ঈদ-পার্বণ ও সম্প্রীতি

আপডেট: জুলাই ৪, ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

সুজিত সরকার


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কয়েক বছর আগে উচ্চারণ করেছিলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। আমরাও সেটা বিশ্বাস করতে চাই। করিও। কিন্তু তাঁর দলের কিছু নেতা ও কর্মীর আচরণ এই আদর্শিক উচ্চারণের ঠিক  উল্টো। সবকিছুতেই ধর্মের নসিহৎ করে। সমাজের দুর্বলতর যারা তাদের ওপর প্রভূত্ব প্রতিষ্ঠায় সব সময়ই ব্যস্ত থাকেন। দুর্বলের সম্পদ-সম্পত্তি করায়ত্ত্ব করতে যতো রকমের কৌশল আছে, তা প্রয়োগে ভুল করেন না। তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছের সঙ্গে কি তাদের দৈনন্দিন আরচণ, অপরাধপ্রবণতা মেলে? মেলে না। আর এদের কারণেই দলের এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়, হয় প্রশ্নবিদ্ধ। হ্রাস পায় জনপ্রিয়তা। তবুও এরাই দলে নেতৃত্ব দখল করে অবস্থান  নেয়। কেউ কেউ তো নেতৃত্ব পর্যায়ে উন্নীত হওয়ারও সুযোগ পেয়েছে, দুর্বল নেতার আখের গুছিয়ে দিতে। তা-ও হয় নেতাদের সহায়তায়। নেতারা এই সব দু’নম্বর, দুষ্কৃতিকারীদের মিষ্টি কথায় ভুলে যান, তাদেরই নেতৃত্বে অধিষ্ঠানের প্রমোট করেন। দেশবাসীর প্রত্যাশা এই সব নেতাকে দলের নেতৃত্ব থেকে দূরে রাখুন, তাদের অপরাধের বিরুদ্ধ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচনের পথকে সুস্থ ধারায় তৈরি করুন। নতুবা ভয়ঙ্কর বিপদ নেমে আসবে। অবশ্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেছেন, দলের আদর্শ বিরোধী অপকর্ম যারা করেছেন এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছেন তাদের আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ৃ হবে না। তারপরও যদি সেটা ঘটে, দেশবাসী কিন্তু সভানেত্রীকেই দায়ী করবেন। কারণ তিনি কথা রাখেননি। আমরা ঈদের আনন্দকে সে কথার বিশ্বাসে উপভোগ করতে চাই। এটা আমাদের প্রথম পরামর্শ। তবে এটাও ঠিক যে আমরা মাঠ ছাড়িনি, অপরাধীদের পক্ষেও অবস্থান নেবো না। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এই মন্ত্র নিয়েই মাঠে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করবো। যেমন একাত্তরে করেছিলাম। যুদ্ধের মাঠই ছিলো ঈদের ময়দান। শপথের চারণভূমি। অঙ্গীকারের বজ্রমুঠি শূন্যে তুলে শত্রু নিধনের প্রতিজ্ঞা গ্রহণের আরেক অনুশীলন।
ঈদ উদ্যাপিত হলো গত ২৬ জুন। মনে পড়ছে কৈশোরের কথা। সেকালে আমরা ঈদের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতাম লুকিয়ে। পাছে অভিভাবকেরা জেনে যান, তাহলে গাল-মন্দ শুনতে হবে। এমন কি মারপিটের স্বাদও উপভোগ করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতাম না। সন্ধেবেলায় লুকিয়ে আমরা ৫-৭জন বন্ধু মিলে যেতাম হান্নান-মন্টু-টগরদের বাড়ি। ওরাও রাস্তা থেকে আমাদের নিয়ে যেতা। একসঙ্গে ইশকুলে পড়ি। খেলি, জাতীয় সঙ্গীত গাই, সেই আমরা কেনো ঈদের খাবারে অংশ নিতে পারবো না? নানা রকম সেমাই- কোনো হিন্দু পরিবারে তৈরি হতো না। পায়েশ, বাজারের মিষ্টি, পিঠে ইত্যাদি হিন্দু পরিবারে তৈরি হয়। কিন্তু সেমাই নয়। কেনো জানি না।
