ঈদ খরচ বাঁচিয়ে দুস্থদের লাচ্ছা- সেমাই

আপডেট: জুন ২৫, ২০১৭, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


ওরা সকলেই তরুণ। পড়ে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওরা সংখ্যায় ৩০জন। নিজেদের ঈদ খরচ বাঁচিয়ে সেই টাকায় কিনেছে লাচ্ছা-সেমাই, চিনি। গতকাল শনিবার দুপুরে এলাকার ২৪০ জন গরিব দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল অধ্যূষিত খুবজীপুর ইউনিয়নে এসব তরুণদের বাড়ি। গতকাল খুবজীপুর আবদুুল হামিদ কমপ্লেক্সে ‘ঈদ উপকরণ’ বিতরণ অনুষ্ঠানে খুবজীপুর ইঊনিয়র পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবমহিলা লীগের যুগ্মসম্পাদক কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের  শিক্ষক অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, গুরুদাসপুর পাইলট মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্যাংকার খাইরুল ইসলাম, শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও আয়োজক সংগঠনের কো-ফাউন্ডার মুতাসিম বিল্লাহসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা। আয়োজক সংগঠনের কো-ফাউন্ডার মুতাসিম বিল্লাহ জানান, তাদের একটি  সংগঠন রয়েছে। নাম ‘ইয়ূথ-লেট দেয়ার বি লাইট’। ২০১৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করে সংগঠনটি গঠন করেন তারা। ওই বছর নিজেরা চাঁদা তুলে ‘ক্যাম্পেইন ফর কম্বল’ শিরোনামে ২৫০জনকে কম্বল বিতরণের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে।
২০১৫ সালে ‘বেঁচে থাকুক ঈদের খুশী’ শিরোনামে ২২০জনকে সেমাই লাচ্ছা ও ৫০জন শিশুকে নতুন পোষাক বিতরণ করে। ২০১৬-১৭তে ‘এই ঈদে হাসবে সবাই’ শিরোনামে লাচ্ছা সেমাই বিতরণ করা হয়। সংগঠনের কো-ফাউন্ডার জানালেন, প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য সামাজিক কাজ করা। ইতোমধ্যে তারা পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক কাজ করছেন। পাশাপাশি অসহায় পরিবারের বিয়ে শাদীতে সাধ্যমত সহায়তায় ভুমিকা রাখছেন তারা। এজন্য কোন রকম দান অনুদান নিচ্ছেনা তারা। সমাজের আলো ছড়ানোই তাদের উদ্দেশ্য। সংগঠনের অন্যতম সদস্য হচ্ছে রিপন সরকার, মিলন পারভেজ, রায়হান হোসেন, শাকিল হোসেন ও ফিরোজ মাহমুদ প্রমূখ। সংগঠনের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম জানালেন, এসব তরুনদের অধিকাংশ তার ছাত্র। তাদের সংগঠনে উপদেষ্টা থাকায় সম্ভাব্য সবধরনের সহযোগীতা করছেন তিনি।
খুবজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম জানালেন,  অন্যের কাছে কোন রকম সহযোগীতা ছাড়াই তরুণদের এমন উদ্যোগ প্রসংশিত হচ্ছে। এমন কর্মকা-ে সাধুবাদ জানান তিনি। কেন্দ্রীয় যুবমহিলা লীগের যুগ্মসম্পাদক কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি বলেন, দেশের তুরুণরা এমনভাবে দেশ সেবায় এগিয়ে এলে, দেশ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে উঠবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