ঈদে ভিজিএফ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রাজশাহীর দেড়লাখ অস্বচ্ছল পরিবার

আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০১৭, ১:২৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


সরকারের দেয়া ভার্নারেবল গ্রুপ ফিটিং (ভিজিএফ) ঈদ খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার অতিদরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারগুলো। আর একদিন পর ঈদ উল আযহা। প্রতিবছর পবিত্র ঈদকে সামনে রাখে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি খাতে অতিদরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারকে ১০ কেজি করে ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদান করে সরকার। কিন্তু এবারের ঈদুল আযহায় জেলার ১ লাখ ৫১ হাজার ১৬৯ টি অতিদরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবার সরকারের এ বিশেষ বরাদ্দের খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা যায়, রাজশাহী জেলায় ৯টি উপজেলা ও ১৪টি পৌরসভায় ভিজিএফ’র কার্ডের সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ১৬৯টি। যার মধ্যে উপজেলাগুলোতে এক লাখ ৪ হাজার ৯৫৭ এবং ১৪টি পৌর সভায় ৪৬ হাজার ২১২টি কার্ড রয়েছে। অতিদরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে সরকারি বিশেষ বরাদ্দের জন্য প্রয়োজন ১ হাজার ৫শ’ ১২ মেট্রিক টন খাদ্য।
জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন অফিস সুত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করার জন্য সারাদেশসহ রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় দেয়া হচ্ছে না। দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যায় এখনো অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। এসব বানভাসি মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। বেশিরভাগ মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলসহ পানিতে ডুবে গেছে। তাই ভিজিএফ সহায়তা বন্ধ করা হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন উপজেলার অতিদরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারের অনেকে কথা হলে তারা বলেছেন, গত ঈদ-উল-ফিতরে ভিজিএফ এর ১০ কেজি চালের সহায়তা পেয়েছি। কিন্তু এবার ঈদ উল আযহায় সরকারের দেয়া এ সহায়তা পেলাম না এখন পর্যন্ত। ভিজিএফ কার্ড ধারীদের মধ্যেও অনেকে এখন বন্যায় কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়েছে। ফলে এবারের ঈদ যেন তদের কাছে একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের দেয়া বিধবা, মাতৃত্বকালীন ও বয়স্ক ভাতা প্রদান করা হয়। তারপরেও অসহায় মানুষ দুই ঈদে ভিজিএফ কার্ডের সহায়তা পেয়ে থাকেন। কিন্তু এবার ঈদুল আযহায় বন্যার্তদের টানতে এদের বরাদ্দ স্থগিত করেছেন সরকার বলে জানা যায়। কিন্তু অনেকে এখনো প্রতীক্ষায় আছেন সহায়তা পাবার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলেন, বন্যা ও বানভাসি মানুষকে বাঁচাতে সরকার ভিজিএফ’র বিশেষ বরাদ্দ বাতিল করেছেন। খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বরাদ্দ না থাকায় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না এবার ঈদে।
জেলার বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম বলেন, অতিদরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও অস্বচ্ছল পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা প্রদানের সময় আছে। এছাড়া দেশে এবছর পর্যাপ্ত পরিমাণে বন্যা হয়েছে। বন্যার্তদের সহায়তা করতে গিয়ে এবারে এই উপজেলায় এখন পর্যন্ত সহায়তা আসে নাই। তবে আসলে তাৎক্ষণিক বিতরণ করা হবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না থাকায় এখন পর্যন্ত এবারের ভিজিএফ’র বরাদ্দ দেয়া হয় নি। তবে কী কারণে ভিজিএফ বরাদ্দ বন্ধ আছে তা জানা নেই। যদি বরাদ্দ চলে আসে তবে তা বিতরণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