মুক্তিযুদ্ধের বছর ঈদ হয়েছিলো শীতে। তখনো যুদ্ধ শেষ হয়নি। তবে শেষের পথে। পাকিস্তানিরা চারিদিকে মার খেয়ে সন্ত্রস্ত। ঘরে উঠে গেছে। আমি তখন দেশের ভেতরে। বাবা-মা এবং পরিবারের সবাই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাটে কাছে এক বাজারের পাশে নির্মিত ছাউনিতে। আমার সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিলে না। ইশকুলের বোর্ডিঙে আটকা পড়েছিলাম, তারপর সেখান থেকে পালিয়ে পথে চলা উদ্বাস্তু মানুষের সঙ্গে বন্ধু যদুকে নিয়ে ভারতে পাড়ি জামাই। সেখানেই মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্পে কাজ করি এবং শেষাব্দি তালিকাভুক্ত হই। সে সুবাদে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বাংলাদেশে প্রবেশ। ছোটখাটো অপারেশনে অংশগ্রহণ। ওই বছর ঈদের আগে গ্রামে আসি। আমার উপস্থিতি গ্রামের সবাই সানন্দে গ্রহণ করে এবং গ্রামবাসী আমাকে থাকা-খাওয়ারও ব্যবস্থা করে। আমাদের এলাকা চলনবিলের উত্তর পাড়ে। সে বছর বৃষ্টি আর বন্যাও হয়েছিলো প্রচুর। ফলে এক্কেবারে গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পৌঁছুতে পারেনি। তারা মাধে-মধ্যে চলনবিলের মাছ শিকারীদের নৌকা স্পিডবোর্ডে তল্লাশ করেছে। কিন্তু পায়নি কিছুই। তারপরও মাৎস্যজীবীদের নানা ধরনের হয়রানি হানাদার বাহিনী আর তাদের এদেশীয় দালাল-দোসর রাজাকার-শান্তি কমিটির সদস্যরা করে তিক্ত-বিরক্ত করেছে। আমরা গ্রামে উপস্থিত হলে গ্রামবাসী এই সব দেশীয় দালাল-দোসরদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছে। ঈদের দিন আমাদের বিশেষ নিমন্ত্রণ। সেদিন গ্রামবাসী আমাদের বিশেষভাবে আপ্যায়ন করবে। সবার সঙ্গে আমিও গেছি ঈদের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে। ভয়ও ছিলো, গ্রামের সবাই তো আর এক মানসিকতার নয়। যারা পাকিস্তানিদের পক্ষে যুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনে তারাও অনেকটা আত্মসমর্পণের মানসিকতায় মূল ধারার সঙ্গে মেলার চেষ্টা করেছে।
যুদ্ধের আগে আমি-যদু-স্বপন-রবি-মনি-সুনীল আরো অনেকেই লুকিয়ে যেতাম। একবার গ্রামের মোড়ল গোছের এক ব্যক্তি আমাদের ঈদের নিমন্ত্রণ রক্ষার তথ্যটা কীভাবে যেনো জেনে যান। তিনি তো আমাদের অপরাধের অভিযোগ উত্থাপন করে সালিশ ডেকে বসেন। আমরা ভয় পেয়ে যাই। বাবা-কাকার সম্মান কি ভূ-লুণ্ঠিত করলাম নাকি! ভয়ে এক্কেবারে সেদ্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। সালিশ বসলো, কিন্তু কাকামশাই আমাদের পক্ষ নিলে ওই মাতবরের সঙ্গে তাঁর উত্যক্ত বাক্য বিনিময় হয়। সব আয়োজন ভেস্তে যায়। কাকামশাই বলেছিলেন, হিন্দু-মুসলমান মানি না। মানি আচরণ। যার আচরণ আত্মঘাতী সে কী করে অন্যের বিচার করে? এ সালিশ মানি না। যে যেখানে যার বাড়িতে খুশি এবং যার যেখানে রুচি হবে খাবে। আমরা এক গ্রামের সম্প্রীতি নিয়ে মিলে-মিশে বাস করতে চাই। মুসলমানেরাও অনেকে  আমাদের দুর্গোৎসবে এসে লুচি-মিষ্টি, নিরামিশ পরিতৃপ্তির সঙ্গে খায়। ওদের ধর্ম তখন পালায় না তো! আমাদের কেনো ওদের বাড়িতে খেলে ধর্ম নষ্ট হবে। আর সে অভিযোগে যদি কারো বিরুদ্ধে সালিশ ডাকতে হয়, তাহলে আগে তো আজকে যে সালিশ আহ্বান করেছে, তারই আগে বিচার হওয়া প্রয়োজন। কেনো না, সে-ই ঈদে মুসলমানপাড়ায় যায়।
