ঈদ আমাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি

আপডেট: জুন ২৫, ২০১৭, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

হাদিউল হৃদয়


মাহে রমযান শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ্’র জন্য বছরান্তে নিয়ে আসে খুশির পয়গাম। ঈদ অর্থ খুশি। এ খুশি সকল মুসলমানের জন্য, তবে যারা রমযানের একটি মাস আল্লাহ্র হুকুম পালনার্থে সুবহে-সাদেক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকলে তাদের জন্যই মূলত ‘ঈদ’ খুশির পয়গাম নিয়ে আসে। ঈদুল ফিতরের দিনে নামায-এর পূর্বে সারা রমযান মাসকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে: প্রথম ভাগে রহমত, দ্বিতীয় ভাগে মাগফেরাত, তৃতীয় ভাগে নাযাত বা মুক্তি লাভ। এছাড়া রমযান মাসের শেষ দশ দিনের যে কোন বেজোড় রাতে শবে কদর রাত আছে, যে রাতকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলা হয়েছে। এই রাতের এবাদতের বদৌলতে মানুষের সকল গুনাহ্ আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন, মনের সকল আশা পূরণ করে থাকেন।
আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, যে ব্যক্তি রমযান মাস পায় এবং একমাস দিনে রোযা রাখার নিয়তে পানাহার ও খারাপী হতে বিরত থাকে, রাত্রিতে তারাবি নামাজ আদায় করে এবং ঈদুল ফিতর নামাজ আদায় করে ছালাম ফিরায় সাথে সাথে ঐ বান্দার গুনাহ্ মাফ করে দেওয়া হয়।
এছাড়া ঈদের গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ঈদের নামাযান্তে একে অপরের সাথে কোলাকুলি করা। এর মাধ্যমে মানুষ এক মুহূর্তের জন্য হলেও ভুলে যায় হিংসা-বিবাদ, ছোট-বড়, ধনী-গরিব, আশরাফ-আফতাব-এর ভেদাভেদ। করমর্দন ও বুকে বুকে আলিঙ্গনে প্রাণে প্রাণের উচ্ছ্বাস জেগে ওঠে। নতুন করে প্রাণে জাগ্রত হয় ভাতৃত্ববোধ। মুহূর্তের জন্য হলেও ভুলে গিয়ে দুঃখ-কষ্ট মন থেকে মুছে ফেলে জমে থাকা গ্লানি।
সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দলাদলি, হিংসা, প্রতিহিংসা ঢুকে গেছে। মানুষ তার নফসে আম্মারার দাসত্বে পরিণত হয়েছে। এর ফলে মানুষ পশুত্বের আচরণে অভ্যস্থ হয়ে পড়ছে। তাই ঈদ হতে আজ শিক্ষা নিতে হবে যে প্রত্যেক মুসলমান ভাই ভাই। মানুষ মানুষের জন্যÑ এ শিক্ষায় দীক্ষিত হতে পারলে সমাজ থেকে যত সন্ত্রাসী কর্মকা- আছে সবই দূর করা সম্ভব।
সমাজে আজ অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাব দিনে দিনে এত বেড়ে চলেছে যে এর ফলে ইসলামি সংস্কৃতি ও কৃষ্টি কালচার ভুলে মানুষ আবার অন্ধকার যুগে ফিরে যাচ্ছে। বিদেশি কৃষ্টি ও কালচার আজ মুসলমানদের ঘাড়ে জগদ্দল পাহাড়ের মত চেপে বসছে। এর থেকে উত্তরণের পথ হচ্ছে ইসলামি সংস্কৃতি ও কৃষ্টি কালচারে ভবিষৎ প্রজন্মকে উজ্জীবিত করা।
ঈদ মানুষকে হিংসা, বিবাদ, প্রতিহিংসা ভুলে, ছোট-বড়, ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসারিতে দাঁড়িয়ে নামায পড়তে বলে। দোয়ার পর একে অপরের সাথে ছালাম বিনিময়, করমর্দন, বুকে বুকে আলিঙ্গনÑ এই সব সবার মধ্যে ভালোবাসার স্পৃহা জাগিয়ে তোলে। এই অনুশীলন প্রত্যেকের জীবনে ধরে রাখতে হবে। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করার দৃঢ় সংকল্প থাকতে হবে মনে। পালন করতে হবে সারা বছর। সারা জীবন মানুষ মানুষকে ভালোবাসতে হবে। কেবল মাত্র তখনই এই পৃথিবীটা শান্তির আবাসস্থল হয়ে গড়ে উঠবে।
ঈদের সংস্কৃতি মানুষের জীবনে মঙ্গল বয়ে আনুক। প্রত্যেকে প্রত্যেকের পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি গড়ে উঠুকÑ এই হোক এবারের ঈদ প্রতাশা।