোখ বুলালেই ¯পষ্ট বোঝা যায়।
শান্তাকে বিয়ে করার পূর্বেই চন্দন এই নতুন বাসাটিতে এসে ওঠে। নতুন বউকে নিয়ে বস্তির ওই ঝুঁপড়ি ঘরে উঠতে ওর মনে একদম সায় পায়নি। যদিও এজন্য ওর খরচ পূর্বের চেয়ে বহুগুণে বেড়ে গিয়েছে। তবুও এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। যেভাবেই হোক সংসার তো ঠিকই চলে যাচ্ছে! এমনিতে শান্তা খুব হিসেবি মেয়ে। বিনা কারণে সে একটি পয়সাও বাড়তি খরচ করে না। বরং কী করে দু-এক টাকা বাঁচানো যায় সেদিকেই তার চিন্তা। এইতো কদিন আগে শান্তার জমানো টাকা দিয়ে চন্দনকে একটা হাতঘড়ি কিনে দিয়েছে। শান্তার মতে, লেখক মানুষের একটা হাতঘড়ি না হলে কিছুতেই চলে না।
শান্তা এই যে শপিং করার জন্য চন্দনকে বারবার তাগাদা দিয়ে যাচ্ছে এজন্য অবশ্য তাকে খুব একটা দোষ দেওয়া যায় না।দুবছর হলো বিয়ে হয়েছে ওদের। কোনো একটা ঈদেও শান্তাকে ও কিছু কিনে দিতে পারেনি। তবে এজন্য শান্তা কোনোদিনও অভিযোগ করেনি। স্বামীর আর্থিক অবস্থাটা সে বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারে।

৪.
রমনা পার্কের একটা বেঞ্চিতে উদাস চোখে বসে আছে চন্দন। তার দৃষ্টি এই মুহূর্তে ঠিক কোনদিকে তা বলা মুশকিল। বিকেলের ¤¬ান হয়ে আসা আকাশের দিকে কিংবা ওর সামনেই মাথা উঁচু করে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল সিরিষ গাছটির দিকে। পৃথিবীর কোনোকিছুর দিকেই ওর কোনো খেয়াল নেই। তবুও ওর মাথার ভিতর ঘুরপাক খাচ্ছে শত চিন্তার জাল। চিন্তাগুলো ওকে কুঁরে কুঁরে খাচ্ছে। ঈদের আগে কিছু বাজার করা ওর উচিত; নিজের জন্য নাহোক অন্তত শান্তার জন্য হলেও। আজ পর্যন্ত তেমন কিছুই শান্তাকে দেওয়া হয়নি। শান্তাও মুখ ফুটে কোনোদিন কিছু চায়নি। কিন্তু তা না হলে কী হবেÑ ওর মনেও তো একটা স্বাভাবিক চাহিদা আছে! স্বামীর কাছ থেকে প্রতিটা মেয়েরই কিছু না কিছু পেতে ইচ্ছা করে। মুখ বুঁজে ও আসলে অনেক কিছুই সহ্য করে। চন্দন সমস্তই বুঝতে পারে। শান্তার জম্য সামান্য কিছু হলেও কেনার আকাঙ্খা তীব্র হয় ওর মাঝে। কিন্তু কীভাবে কিনবে সেটাই এখন সবচেয়ে বড় দুঃশ্চিন্তা।
চারিদিক হতে ধেয়ে আসা শত চিন্তার জট খুলতে ব্যর্থ হচ্ছিল চন্দন, ঠিক তখনই ওকে এসব চিন্তা হতে উদ্ধার করার জন্যই হয়ত পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটা বেজে ওঠে। মুহূর্তেই সমস্ত চিন্তার জাল ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে না তাকিয়েও চন্দন বুঝতে পারে এটা কার ফোন। তবুও অভ্যাসমত ফোন রিসিভ করার আগে একবার স্ক্রিনের দিকে চোখ বুলিয়ে নেয়। চন্দনের ঠোটের কোণে ফুটে ওঠে এক টুকরো বিষণè হাসি। ফোনের ওপাশে শান্তার উদগ্রীব কন্ঠস্বর শোনা যায়,  কোথায় তুমি? আজ এত দেরি হচ্ছে কেন আসতে?
এই তো রাস্তায় আছি। কিছুক্ষণের মাঝেই আসছি। অকপটে মিথ্যা কথাটি বলে ফেলে চন্দন।
তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে আসো। তুমি না এলে আমার কিছুতেই ভালো লাগছে না।
কেন? কিছু হয়েছে নাকি? অজানা আশংকায় কেঁপে ওঠে চন্দনের বুক।
কিচ্ছু হয়নি। শুধু তুমি দ্রুত বাসায় চলে আসো।
এক্ষুণি আসছি।
ফোন কেটে দিয়ে দ্রুত বাসার দিকে রওনা হয় চন্দন। ওর মনটাও উদগ্রীব হয়ে উঠেছে বাসায় ফেরার জন্য।
বাসায় প্রবেশ করে রুমে ঢুকতেই চন্দনের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। নিজের চোখকে ও কোনোমতেই বিশ্বাস করতে পারে না। এটা বাস্তব নাকি ওর মনের উদ্ভট কল্পনা?  শান্তা হাসিহাসি মুখ করে রুমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। ওর সামনে সারি সারি সাজানো নতুন কেনা পাঞ্জাবি, প্যান্ট, জুতো এবং শার্ট। চন্দন এতক্ষণ খেয়াল করেনি। শান্তার পরনেও লাল টুকটুকে নতুন শাড়ি। লাল রং চন্দনের অত্যন্ত প্রিয়; শান্তা এটা জানে। শান্তা মুখটা হাসিহাসি রেখেই বলে, তোমার জন্য এগুলো কিনলাম। কেমন হয়েছে বলো তো?
তুমি এগুলো যোগাড় করলে কীভাবে? চন্দনের ঘোর কাটেনি এখনও।
তুমিই আন্দাজ করে বলো!
শান্তার চোখেমুখে রহস্যের ছাপ ¯পষ্ট।
আমি কীভাবে বলবো? তুমিই বুঝিয়ে বলো।
এবার শান্তা ব্যাখ্যা করে, তুমি অফিসে চলে যাবার পর আমি প্রতিদিন বাসায় কয়েকটি বাচ্চাকে পড়াই। তুমি জানলে রাগ করতে পারো তাই জানাইনি। এক বছর ধরে এই টাকা আমি জমিয়েছি শুধু আজকের এই দিনটির জন্য। তুমি কী আমার উপর রাগ করেছো?
চন্দন বুঝতে পারে না এখন ওর কী করা উচিত। ও কোনো কথা বলতে পারে না সহসা। অবরুদ্ধ এক আবেশ সারা দেহমনে ছড়িয়ে পড়ে ওর। শত চেষ্টা করেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। চোখের কোণা বেয়ে দুফোঁটা অশ্রু টুপ করে ঝরে পড়ে ঘরের মেঝের উপর।