পরে আমরাও দেখেছি, সালিশ আহ্বানকারী কাকামশাইয়ের সঙ্গে কোরবানির ঈদে মফিজ কাকার বাড়িতে রীতিমতো বিরিয়ানি খাচ্ছেন। আমরা বন্ধুরা সবাই গেছি মাংস খেতে। কাকামশাই আর উক্ত ব্যক্তির কণ্ঠস্বর বাইরে থেকে শুনতে পেয়েই আমরা পিছু টান যেই দিতে যাচ্ছি, অমনি মফিজ কাকা তার ছেলেকে আমাদের বাড়ির ভেতরে নিয়ে বসানোর আদেশ দিলেন। আমরা অসুবিধের কথা তাকে বলে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। তিনি শুধু বললেন, প্রাণবন্ধুও তো বৈঠকে বসে খাচ্ছে। ও এবার বেশি মাতবরি করলে ওরই বিচার হবে। আমরা ভয়ে ভয়ে ভেতরে গেলাম। দীর্ঘক্ষণ ধরে গল্প-গুজব করে খেয়ে বাড়ি ফিরলাম। জানি না, আমাদের ধর্ম সেদিন নষ্ট করেছিলাম কি না। বাড়িতে ফিরতেই দেখি ওই মাতবর আমাদের বৈঠকখানায় বসে কাকার সঙ্গে দিব্বি হুঁকো টানছেন আর ভোজের স্তুতি-প্রশংসা করছেন। বলছেন, যাই বলো বসন্তদা, মুসলমানেরা খুব সুন্দর মাংস রাধে। আমাদের বউগুলো পারে না কেনো? আমরা কি তেল-মসলা কম দিই? আমাদের আসতে দেখেই কাকামশাই জিজ্ঞেস করলেন, কি রে পাগলা (আমাকে কাকামশাই এই সম্বোধন করতেন) কেমন হলো তোদের খাওয়া? ভালো বলেই আমরা দ্রুত ভেতরে গেলাম। কাকামশাই মাতবরকে তখন বলছিলেন, ভাইরে, তুই যে ধর্মরক্ষার চিন্তায় বিচার-সালিশ ডাকিস্, উৎকণ্ঠিত হোস্, তাতে কি ধর্মে কোনো লাভ হয়, বলতো? মানুষকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে, রুচির বিরুদ্ধে কি নিয়ে যেতে পারবি? দেশটা স্বাধীন হয়েছে কেবল মুসলমানের একার অবদানে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র জাতির অবদানে। অংশগ্রহণে। নাকি? জাতি মানে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিশ্চান, পাহাড়ি-আদিবাসী সবার ত্যাগ-ভালোবাসা আছে এই দেশটার জন্যে। আমরা যুদ্ধ করিনি, কিন্তু সম্পদ হারিয়েছি। দেশত্যাগের যন্ত্রণা কতো বড়ো তা তো বুঝেছিস্? তারপরও কেনো হিন্দু-মুসলমানের ভেদ টেনে নিজের ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠায় কোমরে গামছা বাঁধিস্? তোর রুচি না হলে গোরুর মাংস খাবি না। তুই তো কচ্ছপ খাস, ওরা খায় না। তাতে কি রক্তের কোনো তারমত্য ঘটেছে? খ্রিশ্চানরা শুয়োরের মাংস খায়, তুই কিংবা মফিজ-মুজিবর অসুস্থ হলে তাদের খ্রিস্টফার পালমা রক্ত দিলে চিকিৎসক কি বলেন, শুয়োরের মাংসে তৈরি রক্ত নেয়া যাবে না। রক্ত যদি একই প্রক্রিয়ায় শরীরে তৈরি হয়, তবে খেতে বাধা কোথায়? রুচি হলেই সেটা হালাল। অরুচি-অপরিচ্ছন্নতাই বেহালাল। আমি তো সুশীল ঠাকুরের বাড়ির অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে এক গ্লাস জলও খাই না। ঘেন্না করে। আসল বিষয় সততা, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ। মানুষকে ভালোবাসা। চ-ীদাস বলেছিলেন, ‘শোন রে মানুষ ভাই, সবার ওপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’ কবি-মহাজনেরা বলেছেন, ‘জগৎ ভমরিয়া দেখি একই মানুষ’ জ্ঞানী-গুণিদের এ সব কেবলই মুখস্ত করার বিষয় নয়, মান্যেরও। যারা এ সব মানে না, তারা আর যা-ই হোক মানুষ অন্ততঃ নয়। ধর্মও সে মহৎবাণী প্রচার করে। কে মানলো আর কে মানলো না, তার বিচার কিন্তু এই জগৎ সংসারেই হয়। কেউ সুনামের ভাগিদার হয়, কেউ দুর্নাম-দুস্কৃতিকারীর। রবীন্দ্রনাথ তাই বেঁচে থাকেন, বিভীষণ-মীর জাফর-জিয়া-মোস্তাক বিশ্বাসঘাতকের দুর্গন্ধ ছড়ায়। এইখানেই ধর্ম আর অধর্মের পরিচয় মেলে। তাতে কেউ হন সম্মানের অধিকারী, কেউ অসম্মান-ঘৃণার পাত্র। হযরত আলী আর মোয়াবিয়া সে কারণেই অভিন্ন নন। স্বতন্ত্র। রুবাইয়াৎ-শাহ্নামা রচয়িতা তাই তো অমর। আর আজকের তুই-আমি সে তুলনায় নস্যি। মানুষ-অমানুষের মধ্যবর্তী অবস্থানে। তাই বিবেককে শাণিত কর, সব অনুধাবন করতে পারবি।
আসল কথা, আধুনিক কালের এই ছেলেদের তুই ধরে রাখতে পারবি? ওরা গোপনে, লুকিয়ে মুসলমান বাড়িতে খাবে কেনো? প্রকাশ্যে খাক, মর্দের বাচ্চার মতো সেখানে যাতায়াত করুক। গ্রামে সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যময় পরিবেশ গড়ে উঠুক। সে দায়িত্ব আমাদের। তুই আজ খেয়ে এলি তোর শরীরের পরিবর্তন ঘটেছে। তোর সঙ্গে গোলাম কিংবা সাব্বিরের শরীরের কী পার্থক্য? কিছুই না। মাঝখানে ওদের সঙ্গে শত্রুতার পথ বাধিস্, এটা শোভন ও মানবিকতা নয়। ধর্ম মানবিক হতে বলেছে। খাদ্যাখাদ্যের বাছ-বিচার করতে নয়। পরিবেশ গুণে সেটার তারতম্য হয়। মাতবর সব শুনে বলে, কি জানি দাদা অতো সব বুঝি না। তবু মনটা কেমন খচ্খচ্ করে। মনে হয়, এই বুঝি জাত-ধর্ম সব গেলো। বই পড়, সমাজের অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ওঠ্বোস্ কর। সব ঠিক হয়ে যাবে। আর ভাবতে শেখ, তোর জন্মের ইতিবৃত্ত। সকল প্রাণির জন্মই একই সূত্রে। দেখ তোর বেঁচে থাকার খতিয়ান। বাজারে তুই যে পণ্য কিনিস্ সামসুলও সেই পণ্য কেনে। মুসলমান বলে ওর কাছে কোনো বিক্রেতা কি কম আর তোর কাছে বেশি মূল্য নেয়? নেয় না। তোর ছেলে যে বই পড়ে আইএ পাস করেছে, রিয়াজের ছেলেও ওই একই বই পড়ে শিক্ষিত হয়েছে। দু’জনের ডিগ্রির মূল্যের মধ্যে কি তারতম্য আছে? যদি না থাকে, খাদ্যাভাসেও নেই। সব রুচি। সবাই দেশ-সমাজ গড়ার প্রশ্নে অভিন্ন চিন্তা ও কর্মের অধিকারী হলে, মানুষ আর দেশকে ভালোবাসলে দেশের উন্নতি হয়। মানুষের কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য দ্রুততর হয়। না হলে সবই মিথ্যে। আয় মানুষকে ভালোবাসি। ঈদ-পূজা ধর্মভিত্তিক হলেও উৎসবটা সবার হিসেবে বিবেচনা করি।
কাকামশাই যাত্রা-নাটক করতেন। সে সূত্রে তিনি শেষে বললেন, রবীন্দ্রনাথ ‘মালিনী’ নাটকে সুপ্রিয়র সংলাপের মাধ্যমে ধর্মান্ধ ক্ষেমংকরকে বলেছিলেন-
ওগো বন্ধু, এ ভুবন
নহে কি বৃহৎ? নেই কি অসংখ্য জন,
বিচিত্র স্বভাব? কাহার কী প্রয়োজন
তুমি কি তা জান? গগনে অগণ্য তারা
নিশিদিন বিবাদ কি করিছে তাহারা
ক্ষেমংকর? তেমনি জ্বালায়ে নিজ জ্যোতি
কত ধর্ম জাগিতেছে তাহে কোন্ ক্ষতি!
অতএব আগে মানুষ হও, তারপরে ধর্মরক্ষার লড়াইটা কোরো। ঈদ-পূজো এলে আমাদের উত্তর-প্রজন্মই আনন্দ-গান করবে। একত্রিত হবে। পরস্পরের সঙ্গে মিলবে। তাদের জানবে-বুঝবে। এ ভাবেই সমাজ-সভ্যতাকে নতুন আঙ্গিকে তারা গড়বে। ভালোবাসবে। সবার ভেতরে সেই বোধের উৎস জাগরিত হবে। দেশ আর মানুষকে ভালোবাসবে। গড়বে সম্প্রীতি- সৌভ্রতৃত্বের পরিবেশ। স্বাধীনতাও হবে সবার কাছে গৌরবময় অর্জনের চেতনা সোপান। দূর হবে ভেদাভেদ, ভুল বোঝাবুঝি। তবেই তো আনন্দ। ঈদ সেই আনন্দের বার্তা বাহক।
ঈদ হোক সেই শপথের অন্যতম আয়োজনে পরিপূর্ণ।